advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হাট থেকে ফেরত গেল বেশির ভাগ পেঁয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ নভেম্বর ২০১৯ ২১:৩২ | আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০১৯ ১১:৫৩
advertisement

বেশ কয়েকদিন ধরেই পেঁয়াজ নিয়ে দেশের বাজারে চলছে লঙ্কাকাণ্ড। পরিস্থিতি এতটাই ঘোলাটে হয়ে যায় যে, শেষ পর্যন্ত কার্গো বিমানে পেঁয়াজ আমদানির ঘোষণা দেয় সরকার। সে পেঁয়াজের প্রথম চালানও আগামীকাল বুধবার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এরই মধ্যে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করায় ও বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির খবরে কৃষক ও মজুতদারেরা আজ মঙ্গলবার ঘরে রাখা প্রায় সব পেঁয়াজ হাটে তুলেছিলেন। সকালের দিকে যেখানে বিক্রেতারা প্রতি কেজি পুরোনো পেঁয়াজের দাম হেঁকেছিলেন ১৫০ থেকে ১৭৫ টাকা সেখানে দুপুর ১২টার দিকে দাম নেমে আসে ১০০ থেকে ১৩০ টাকায়। আর আগাম জাতের নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। কিন্তু এই দামেও হাটে পেঁয়াজ নিয়ে আসা বেশির ভাগ কৃষক ও ব্যবসায়ী বিক্রি করতে পারেননি। তাই হাটে ওঠা বেশির ভাগ পেঁয়াজ ফেরত গেছে।

পেঁয়াজের ভান্ডার বলে খ্যাত পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার করমজা হাটে আজ মঙ্গলবার এ দৃশ্য চোখে পড়ে। মাত্র তিন দিন আগে গত শনিবার এই হাটে পুরোনো দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৭৫ থেকে ২২৫ টাকায় আর আগাম জাতের নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে।

হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা সাঁথিয়ার শহীদনগর গ্রামের পেঁয়াজচাষি আবদুল হামিদ বলেন, ‘ঘরে শেষ পর্যন্ত আড়াই মণের মতো পেঁয়াজ ছিল। সেই পেঁয়াজ আইজ হাটে আনছি। গত হাটেও ২০০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বেইচ্যা গেছি। আর আইজ কেউ দামই কয়না।’

হাটে পেঁয়াজ কিনতে এসেছিলেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের ইকবাল হোসেন ও আমিনুল ইসলাম। এই হাট থেকে পাইকারি দরে পেঁয়াজ কিনে ভূঞাপুরের বাজারে খুচরো দামে বিক্রি করে থাকেন তারা। তারা জানান, গতকাল দুজনে মিলে ৫০০ কেজির মতো পেঁয়াজ কিনেছেন। অথচ অন্য সময়ে এই হাট থেকে তারা আড়াই থেকে তিন হাজার কেজি পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যান। তাদের ভাষ্য, মানুষ পেঁয়াজ খাওয়া একেবারেই কমিয়ে দিয়েছে। তাই এখান থেকে পেঁয়াজ কেনার পর টাঙ্গাইলে নিয়ে তারা বিক্রি করতে পারছেন না। গত কয়েক দিনে তাদের ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে বলে তাঁরা জানান।

হাটের পেঁয়াজের আড়তদার মুন্নাফ প্রামাণিক বলেন, ‘আজকের হাটে পেঁয়াজের আমদানি হঠাৎ করেই ব্যাপক বেড়েছে। কিন্তু হাটে ব্যাপারীদের উপস্থিতি কম থাকায় পেঁয়াজের বেচাকেনা তেমন হয়নি। অন্য সময় প্রতি হাটবারে ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক পেঁয়াজ এখান থেকে ঢাকা বা চট্টগ্রামে যায়। কিন্তু আজ মাত্র চার ট্রাক (প্রতি ট্রাকে ১৫ মণ) পেঁয়াজ এই হাট থেকে গেছে।’

সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার গোস্বামী বলেন, ‘হাটে নতুন পেঁয়াজ অল্প অল্প উঠছে। তবে আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে প্রচুর নতুন পেঁয়াজ হাটে উঠবে বলে আশা করছি।’

advertisement