advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে প্রেমিকার গলায় ব্লেড চালায় যুবক!

ভৈরব প্রতিনিধি
২২ নভেম্বর ২০১৯ ২০:০০ | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০১:১৫
গ্রেপ্তার আমিরুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

প্রেমিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে চাইছিলেন আমিরুল ইসলাম (২৮)। কিন্তু কোনো সুযোগ না পাওয়ায় বন্ধুদের নিয়ে ছক বাঁধেন ধর্ষণের। পরিকল্পনা মোতাবেক তরুণীকে ডেকে আনেন এক নির্জন বাড়িতে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে ক্ষিপ্ত আমিরুল ব্লেড চালিয়ে দেন প্রেমিকার গলায়। গতকাল বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের গাছতলাঘাট এলাকায়।

আহতাবস্থায় ওই তরুণীকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আমিরুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি গাছতলাঘাট এলাকার আব্দুল হকের ছেলে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে কথা হলে আহত তরুণীর মা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আমিরুল তার মেয়েকে মোবাইলে ফোন করে জরুরি কথা আছে বলে গাছতলাঘাট এলাকা ডেকে নেয়। পরে সেখান থেকে তার মেয়েকে একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে দুই সহযোগী সবুজ ও শরীফকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

তার মেয়ে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে চাইলে আমিরুল তাকে পেছন থেকে জাপটে ধরে গলায় ব্লেড দিয়ে আঘাত করে। তার মেয়ে রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়লে আমিরুল ও তার বন্ধুরা সেখান থেকে পালায়। কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে ব্যথায় চিৎকার শুরু করেলে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কেএনএম জাহাঙ্গীর জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ মেয়েটিকে পুলিশ সদস্যরা হাসপাতাল নিয়ে আসেন। তখন তার গলায় কাটা দাগ ছিলো এবং সে কথা বলতে পারছিলো না। তাকে আমরা অজ্ঞান অবস্থায় ভর্তি করি। তখন তার গলায় ৪ ইঞ্চি লম্বা কাটা দাগ দেখতে পাই এবং সেখানে প্রায় ১০টি সেলাই করি। পরে সন্ধ্যায় তার জ্ঞান ফিরে আসে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই ওই তরুণীর মা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে আমিরুলসহ অন্য দুই সহযোগীর নাম উল্লেখ করে ভৈরব থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে আমিরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীন জানান, সন্ধ্যায় আহত মেয়েটির জ্ঞান ফিরে এলে জানায় তার প্রেমিক আমিরুল ও তার সহযোগী সবুজ ও  শরীফ তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এতে সে বাধা দিলে আমিরুল ধারালো ব্লেড দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যার চেষ্টা করে। এ অভিযোগে রাতে আহত মেয়েটির মা একটি অভিযোগ দায়ের করলে আমরা আমিরুলকে গ্রেপ্তার করি। এছাড়াও অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

advertisement