advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সড়কে বাধা আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০৯:৪৪
advertisement

নতুন সড়ক আইন কার্যকর করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছে সরকার। আইন বাস্তবায়ন শুরুর দিন গত রবিবার থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অঘোষিত কর্মবিরতি পালন করছেন চালকরা। এতে ওইসব এলাকায় বন্ধ রয়েছে বাস চলাচল। পণ্যবাহী ট্রাকও চলছে সীমিত। তবে এ ব্যাপারে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের স্পষ্ট জবাব, ‘কোনো চাপেই নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের পথ থেকে সরকার সরে আসবে না।’

গেল ১ নভেম্বর থেকেই নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়নের কথা ছিল। তবে প্রস্তুতি ও প্রচারের অভাবে দুদফায় সাত দিন করে ১৪ দিন সময় বাড়ায় সরকার। সে হিসাবে রবিবার থেকে সেটি কার্যকর হয়েছে। যদিও ট্রাফিক পুলিশ এখনো নতুন আইনে জরিমানা শুরু করেনি বলে কর্তব্যরত একাধিক সার্জেন্ট জানিয়েছেন। তারা আভাস দিয়েছেন, আগামী ২৪ নভেম্বর এ সংক্রান্ত টাস্কফোর্স বৈঠকের পর হয়তো মামলার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এর মধ্যে পরিবহনকর্মীদের বিদ্যমান জিম্মিপ্রবণতা কোন দিকে গড়ায়, তাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে জেল, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ধরা পড়লে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হচ্ছেÑ এসব গুজবে গত শনি ও রবিবার দেশের

বিভিন্ন স্থানে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন চালক-শ্রমিকরা। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১২ জেলায় বর্তমানে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর ও শেরপুরে গতকাল সোমবার এবং যশোরে রবিবার থেকেই অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট চলছে। এ বিষয়ে পূর্বঘোষণা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। তবে জরিমানা করা হবে নাÑ পুলিশের এমন আশ^াসে কিছু জায়গায় বাস চলাচল শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও গতকাল থেকে বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা অভিযান শুরু করায় রাজধানীতে গাড়ি চলাচল কমে যায়। বিকালের পর গাড়ির সংখ্যা বাড়ে; ততক্ষণে অবশ্য অভিযান শেষ।

বিধিমালা প্রণয়ন না করে আইন কার্যকর না করতে অনুরোধ করে আসছিলেন পরিবহন নেতারা। পাশাপাশি শাস্তি কমানোরও দাবি তদের। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায়, আইনের বিষয়ে ভীতি ঢুকিয়ে চালকদের গাড়ি বের না করতে এ নেতারাই ভূমিকা রাখছেন। যদিও ধর্মঘট বা কর্মবিরতি স্বীকার করছেন না ঢাকার কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পরিবহন নেতারা। কেবল বলে বেড়াচ্ছেনÑ চালকরা ভয়ে গাড়ি বের না করলে কী করার আছে। আবার চালকদের সঙ্গে বৈঠক করে তারা বলছেনÑ গাড়ি বের করলে কঠোর সাজা নতুন আইনে। এটি ঠেকাতে হলে ‘স্বেচ্ছায় কর্মবিরতির’ কৌশল অবলম্বন করতে হবে। বাস ও ট্রাক পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় সব সংগঠনই এখন কর্মবিরতি পালনের চেষ্টায় ব্যস্ত। একযোগে বন্ধ করার পরিবর্তে বিভিন্ন অঞ্চলে থেমে থেমে গাড়ি বন্ধ রেখে সরকারকে তারা বার্তা দিতে চাইছেনÑ এ আইন কার্যকর হলে সারাদেশে গাড়ি বন্ধ হয়ে যাবে। ভোগান্তিতে পড়বে সাধারণ মানুষ। বেড়ে যাবে পণ্যের দামও। এ বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘ধর্মঘটের কোনো নির্দেশনা বা ঘোষণা নেই। শাস্তির ভয়ে কেউ হয়তো গাড়ি বের না করে থাকতে পারে।’ প্রায় একই কথা বলেন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, ‘চালক-শ্রমিকরা কঠিন শাস্তির ভয়ে হয়তো সড়কে গাড়ি নামাতে চাইছেন না।’

অবশ্য পরিবহন নেতাদের জিম্মি করার ঘটনা নতুন নয়। ২০১০ সাল থেকে পরিবহন আইন সংশোধনের পর চার দফা কাটাছেঁড়া করতে হয় তাদের চাপেই। গত বছর আইনটি সংসদে পাস হলেও পরিবহন নেতাদের চাপে তা কার্যকর করা যায়নি এতদিন। আরও সময় বাড়ানোর আবেদন এসেছিল। কিন্তু তা সম্ভব নয় জানিয়ে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। এতদিন আগে আইনটি হয়েছে, বাস্তবায়ন না হলে জনস্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে।’

ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে সোয়া লাখ টাকা জরিমানা

গতকাল রাজধানীর আটটি স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিআরটিএ। এর মধ্য দিয়ে নতুন আইন কার্যকর শুরু হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। ঢাকার কাকলী, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, উত্তরা-দিয়াবাড়ী, মিরপুর, রায়েরবাগ, সায়েদাবাদ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮৮টি মামলাও করা হয়। জরিমানা করা হয় ১ লাখ ২১ হাজার ৯শ টাকা। দুটি গাড়ি ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযানের ভয়ে এসব স্থানে গাড়ি চলাচল সকাল ১০টার পর থেকে সীমিত হয়ে যায়। বিকালের পর অবশ্য গাড়ির সংখ্যা বাড়ে।

এদিকে গতকাল সকালে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তখনই দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস-ট্রাক বন্ধ রাখার খবর আসতে শুরু করে। এ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যত চাপই থাকুক, আইনটি বাস্তবায়ন করতেই হবে। এটি পার্লামেন্টের আইন, বাস্তবায়ন করতে হবে।’ সড়কের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলার স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের আইন মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো প্রকার ধর্মঘট-গাড়ি বন্ধ রাখা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আইন প্রয়োগের সময় অযথা যেন বাড়াবাড়ি না হয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

পরিবহন ধর্মঘট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি সেটা জানি, তাদের (শ্রমিক ও মালিক নেতা) সঙ্গে আমাদের সচিব আলোচনা করেছেন, আমিও কথা বলেছি, দেখেন না কি হয়। তাই বলে আইন প্রয়োগ না করে সরে যাব, এটি কি আপনারা চান? আপনারাও আমাকে সহযোগিতা করুন, তারা তো চাপ দেবেই। আইন প্রয়োগে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অযথা হয়রানি কিংবা বাড়াবাড়ি বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করেছি। সহনীয় মাত্রা মানে বাড়াবাড়ি যেন না করে এটাই বলছি।’

আইনটি বাস্তবায়নে বিধিমালা প্রণয়নের কাজ শেষপর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইনটি আগের তুলনায় কঠোর করা হয়েছে। তবে কঠোর করার উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়; সবার কল্যাণে সড়ককে নিরাপদ করা, দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনা। আইনটিতে একটি নতুন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে, তা হলো চালকদের জন্য পয়েন্ট সিস্টেম। উন্নত বিশ্বের মতো আইন অমান্য করলে চালকদের পয়েন্ট কর্তন করা হবে। পরিবহন মালিকদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অভিযুক্ত যিনিই হোন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।’

তবে পরিবহন মালিকদের শাস্তির আওতায় আনার বিপক্ষে পরিবহন মালিক নেতারা। অন্যদিকে নতুন আইনে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান মানতে নারাজ শ্রমিক নেতারা। আইনের ৭২ ধারায় রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার জরিমানার বিধান। মালিক-শ্রমিকরা অবশ্য এ রকম সাজা মানতে নারাজ।

advertisement