advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আমদানি রপ্তানিতে মন্দা

আমাদের সময় ডেস্ক
২১ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০১৯ ০০:৪৫
advertisement

সড়ক পরিবহন আইনের বিরোধিতা করে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে সড়কে যে নৈরাজ্য শুরু হয়েছে তার প্রভাব দেশের প্রতিটি বন্দরের কার্যক্রমে পড়েছে। ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ থাকায় গতকাল সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি পরিবহন শ্রমিকদের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন প্রাইভেট কার চালকরাও। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ত্রিমুখী সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল শুরু না হলে একদিকে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন। অন্যদিকে আমদানি-রপ্তাানি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কাঁচামাল সংকটে পড়বে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। একই অবস্থা দেশের স্থলবন্দরগুলোয়ও। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।

চট্টগ্রাম : গতকাল জেটিতে পণ্য হ্যান্ডলিং কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও বন্দরের ভেতরে গাড়ি ঢুকেছে মাত্র ১০ থেকে ১৫টি। তবে পণ্য

নিয়ে কোনো গাড়ি বের হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পণ্য নিয়ে কোনো গাড়ি বের না হওয়ায় এরই মধ্যে বন্দরের ইয়ার্ডে কন্টেইনার জমতে শুরু করেছে। এ ছাড়া বন্দর থেকে পণ্য খালাস না হলে দেশের সাপ্লাই চেইনে প্রভাব পড়বে। এতে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, গতকাল সকাল ৯টার আগ পর্যন্ত হাতেগোনা কয়েকটি গাড়ি বন্দরের ভেতরে ঢুকলে একটিও বের হয়নি। ট্রাক-কাভার্ডভ্যানগুলো বের না হলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। বেসরকারি ডিপোতেও কন্টেইনার জট তৈরি হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, আলোচনার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব ধর্মঘট প্রত্যাহার করতে হবে। সময় মতো রপ্তানি পণ্য পাঠাতে না পারলে ব্যবসায়ীরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামাল না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। ফলে সাপ্লাই চেইনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

তবে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের বিষয়ে মালিকদের কিছুই করার নেই বলে দাবি করেছেন আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাফর চৌধুরী। তিনি বলেন, সড়ক আইনের বিষয়ে চালকরা ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা যদি গাড়ি না চালায় তো আমরা কী করব।

বেনাপোল : সব ধরনের যানবাহন চলাচল না করায় দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে আমদানি পণ্য খালাস ও পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে বাণিজ্যে অচালবস্থা নেমে আসার পাশাপাশি রাজস্ব আয়েও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। গত তিন দিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছেন বন্দর শ্রমিকেরা। এ ছাড়া গন্তব্যে যেতে না পেরে আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন ভারফেরত যাত্রীরা। বাস বন্ধ থাকায় তারা ট্রেনের খোঁজ নিচ্ছেন। তবে যাত্রীর চাপে ট্রেনেও সিট পাওয়া যাচ্ছে না। বেনাপোল সোহাগ পরিবহনের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বলেন, বাস চালকরা গাড়ি রেখে চলে গেছেন। ফলে দূরের যাত্রীরা কাউন্টার ও স্থানীয় বিভিন্ন হোটেলে অপেক্ষা করছেন।

ভারতফেরত যাত্রী আকরাম হোসেন বলেন, শ্রমিকদের অযৌক্তিক দাবি আদায়ে যাত্রীদের জিম্মি করে ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে। তবে তাদের ভোগান্তি হলেও নিরাপদ সড়ক আইন বাস্তবায়নে সরকারকে অটল থাকার আহ্বান জানান তিনি। ট্রাক শ্রমিক মো. রাকিব বলেন, সরকারের এ আইন তাদের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। ধারা পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তাদের ধর্মঘট চলবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : শ্রমিকদের ধর্মঘটে বাস-ট্রাক বন্ধ থাকায় সোনামসজিদ বন্দরে আটকা পড়েছে পণ্যভর্তি ৫০ থেকে ৬০টি ট্রাক। একই সঙ্গে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন ভারতফেরত যাত্রীরাও। স্থানীয় মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বলছেন, দুর্ঘটনার মামলায় জামিনযোগ্য ধারাসহ সড়ক আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধন করা না হলে এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

সাতক্ষীরা : ধর্মঘটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভোমরা স্থলবন্দরে। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান না চলায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা জানিয়েছেন, ট্রাক কাভার্ডভ্যান না পাওয়ায় তাদের দ্বিগুণ খরচে বিকল্প উপায়ে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। তবে আমদানি-রপ্তানিতে তেমন প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছেন শুল্ক স্টেশনের কর্মকর্তারা।

হিলি : একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে ধর্মঘটের প্রভাব পড়েনি হিলি স্থলবন্দরে। স্বাভাবিক রয়েছে বন্দরের সব কার্যক্রম। গতকালও বন্দরে ভারত থেকে আসা পণ্য লোড আনলোড হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

হিলি স্থলবন্দর ট্রাক ড্রাইভার ইউনিয়নের সভাপতি হামিদুর রহমান জানান, তারা কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় ট্রাক চলাচল স্বাভাবিক রেখেছেন। তাদের ট্রাক বন্দরে পণ্য লোড আনলোড শেষে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। এদিকে গতকাল হিলি-বগুড়া সড়কে বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও উপজেলা থেকে অন্যান্য রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

advertisement