advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চার্জশিটেই শুধু ‘পলাতক’ ইউপি চেয়ারম্যান আলী

১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০১:২৩
আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০১:২৩
advertisement

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার হাইজ্যাদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন ভূঁইয়া (৫০) ৭ কেজি ৩০০ গ্রাম স্বর্ণ চোরাচালান মামলার আসামি। বিমানবন্দর থানার ওই মামলার চার্জশিটে তাকে ‘পলাতক’ দেখানো হলেও বাস্তবে তিনি পলাতক নন; ৫ বছর ধরে প্রকাশ্যেই চলাফেরা করছেন। উপরন্তু জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার কর্মকা-ও চলছে।

মামলার নথি থেকে দেখা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০১৪ সালের ২২ আগস্ট মালেশিয়ার কুয়ালামপুর থেকে আসা বিজি-৮৭ ফ্লাইটের যাত্রী নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার বড় আলমদি গ্রামের বাসাদ মিয়ার ছেলে মোহাম্মাদ আল আমীনের (২৫) কাঁধে থাকা স্কুল ব্যাগ তল্লাশি করে ৫টি এক কেজিসহ মোট ৭ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনার বার শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃক জব্দ হয়। তার কাছ থেকে ২৬টি পাসপোর্টও উদ্ধার হয়। এ কা-ে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান বিশেষ ক্ষমতা আইনে স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে মামলা করেন।

মোহাম্মাদ আল আমিনকে গ্রেপ্তারের চারদিন পর অর্থাৎ একই বছরের ২৬ আগস্ট আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, তার সঙ্গে জামান, সোহেল, সেলিম ও রমজান নামে আরও ৪ জন ওই স্বর্ণের চোরাচালানে জড়িত ছিল। এর ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মচারী মো. ইয়াছিন মিয়া ওরফে সেলিমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে।

তিনি ১১ সেপ্টেম্বর আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দিতে তিনি প্রকাশ করেন, স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার আল আমিন ছাড়াও মো. জসিম উদ্দিন, মো. ইব্রাহিম, মো. নূর-ই আলম ওরফে আলম, মো. গোলাম রসুল, মো. ইলিয়াস, মো. মোজাম্মেল, আলী হোসেন চেয়ারম্যান, সাঈদ, শহিদুল ইসলাম বাবু, শংকর সরকার, শহীদ ও জাকির তার সঙ্গে এ কাণ্ডে যুক্ত।

মামলাটি তদন্তের পর ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ হিউম্যান ট্র্যাফিকিং অ্যান্ড স্মাগলিং টিমের পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান ২০১৬ সালের ২১ জুলাই ঢাকা সিএমএম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন, আল আমিন, জসিম উদ্দিন, নূর-ই আলম, শংকর সরকার, শহিদুল ইসলাম বাবু, ইয়াছিন ওরফে সেলিম ও ইব্রাহিম শেখকে অভিযুক্ত করেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন ও ইব্রাহিম শেখকে পলাতক এবং অপর আসামিরা গ্রেপ্তার বলে উল্লেখ করা হয়।

চার্জশিটের আসামিদের মধ্যে আল আমিন, ইয়াছিন ওরফে সেলিম ও শংকর সরকারের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছিল। সেখানে ১৬ আসামির নাম প্রকাশ পেলেও ৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করায় ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত ২০১৭ সালের ৯ মার্চ সিআইডির কাছে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য প্রেরণ করেন। ওই বছর ৩০ মার্চ থেকে সিআইডি মামলাটি অধিকতর তদন্ত করছে। ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দুই বছর ৮ মাস সময় অতিবাহিত হয়েছে। এ সময়কালে ইয়াছিন ওরফে সেলিমের স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করা শহীদ খন্দকার (৪৮) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।

তবে চার্জশিটে উল্লিখিত পলাতক আসামি মো. আলী হোসেনকে (৫০) এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ আসামি ছাড়াও চার্জশিটের পলাতক আরেক আসামি মুন্সীগঞ্জ সদরের কালিন্দীপাড়া শেখ বাড়ির বদরউদ্দিন শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখও গ্রেপ্তার হননি।
এ সম্পর্কে চেয়ারম্যান আলী হোসেন বলেন, ২০১১ সাল থেকে আমি হাইজ্যাদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। গত নির্বাচনের আগে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ওই মামলায় ঢুকিয়েছেন। যিনি স্বীকারোক্তিতে আমার নাম বলেছেন, তাকে আমি চিনিই না। মামলাটি এখন আবার তদন্ত হচ্ছে। শহীদ খন্দকার নামে আরেক আসামি গ্রেপ্তার হয়ে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে। সে কিন্তু আমার নাম বলেনি।

গ্রেপ্তার না হওয়া প্রসঙ্গে আলী হোসেন বলেন, আসলে সবাই জানে, আমার নাম ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দেওয়া হয়েছে। এখন যিনি তদন্ত করছেন, তার সঙ্গে টেলিফোনেও আমার কথা হয়েছে। তাকে বলেছি, আমি জড়িত না। ভালো করে তদন্ত করে দেখেন।
বর্তমানে মামলাটির অধিকতর তদন্ত করছেন ঢাকা মেট্রো উত্তর সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, আগের চার্জশিটে চেয়ারম্যান আলী হোসেনের নাম এলেও আমার তদন্তে তার জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তাই এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। চেয়ারম্যান টেলিফোনে কথা বলেছেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, না, তিনি কোনো কথা বলেননি। হয়তো দায় সারতে বলছেন যে, আমার সঙ্গে কথা বলেছেন।

চার্জশিটভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার সম্পর্কে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর হাসানুল হক সমাজী বলেন, যেভাবেই হোক, একবার কারও নাম আসামি হিসেবে চার্জশিটভুক্ত হলে অধিকতর তদন্তে তার নাম বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। অধিকতর তদন্তকারী কর্মকর্তার অবশ্যই উচিত তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা।

advertisement