advertisement
International Standard University
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পম্পেই নগরীতে একদিন

ইসমাইল হোসেন স্বপন,ইতালি
২১ নভেম্বর ২০১৯ ১৮:৫৬ | আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০১৯ ২০:১৪
ইতালির পম্পেই নগরী
advertisement

ইতালির পম্পেই নগরীর কাহিনী অনেকেই হয়তো জানেন। হাজার বছরের পুরনো এই শহর ধ্বংস হয়েছিল আগ্নেয়গিরির মাধ্যমে। ৭৯ খ্রিস্টাব্দে ভিসুভিয়াস পর্বতের আগ্নেয়গিরির সর্বনাশা অগ্নুৎপাতে পম্পেই নগরী সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল।  ৬০ ফুট উঁচু ছাই এবং ঝামা পাথর এর নিচে শহরটি চাপা পড়ে যায় সেসময়। 

ইতিহাসের পুরোনো সেই ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে ছুটে গিয়েছিলাম একদিন।  পম্পেই নগরীতে যেতে হলে ইতালির রাজধানী রোমের নেপলস স্টেশনে।  সেখান থেকে খানিক পর পর পম্পেই উদ্দেশে ছেড়ে যায় ট্রেন।  ঘন্টাখানেকের মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায় ইতিহাসের ধ্বংসযজ্ঞ নগরীতে।

স্টেশন থেকে নেমে প্রাচীন পম্পেই-এর দিকে যাওয়ার জন্য প্রথমেই একটি নির্দেশনা চোখে পড়ে। এরপর মিনিট দুয়েক হাঁটলেই একাধিক পম্পেই নগরীর বিশাল স্তম্ভগুলি চোখে পড়ে।  সেখানে শত শত পর্যটকদের সঙ্গে প্রাচীরের ভেতরে ঢুকতেই যেন চলে যাই হাজার বছরের পেছনের ইতিহাসে। 

পম্পেই নগরীর রেল স্টেশনে নামতেই সারি সারি স্তম্ভ, পলেস্তার খসে পড়া দেয়াল, লম্বা পাথরের রাস্তা। যে রাস্তাটি চলে গেছে শহরের আরেক মাথা পর্যন্ত, এছাড়া সেখানে রয়েছে অসংখ্য দেবদেবীর মন্দির।

প্রথমেই ‘ফোরাম’ নামে ফাঁকা জায়গাটিতে গেলাম আমরা।  এখানেই নগরের সব বড় বড় আয়োজন হতো। ফোরামের চারদিকে বিভিন্ন অবকাঠামো।  অনেকগুলো স্মৃতিস্তম্ভও দেখা গেল ফোরাম স্কয়ারে।

শহরের দেবরাজ জুপিটারের মন্দিরের পরে অ্যাপোলোর মন্দিরে গেলাম। মন্দিরগুলো অনেকটা একই রকমের, সারিসারি স্তম্ভ, ধসে পড়া ছাদ, ফাঁকা সবুজ জমি যেন পম্পেই নগরীর ধ্বংসযজ্ঞের কথাই জানান দিচ্ছে।

পম্পেই নগরীর ‘হাউস অফ দ্য ফন’ নামের বিখ্যাত বাড়িটিতে ঢুকতেই উদ্যানের সঙ্গে লাগানো ছোট একটি ঝর্ণা।  তার সম্মুখে ফনের ভাস্কর্য দেখা গেল, বিশাল এই বাড়িটি যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি মোজাইকের মাধ্যমে সম্রাট আলেকজান্ডারের সঙ্গে পারস্যের সম্রাট দারিউসের যুদ্ধের বিভিন্ন চিত্র রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছিলেন। সেখানে মোজাইকে খোদাই করা বহু চিত্র মধ্যে একটি কুকুরের চিত্রও চোখে পড়ল।  এছাড়া প্রাসাদের ভিতরে গ্রিক পুরাণের নানা চিত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে।

পম্পেই নগরীতে বৃষ্টির জল যাতে জমে না যায় সেজন্য রাস্তার দুপাশ ঢালু করা হয়েছে।  সঙ্গে ফুটপাতগুলোও পরিচ্ছন্ন রাখা হয়েছে।তবে মজার ব্যাপার হলো পম্পেই নগরীতে সারাদিন ঘুরে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ল সেখানকার রেস্টুরেন্টের রান্না ঘরগুলো।  বেশ চমৎকার মোজাইকের কাজ করা সেগুলো, রান্নার পাত্র এবং খাবার পরিবেশনের জন্য রয়েছে সু ব্যবস্থা।  আসলে এমনটাই হওয়ার কথা ছিল।  কারণ পম্পেই নগরীর রহস্যই এ শহরে যেন পর্যটকদের টেনে নিয়ে আসে।

পাশে থাকা দোকানগুলোর সামনে ইতালির ভাষায় বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া আছে।  সেখানে কোথায় কী পাবেন, কোথায় যাবেন, কী খাবেন সেসব লেখা আছে।  পযটকদের যাতে হয়রানি কিংবা ভোগান্তি পোহাতে না হয় সেজন্য এসব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তবে আশ্চর্য বিষয় হলো, পম্পেই নগরীর চিত্রকর্মগুলো নেপলস পুরাতত্ত্ব জাদুঘরে রাখা আছে। হাজার বছর আগে সেখানকার অধিবাসী মানুষ, বিভিন্ন প্রাণী মৃতদেহসহ ঐতিহাসিক সব নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে ওই জাদুঘরে।

পম্পেই ইট-পাথরের নগরী হলেও সেখানে সবুজের ছোঁয়া রয়েছে বেশিরভাগ স্থানে।  বিশেষ করে উদ্যানগুলোতে প্রাচীন আবহ ফিরিয়ে আনা হয়েছে বৃক্ষরোপন করে।  এছাড়া বড় বাড়িগুলোর ভেতরে এক চিলতে বাগান তো আছেই। 

পম্পেই নগরীর জনসংখ্যা দশ হাজার হলেও ধারণা করা হয় ভিসুভিয়াসের অগ্ন্যুতপাতের সময় এখানে ২০ হাজারের মতো লোক জমায়েত হয়েছিল।  কারণ রোমানদের কাছে পম্পেই অবকাশকেন্দ্র হিসেবে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল সেসময়।  গড়ে উঠেছিল রোমান অ্যারেনা, গ্ল্যাডিয়েটরদের লড়াই থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ভাষণ সম্বলিত নানা অবকাঠামো।

advertisement