advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এফআর টাওয়ার নির্মাণে জালিয়াতি : জমির মালিক ফারুকসহ তিনজন কারাগারে

আদালত প্রতিবেদক
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ১৪:১৮ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ১৪:১৮
পুরোনো ছবি
advertisement

বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জালিয়াতির মামলায় ভবনটির জমির মালিক প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুক ও দুই রাজউক কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

রাজউকের দুই কর্মকর্তা হলেন,  রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ইমারত পরিদর্শক আওরঙ্গজেব সিদ্দিকী নান ও সাবেক উপ-পরিচালক (স্টেট) মুহাম্মদ সওগত আলী।

আজ রোববার এ আসামিরা ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আত্মসমর্পণ করলে বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে আদেশ দেন।

এর আগে মামলাটিতে একই আদালত গত ২০ আগস্ট ফারুকের এবং পরবর্তীতে অপর দুই আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদক হাইকোর্টে আবেদন করলে গত ৫ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ তাদের জামিন বাতিল করে এক সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল বিভাগে গেলেও আপিল বিভাগের চেম্বর বিচারপতি তা বহাল রেখে গত ১১ নভেম্বর ১ সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে আদেশ দেন। ওই আদেশ অনুযায়ী রোববার আসামিরা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের পাশের ১৭ নম্বর সড়কে ফারুক রূপায়ন (এফআর) টাওয়ারে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ঘটনাস্থলে ২৫ জন ও হাসপাতালে একজন নিহত হন। ওই ঘটনায় আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৭৩ জন।  এ ছাড়া, ওই ঘটনায় আহত হয়ে ফ্যায়ারম্যান সোহেল রানাও মারা যান।

ওই ঘটনায় দুদকের করা মামলায় অভিযোগ, ভবনের জমির মালিক প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুক, টাওয়ারের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভিরুল ইসলাম এবং রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান ওরফে মুকুল এফ আর টাওয়ার বিল্ডিং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ অসৎ উদ্দেশ্যে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার লোভে নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে টাওয়ারে ভবিষ্যতে থাকা সম্পত্তি ও লোকজনের জানমালের নিরাপত্তার বিষয় লক্ষ্য না রেখে কেবলমাত্র নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার মানসিকতায় চরম অবহেলা ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ কার্যকলাপের ফলে এফ আর টাওয়ারে এই মর্মান্তিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ অগ্নিকাণ্ডে ২৬ জন নিরীহ পুরুষ ও মহিলা এবং শতাধিক লোক আহত মারাত্মভাবে আহত হন। এছাড়াও এফ আর টাওয়ারের বিল্ডিংসহ পার্শ্ববর্তী বিল্ডিং সংলগ্ন তথা রাষ্ট্রের সম্পত্তি মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতিসহ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

১৯৯৬ সালের এফ আর টাওয়ারের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত নকশা ভবনের উচ্চতা ১৮ তলা, যদিও নির্মাণ করা হয়েছে ২৩ তলা। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে এফ আর টাওয়ারের মালিকপক্ষ রাজউকের কাছে আরেকটি নকশা জমা দেয়। ১৯৯৬ সালে মূল যে নকশা রাজউক অনুমোদন দিয়েছিল তার সঙ্গে নির্মিত ভবনটির অনেক বিচ্যুতি রয়েছে।

advertisement