advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গোলাপি বলে ধূসর বাংলাদেশ

২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০২:০৯
advertisement


প্রথমবারের মতো গোলাপি বলে টেস্ট খেলতে নামে বাংলাদেশ। দিবারাত্রির এ টেস্টে ফ্লাড লাইটের আলো জ্বলে ওঠার আগেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। গোলাপি বলে মুমিনুল-মুশফিকদের পারফরমেন্স ছিল বেশ ধূসর। গতকাল ইডেন গার্ডেনসে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ভারতের তিন পেসারের গতিতে এলোমেলো টাইগারদের ইনিংস গুটিয়ে যায় ১০৬ রানেই। পরে ভারত ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম দিন শেষে তিন উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান করে। প্রথম দিনেই ৬৮ রানের লিড কোহলির দলের। মায়াংক আগারওয়ালের ব্যাটে চার দিয়ে ইনিংস শুরু করে ভারত। ফ্লাড লাইটের আলোয় যতক্ষণ ব্যাটিং করেছেন ভারতের ব্যাটসম্যানরা; মনেই হয়নি এই পিচে ব্যাটিং করা কঠিন। ৫৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন চেতেশ্বর পূজারা। ৫৯ রানে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও ২৩ রানে অপরাজিত আছেন আজিঙ্কা রাহানে। ঐতিহাসিক টেস্ট খেলতে নেমে ইন্দোরে সিরিজের প্রথম টেস্টের মতে
া টসভাগ্য কথা বলে মুমিনুলের হয়ে। টসভাগ্য সহায় হলেও দিনজুড়েই দুর্ভাগা ছিলেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। গতকাল বাংলাদেশ দলে ছিল দুই পরিবর্তন। তাইজুল ইসলামের পরিবর্তে আল আমিন হোসেন ও মেহেদী মিরাজের পরিবর্তে খেলেন নাঈম হাসান।
টাইগাররা লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগেই হারিয়ে বসে ৬ উইকেট। মাথায় আঘাত পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হন লিটন দাস। ১৫ থেকে ১৭ রানের মধ্যে আউট হয়ে ফিরে যান ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক ও মোহাম্মদ মিঠুন। দুই দুইবার জীবন পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ইমরুল। ইশান্ত শর্মার বলে প্রথমে রিভিউ নিয়ে বেঁচে গেলেও এক বল পরেই এলবিডব্লিউর শিকার হন এ বাঁহাতি ওপেনার। আবার আম্পায়ার আউট দিলে রিভিউ নেন, কিন্তু বল স্টাম্পে যাওয়ায় সাজঘরে ফেরেন মাত্র চার রান করেই। পরে উমেশ যাদবের বলে রানের খাতা খোলার আগেই একই ওভারে সাজঘরে ফেরেন টাইগার অধিনায়ক মুমিনুল হক ও মোহাম্মদ মিঠুন। তারপরও ভরসা ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং স্তম্ভ মুশফিকুর রহিম ছিলেন বলে। প্রথম টেস্টে একমাত্র তার ব্যাটই কথা বলে দুই ইনিংসেই। কিন্তু ইডেনে ব্যর্থ হন মুশফিকও। মোহাম্মদ শামির বলে বোল্ড হয়ে শূন্য রানেই ফেরেন সাজঘরে। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে চারজনের ব্যাট থেকে আসে মাত্র চার রান। মুশফিক-মুমিনুলরা দ্রুত ফিরে গেলেও লড়াই করেন সাদমান ইসলাম। তবে বেশিক্ষণ ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে পারেননি সাদমানও। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করে আউট হন সাদমান। আরেক ভরসার প্রতীক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও হাঁটেন মুমিনুলদের দেখানো পথে। তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৬ রান।
ক্রিজে এসেই দুর্দান্ত ব্যাটিং শুরু করেছিলেন লিটন দাস। ৫টি দৃষ্টিনন্দন চারের মারে মাত্র ২৭ বলে ২৪ রান করেন। কিন্তু ভাগ্যদেবী তার প্রতি সহায় ছিলেন না। তাই তো ইশান্তের বাউন্সার মাথায় লাগলে রিটায়ার্ড হার্ট হন। শেষ পর্যন্ত তার মাথায় স্ক্যান করতে হয়েছে। লিটনের পরিবর্তিত হয়ে মাঠে নেমে মিরাজ ব্যাটিং করলেও বোলিং করতে পারেননি। ইন্দোরে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজ দুর্দান্ত ব্যাটিং করলেও ইডেনে তা পারেননি। শেষ দিকে নাঈম হাসান লড়াই করেছিলেন ২৮ বলে ১৯ রান করে।
লিটনের মতো নাঈম হাসানও মাথায় আঘাত পান। মোহাম্মদ শামির বলে তিনি মাথায় আঘাত পেলে তাকে দেখতে আসেন ভারতীয় দলের ফিজিও। পরে নাঈমও হাসপাতালে যান। নাঈমের পরিবর্তে নামেন তাইজুল ইসলাম। লিটন-নাঈমের মাথায় স্ক্যান করা হয়। অবশ্য তাদের রিপোর্ট ভালোই আসে। বাংলাদেশকে একাই গুঁড়িয়ে দেন ভারতীয় পেসার ইশান্ত শর্মা। সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নেন এ ডানহাতি। এ ছাড়া উমেশ যাদব ৩টি ও মোহাম্মদ শামী নেন অপর দুই উইকেট।

advertisement