advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিমানে নারী কেবিন ক্রু’রা কতটা নিরাপদ?

ডয়চে ভেলে
২১ নভেম্বর ২০১৯ ১৫:০৩ | আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০১৯ ২০:৩৬
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক পাইলটের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছেন দুই নারী কেবিন ক্রু। ইতিমধ্যেই অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই বিমানে ইনফ্লাইট নারী কেবিন ক্রুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে। এতে বলা হয়েছে, দুই নারী কেবিন ক্রু’র যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে বিমান প্রথম লিখিত অভিযোগ দাবি করেছে। কিন্তু চাকরি হারানোর ভয়ে অনেকেই অভিযোগ করেন না বলেই জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের মধ্যে একজন কেবিন ক্রু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘ওই পাইলট দীর্ঘদিন ধরেই যৌন নিপীড়ন করে আসছিলেন। সর্বশেষ ২৬ অক্টোবর ককপিটে ডেকে তাদের যৌন নিপীড়ন করা হয়। তাদের দুজনকে আলাদাভাবে ককপিটে ডেকে যৌন হয়রানি করেন ওই পাইলট।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘আমাকে ককপিটে ডেকে যৌন নিপীড়ন করেই তিনি ক্ষান্ত হননি, মোবাইলে নগ্ন ছবি দেখান এবং এরপর হোটেলে গিয়ে সময় কাটানোরও প্রস্তাব দেন। একই আচরণ করেন আমার সহকর্মীর সঙ্গে।’

ছয় বছর ধরে কাজ করছেন জানিয়ে ওই কেবিন ক্রু বলেন, ‘পুরোটা সময়ই তিনি আমিসহ আরও অনেকের সঙ্গে যৌন নিপীড়নমূলক আচরণ করেছেন। কিন্তু এবার আমাদের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়। তাই আমরা ইমেইলে দুবাই থেকে বিমানে লিখিত অভিযোগ জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা ছিল টানা ১২ দিনের জেড ক্যাটাগরির ফ্লাইট। পুরোটা সময়ই তিনি যৌন হয়রানি করেন। কিন্তু ২৬ অক্টোবর ঢাকা থেকে আবুধাবি যাওয়ার সময় তিনি ভয়াবহ আচরণ করেন আমাদের দুজনের সঙ্গে। আমরা দুজন লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও ঢাকা ফেরার আগ পর্যন্ত তার যৌন নিপীড়ন থেকে রেহাই পাইনি।’

জানতে চাইলে ডয়চে ভেলের কাছে অভিযুক্ত পাইলট দাবি করেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা আমাকে এখনো বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়নি বা আমার বক্তব্য শোনার জন্য আমাকে ডাকেওনি। তবে সংবাদ মাধ্যমে যে খবর আমি দেখেছি তা সত্য হয়ে থাকলে আমি বলব, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। আমার বয়স ৬০ বছর এবং আমার পেশাগত জীবন ৩০ বছরের। অতীতে কখনো এ ধরনের অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে ওঠেনি। আমি মনে করি, এটা আমার বিরুদ্ধে পেশাগত ষড়যন্ত্র। আর ককপিট একটা সংরক্ষিত জায়গা, সেখানে যৌন হয়ারানির প্রশ্নই ওঠে না।’

এ ব্যাপারে যৌন নিপীড়নের শিকার ওই নারী বলেন, ‘ইনফ্লাইট একজন পাইলটের অনেক ক্ষমতা। তিনি তখন সর্বেসর্বা। তাই যৌন হয়রানির শিকার হলেও চাকরি বাঁচাতে অনেকে অভিযোগ করেন না। আমরা শেষ পর্যন্ত সহ্য করতে না পেরে অভিযোগ করেছি। ওই পাইলটের বিরুদ্ধে আরও অনেকেরই অভিযোগ আছে। আমরা অভিযোগ করার পর তারা মুখ খুলতে শুরু করেছেন।’

এখন আরও অনেকে অভিযোগ দিচ্ছেন জানিয়ে ওই নারী বলেন, ‘আরও অনেক যৌন নিপীড়নের ঘটনা প্রকাশ পাবে। আমাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো দিক থেকে কোনো চাপ নেই। তবে ভবিষ্যতে কী হবে বলতে পারছি না।’

এদিকে, এরই মধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিমান। অভিযোগকারী দুই নারী কেবিন ক্রু’র বক্তব্য নিয়েছে তদন্ত কমিটি। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মোকাব্বির হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘আমরা অভিযোগকারীদের বক্তব্য নিয়েছি। সব পক্ষের বক্তব্য নেবো। অভিযোগ প্রমাণ হলে বিমান রুলে যা আছে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’

বিমানের এমডি দাবি করেন, ‘এই ধরনের অভিযোগ আমার সময় এটাই প্রথম। আর কোনো অভিযোগ এর আগে পাইনি।’

জানা গেছে, বিমানে কেবিন ক্রু’র সংখ্যা ছয়শ’র মতো। এর মধ্যে অর্ধেকই নারী।

advertisement