advertisement
International Standard University
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাবার বুকে আর ঘুমানো হবে না মিফতাহর

মো. মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম
১৮ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০১৯ ০১:৪৩
advertisement

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ। উত্তর পাশের পুলিশ ফাঁড়ির ডরমেটরির সামনে রঙমিস্ত্রি নুরুল ইসলামের স্ত্রী সাদিয়া সুলতানার আর্তনাদ। মর্গের ট্রলিতে পড়ে আছে স্বামীর নিথর দেহ। দুপাশে উপস্থিত স্বজনদের নীরব অশ্রুপাত। নানা সাইফুল ইসলামের কোলে খেলায় মগ্ন ১১ মাসের শিশু মিফতাহুল জান্নাত কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে পড়ে। বাবা হারানোর দুঃখ অনুভব করার বয়স তো আর তার হয়নি। বড় হয়েও আর প্রিয় বাবার চেহারা মনের মণিকোঠায় আঁকতে পারবে না হয়তো। কোনদিন আর ঘুমাতেও পারবে না তার বুকে। গতকাল রবিবার সকালে নগরীর পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডে বড়–য়া বিল্ডিংয়ের নিচতলায় বিস্ফোরণে যে সাতজন নিহত হয়েছে তাদের একজন নুরুল ইসলাম। তাদের বাড়ি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায়। স্ত্রী সাদিয়া সুলতানা (১৯) এবং শাশুড়ি মনোয়ারা বেগমকে নিয়ে চান্দগাঁও থানার ক্ষেতচর এলাকায় থাকতেন। নুরুল ইসলামের সহকর্মী মোহাম্মদ

সুমন আমাদের সময়কে বলেন, ‘কাজ শুরুর আগে ভবনের নিচে একটি টং দোকানে চা খেতে আসি চারজন। চা খেয়ে আমরা তিনজন চলে গেলেও পান খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল নুরুল। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বড়ুয়া বিল্ডিংয়ের দেওয়াল ধসে তাতে সে চাপা পড়ে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।’
শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালে বাসা থেকে বের হয়েছিল নুরুল ইসলাম। এক বছর ধরে কাজ করছিল পাথরঘাটা এলাকার একটি ১০ তলা ভবনে। সকাল ১০টার দিকে খবর পাই, সে খুব আহত হয়ে হাসপাতালে আছে; কিন্তু হাসপাতালে এসে দেখি নুরুল আর নেই।’
একই ঘটনায় লাশ হয়েছেন পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট এলাকার মেহেরআঁটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অ্যানি বড়–য়া। যাচ্ছিলেন পিইসি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে। স্বজনরা জানান, এক সহকারীর জন্য ব্রিকফিল্ড রোডের জনতা ফার্মেসির কাছে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। আর তখনই বিস্ফোরণে তার প্রাণ যায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ৩১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অ্যানির স্বামী পলাশ বড়ুয়া সরকারি শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক প্রকৌশলী। বাড়ি পটিয়ার উনাইনপুরা গ্রামে। তাদের দুই ছেলে অষ্টম ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। স্ত্রীকে হারিয়ে পাগলপ্রায় পলাশ বড়–য়া। বারবার কেবল বলছিলেনÑ ‘আমার দুই ছেলেকে আমি কী জবাব দেব? কীভাবে বোঝাব, তাদের মা আর নেই।’
পলাশের মতো স্বজনহারা এবং আহতদের স্বজনদের কান্নায় গতকাল সকাল থেকেই ভারী হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ। জরুরি বিভাগের আশপাশ, বিভিন্ন ওয়ার্ড, মর্গের সামনে শুধু আর্তনাদ আর আর্তনাদ।

advertisement