advertisement
International Standard University
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইউক্রেনের ৬ নাগরিক দায় স্বীকার করেননি

হাবিব রহমান
২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০০:২৪
advertisement

অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) বুথ থেকে একের পর এক জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে। আন্তর্জাতিক এই জালিয়াত চক্রে

ইউক্রেন, রোমানিয়া, জার্মানি, রাশিয়ার নাগরিক ছাড়া বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৬ সালে প্রথম ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনায় তোলপাড় হয় ব্যাংকিং খাতে। এর পর চলতি বছরের মে মাসে আরেক জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ইউক্রেনের ৬ নাগরিক এখনো নিজেদের অপরাধই স্বীকার করেননি।

এমন প্রেক্ষাপটে সর্বশেষ গত ১৭ ও ১৮ নভেম্বর কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে পূবালী ব্যাংকের তিনটি এটিএম বুথে ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে দুই অপরাধী।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিনটি ঘটনায় একই চক্র জড়িত। আন্তর্জাতিক এই চক্রটিতে ইউক্রেনসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকরা সম্পৃক্ত। তবে চক্রটির সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ফরিদ নাবির। ফরিদ নাবিরকে গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়েও পুলিশ পাচ্ছে না।

পুলিশ বলছে, সর্বশেষ পূবালী ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া দেশি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে পারলে এই নেটওয়ার্কের দেশীয় সিন্ডিকেটের আদ্যাপান্ত জানা সম্ভব হবে। কারণ এই চক্রের বিদেশি নাগরিকদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে চক্রের দেশীয় সদস্যদের ব্যাপারে এক প্রকার অন্ধকারে পুলিশ।

গত ৩১ মে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি বুথ থেকে ইউক্রেনের দুই নাগরিক তিন লাখ টাকা উত্তোলন করেন। তারা টাকা হাতিয়ে নিয়ে বুথ ত্যাগ করার সময় কিছু টাকা বুথে পড়ে যায়। পরদিন একই বুথ থেকে তারা টাকা হাতিয়ে নিতে ঢোকেন। মুখে মাস্ক দিয়ে ও মাথায় ক্যাপ পরে বুথে ঢুকে বেশি সময় নেওয়ায় সন্দেহ হয় নিরাপত্তারক্ষীর। তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে একজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেনে অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দেখা যায়, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বিভিন্ন বুথ থেকে ১৪ লাখ টাকা তুলে নেয় চক্রটি।

ইউক্রেনের ৬ নাগরিককে গ্রেপ্তার এবং এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ঘটনায় রাশিয়ার এক নাগরিকসহ আরও কয়েকজন জড়িত। বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এটিএম বুথের ভিডিওচিত্রসহ কয়েকটির আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ইন্টারপোলের তথ্য এবং ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছেন মামলার তদন্ত কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ জানায়, আন্তর্জাতিক এই চক্রটিতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা জড়িত থাকায় তাদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এ কারণে মামলার তদন্তকাজে বিলম্ব হয়ে থাকে। প্রাসঙ্গিক হওয়ায় সর্বশেষ পূবালী ব্যাংকের জালিয়াতির ঘটনারও তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ। তবে এ ঘটনার তদন্তে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মাহবুব আলম বলেন, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইউক্রেনের ৬ নাগরিক অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি না দিলেও তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তারসহ অন্যান্য পারিপার্শিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।

এর আগে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারি সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) এটিএম বুথ থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করে ডিজিটাল প্রতারক চক্রটি। তারা গুলশান, বনানী ও কালশীর চারটি বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে গ্রাহকদের এটিএম কার্ডের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং পরে সেই তথ্য দিয়ে ক্লোন কার্ড তৈরি করে টাকা তুলে নেয়। এ ছাড়া তারা পয়েন্ট অব সেলস (পজ) মেশিনের মাধ্যমেও টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনা প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয় ব্যাংকিং খাতে।

ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি চক্রটির অন্যতম হোতা ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া জার্মান নাগরিক পিওটর সিজোফেন মুজারেককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে একটি বেসরকারি ব্যাংকের কার্ড শাখার আরও তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া আদালতে দেওয়া পিটারের জবানবন্দিতে দেওয়া তথ্যে বেরিয়ে আসে ইউক্রেনের নাগরিক এন্ড্রি ও রোমানিয়ার নাগরিক রোমিওর নাম। এ ছাড়া গুলশান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তৎকালীন) ফিরোজ কবির চক্রটিকে সহায়তা দেওয়ার তথ্য উঠে আসে।

প্রথমে মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্তে করলেও এক পর্যায়ে তদন্তভার ন্যস্ত করা হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ওপর। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করে সিটিটিসি।

advertisement