advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পরীক্ষা দিচ্ছেন না বশেমুরবিপ্রবির দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
১৯ নভেম্বর ২০১৯ ১৭:৫৮ | আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ১৭:৫৮
ইটিই বিভাগের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণ না করে বিভাগ পরিবর্তনের এক দফা দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

চলতি বছরের ২৭ নভেম্বর তাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আর ১৪ নভেম্বর ছিল ফরম পূরণের শেষ দিন। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীই ফরম পূরণ করেননি। ক্ষতির মুখে পড়বেন জেনেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনরত ইটিই বিভাগের ১৫৮ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে ইটিই বিভাগের চাকরির বাজারে বর্তমান অবস্থান এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইটিইর বিলুপ্তির বিষয়টি স্বীকার করে বিভাগ পরিবর্তন করে এই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তারা। কিন্তু টানা ২৪ দিন পার হয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

কেন ইটিই বিভাগের রূপান্তর চান- এসব যৌক্তিকতা তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা জানান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সিলেবাসের সঙ্গে ইটিই বিভাগের সিলেবাসে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ মিল রয়েছে। তা সত্ত্বেও চাকরিক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে ইটিই বিভাগের শিক্ষার্থীদের। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) নেওয়া বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় ইটিই বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র কোনো সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়নি। সেজন্য ইইই বিভাগের প্রণীত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

আবার ইটিইর বিষয়ভিত্তিক অধিকাংশ চাকরিতে ইটিই গ্রাজুয়েটদের পরিবর্তে ইইই গ্রাজুয়েটদের থেকে আবেদন আহ্বান করে। বিষয়ভিত্তিক বিকল্প হিসেবে ইইই বিভাগকে গুরুত্ব দেওয়া হয় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইটিই বিভাগের গুরুত্ব পাওয়ার কথা। এ ছাড়া বিসিএস পরীক্ষায় ইটিই বিভাগের নির্দিষ্ট কোনো বিষয় কোড নেই। যার ফলে টেকনিক্যাল ক্যাডার পদে ইটিই গ্রাজুয়েটদের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ থাকছে না। বাধ্য হয়েই কেবল তাদের সাধারণ ক্যাডারে অংশ নিতে হয়। এখানেও তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে জানান।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ইইই এর সিলেবাসের সঙ্গে ইটিই এর সিলেবাসের সংগতি ও সরকারি-বেসরকারি সব চাকরিতে ইটিই গ্রাজুয়েটদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (এপিইসিই) বিভাগকে ইইই বিভাগে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইটিই ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসিই বিভাগকে ইইই-তে রূপান্তরিত করা হয়। অথচ বশেমুরবিপ্রবিতে ২০১৭ সালে এপিইসিই বিভাগকে ইটিই বিভাগে রূপান্তরিত করা হলেও পাঠ্যসূচিতে এপিইসিই এর সিলেবাস অনেকটাই অনুরূপ রয়েছে।

তারা আরও জানান, বিসিএস থেকে টেলিকমিউনিকেশন ক্যাডারটি সরিয়ে নেওয়া হয় ২০১০ সালে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাদের এপিইসিই বিভাগ কে ইইই বিভাগে রূপান্তরিত করেছে। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এপিইসিই কে ইইই না করে ইটিই বিভাগে রূপান্তরিত করা হয়। যা ছিল তৎকালীন প্রশাসনের একটি অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইটিই বিভাগ বিলুপ্ত প্রায়। ফলে চাকরি ক্ষেত্রে বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে ইটিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইটিই বিভাগের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শাহজাহান বলেন, ‘ইটিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছে। আমি তাদেরকে ক্লাসে ফেরাতে চেষ্টা করেছি। সারা দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ইটিই বিভাগ চলমান রয়েছে। ওই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি পাস করে চাকরি পায় তাহলে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবে না কেন।’

প্রসঙ্গত, গত ২৭ অক্টোবর থেকে অ্যাকাডেমিক ভবনের শ্রেণিকক্ষের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন ইটিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তারা ইইই বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হতে এক দফা দাবি নিয়ে প্রায় এক মাস ধরে এ আন্দোলন করে আসছেন।

advertisement