advertisement
International Standard University
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইরানে পেট্রলের দাম বাড়ানোয় বিক্ষোভ, নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ১২:৪৬ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ১২:৪৬
রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ করে সাধারণ মানুষ। ছবি : বিবিসি
advertisement

ইরান সরকার হঠাৎ পেট্রলের দাম বৃদ্ধি এবং সবার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পেট্রল বরাদ্দ করায় দেশেটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এতে সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত দুজন মারা গেছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা সিরজান শহরে জ্বালানি মজুদ থাকা একটি গুদামে হামলা চালায়। এ সময় গুদামে আগুন জ্বালিয়ে দিতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন মারা যায়।

এই ঘটনা ছাড়াও বেহবাহান শহরে একজন মারা গেছেন। এ ছাড়া রাজধানী তেহরানসহ কেরমানশাহ, ইসফাহান, তাবরিজ, করদজ, শিরাজ, ইয়াজদ, বোশেহর ও সারি শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

অনেক শহরে ক্ষুব্ধ গাড়িচালকরা রাস্তার মাঝখানে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে বা গাড়ি রাস্তায় ফেলে রেখে প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেট্রল থেকে ভর্তুকি উঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শুক্রবার পেট্রলের দাম অন্তত শতকরা ৫০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা দরিদ্রদের জন্য অর্থ বরাদ্দ করার পরিকল্পনা থেকে পেট্রলের দাম বাড়িয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট হওয়া ভিডিও থেকে দেখা যায়, রাজধানী তেহরানের গাড়িচালকরা ইমাম আলী হাইওয়েতে গাড়ি থামিয়ে পুলিশকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

প্রকাশিত কিছু ছবিতে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শিরাজের কয়েকটি পুলিশ স্টেশনে আগুন জ্বলছে।

এ নিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কৌঁসুলি মোহাম্মদ জাফর মোন্তাজেরি  ‘কিছু উচ্ছৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী’কে দায়ী হিসেবে উল্লেখ করেন। বিক্ষোভকারীরা 'দেশের বাইরে'র শক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও জানান তিনি।

কীভাবে কার্যকর হবে এই নতুন নীতিমালা?

নতুন আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক মোটরযান মালিক প্রতি লিটার ১৫ হাজার রিয়াল দামে মাসে ৬০ লিটার পেট্রল কিনতে পারবেন। তবে এই নির্ধারিত পরিমাণের পর প্রতি লিটার পেট্রলের দাম পড়বে ৩০ হাজার রিয়াল।

এর আগে একজন ব্যক্তি প্রতি লিটার ১০ হাজার রিয়াল দামে ২৫০ লিটার পর্যন্ত পেট্রল কিনতে পারতো।

পেট্রলে ভর্তুকি বাদ দিয়ে যে পরিমাণ নগদ অর্থ আয় করবে সরকার, তা দিয়ে নিম্ন আয়ের দরিদ্র পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি শনিবার বলেছেন, ৭৫ শতাংশ ইরানি বর্তমানে ‘চাপের মুখে’ জীবনধারণ করছেন এবং পেট্রলের দাম বাড়ানোয় সরকার যে অতিরিক্ত আয় করবে, তা ইরানের কোষাগারে না গিয়ে জনগণের কাছে পৌঁছাবে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কীভাবে ইরানকে প্রভাবিত করেছে?

জ্বালানিতে উচ্চমাত্রায় ভর্তুকি দেওয়া এবং মুদ্রার মান হ্রাস পাওয়ার কারণে ইরানে জ্বালানি তেলের দাম খুবই কম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরান। প্রতিবছর কয়েক বিলিয়ন ডলারে তেল রপ্তানি করে তারা।

কিন্তু তাদের শোধনাগার সুবিধা কম এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তেলের কারখানার যন্ত্রাংশ আমদানি করাও তাদের জন্য কঠিন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ছয়টি দেশের পরমাণু চুক্তি বাতিল করার পর আবারও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে আসার পর থেকে ইরান পরমাণু চুক্তির শর্তের বাইরে গিয়ে ধীরে ধীরে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করছে। তবে পারমাণবিক কার্যক্রম বাড়ালেও নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ইচ্ছা নেই বলে সবসময়ই দাবি করে আসছে তারা।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দা দেখা দেয়, যার ফলস্বরুপ ইরানের মুদ্রার রেকর্ড পরিমাণ দরপতন হয়।

এ ছাড়া বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যায় চার গুণ, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ গুটিয়ে নেওয়া শুরু করেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিক্ষোভ দানা বাধতে আরম্ভ করে।

advertisement