advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা

২০ নভেম্বর ২০১৯ ০১:৪০
আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০১৯ ১২:৪২
ফাইল ছবি
advertisement

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে; ভোট অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে এ দুই সিটিতে যুক্ত হয় ৩৬টি ওয়ার্ড। এসব ওয়ার্ডের নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে শুরুতেই দেখা দেয় আইনি জটিলতা, যা শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়। এসব জটিলতার মধ্যেই অবশ্য চলতি বছর অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন। বাদীপক্ষ উপস্থিত না হওয়ায় উচ্চ আদালত রিট খারিজ করে দিলে উত্তর সিটিতে মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং নতুন ওয়ার্ডগুলোতে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এসব ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের মেয়াদকাল
নির্ধারণ নিয়ে সৃষ্ট আইনি জটিলতার সমাধান হয়নি এ পর্যন্ত। ফলে আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে; ফের আদালতে গড়াতে পারে ভোট।
২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা উত্তর সিটিতে ২০১৫ সালের ১৪ মে, দক্ষিণ সিটিতে ওই বছরের ১৭ মে এবং চট্টগ্রাম সিটিতে ৬ আগস্ট প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই হিসাবে ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৩ মে, দক্ষিণ সিটিতে ১৬ মে ও চট্টগ্রামে ৫ আগস্ট মেয়াদ শেষ হবে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ঢাকার দুই সিটির ভোটগ্রহণ নিয়ে গত ৩ নভেম্বর ইসির কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর জানান, আগামী ১৫ নভেম্বর ঢাকা উত্তর ও ১৮ নভেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপযোগী হবে। এরপর যে কোনো সময় তফসিল হবে। জানুয়ারি মাসের একই দিনে দুই সিটির ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ডিসেম্বরে জেএসসি, পিইসি ও বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক পরীক্ষা এবং ফেব্রুয়ারি ও পরে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা রয়েছে। এ বিষয় বিবেচনা করে মধ্য জানুয়ারির পর ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে ওইদিন জানান ইসি সচিব।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত ১৬টি ইউনিয়নকে ৩৬টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এর ফলে ঢাকা উত্তরে ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত হয়ে মোট ওয়ার্ড হয়েছে ৫৪টি। আর দক্ষিণে ১৮টি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হয়ে মোট ওয়ার্ড হয়েছে ৭৫টি। এর পরে মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে ডিএনসিসির মেয়র পদটি শূন্য হয়। ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি ডিএনসিসিতে উপনির্বাচন এবং দুই সিটিতে নতুন যুক্ত ৩৬ ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচনের তফসিল দেয় ইসি। তফসিল ঘোষণার পরই এ নিয়ে উচ্চ আদালতে পৃথক দুটি রিট হয়। রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সে সময় রিট আবেদনকারী আতাউর রহমানের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেছিলেন, নতুন করে ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত হয়ে উত্তর সিটি করপোরেশন সম্প্রসারিত হয়। যার মধ্য দিয়ে ওয়ার্ড সংখ্যা ৩৬ থেকে ৫৪-তে দাঁড়ায়। আইন অনুসারে মেয়রের পদসহ করপোরেশনের শতকরা ৭৫ ভাগ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের নির্বাচন হলে ও নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নাম গেজেটে প্রকাশিত হতে হবে। কিন্তু সম্প্রসারিত ওয়ার্ডে নির্বাচন না হওয়ায় ৭৫ শতাংশ পূর্ণ হচ্ছে না। অন্যদিকে ১৮টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের মেয়াদ কতদিন হবে, তা উল্লেখ নেই। এখানে আংশিক মেয়াদে নির্বাচনের সুযোগ নেই। কারণ শুধু আকস্মিক শূন্যতায় আংশিক মেয়াদে নির্বাচন হতে পারে। অথচ এসব ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে আকস্মিক শূন্যতা হয়নি। তাই এই মুহূর্তে এসব ওয়ার্ডে বর্তমান আইনে নির্বাচনের সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন হলে ডিএনসিসি ও মেয়র পদ সঠিকভাবে গঠিত হবে না। এ ছাড়া আবেদনকারী ২০১৫ সালে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, যার মেয়াদ ২০২১ সাল পর্যন্ত। ইউপি এলাকা সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়ার পর সে ক্ষেত্রে কী হবে, তাও স্পষ্ট নয়। এসব যুক্তিতে নির্বাচনের ওই তফসিল স্থগিত চেয়ে রিটটি করা হয়। আলাদা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি ডিএনসিসি নির্বাচনের তফসিলের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরবর্তী সময়ে আরও ছয় মাসের জন্য নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত করেন আদালত। পরবর্তীতে বাদী উপস্থিত না হওয়ায় গত ১৬ জানুয়ারি রিট খারিজ করে দেন আদলত। সে সময় ইসির পক্ষে থাকা আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম জানান, রিট আবেদনকারীর আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আদালত রুল খারিজ করে দিয়েছেন। রিট খারিজ হওয়ায় নির্বাচনে কোনো আইনগত বাধা নেই।
পরে গত ২২ জানুয়ারি তফসিল ঘোষণা করে ইসি। সেদিন তৎকালীন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, হাইকোর্টের আদেশ পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনগুলো আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। যে কারণে এখন আর নির্বাচন করতে সমস্যা নেই। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন ও দুই সিটিতে যুক্ত ৩৬ ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণের জন্য ২৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়। পরবর্তীতের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, তফসিল ঘোষণা হলে ফের রিট হতে পারে। ৩৬টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের মধ্যে কেউ কেউ মেয়াদ পূর্ণ করার যুক্তিতে আদালতে যেতে পারেন।
রিটকারীর আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান রবিবার আমাদের সময়কে বলেন, যে জটিলতা নিয়ে রিট করা হয়েছিল, আমার মক্কেল না আসায় আদালত সেটি খারিজ করে দেন। তবে নবযুক্ত ওয়ার্ডের বিষয়ে আদালত তখন কোনো আদেশ দেননি। সেই ওয়ার্ডে নির্বাচন হয়েছে কিনা আমি জানি না। যদি নির্বাচন হয়ে থাকে, তার মেয়াদ কতদিন হবে তা নির্ধারণ করা না হয়, সেক্ষেত্রে একটি পয়েন্টে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ৬ ধারায় বলা হয়েছে : ‘কর্পোরেশনের মেয়াদÑ উহা গঠিত হইবার পর উহার প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হইবার তারিখ হইতে পাঁচ বৎসর হইবে।’

 

advertisement