advertisement
International Standard University
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পেঁয়াজচাষিরা এবার ভয়ে

মো. মাহফুজুর রহমান
২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০২:০৭
ফাইল ছবি
advertisement

পেঁয়াজের ভরা মৌসুমেও আমদানি অব্যাহত থাকলে চাষিরা লোকসানের মুখে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে পেঁয়াজ আমদানি না করার জন্য বলছে কৃষি মন্ত্রণালয়। পেঁয়াজচাষিদের সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে বাঁচাতে কৃষি মন্ত্রণালয় বিষয়টি বিবেচনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণায়লকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের পর বাংলাদেশের বাজারে এক ধাক্কায় দাম গিয়ে ঠেকে ৮০ টাকায়। এর পর হু-হু করে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। একপর্যায়ে প্রতি ঘণ্টায় বেড়েছে প্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দাম। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বর্তমানে আমদানির মাধ্যমে দেশে আসার পথে সোয়া লাখ টন পেঁয়াজ।

এদিকে দেশে এখন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যমতে আর দিন দশেকের মধ্যে পেঁয়াজে সয়লাব হবে দেশ। এ বছর ২৩ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হবে বলে আশা তাদের। এ অবস্থায় আমদানি অব্যাহত থাকলে মার খাবেন পেঁয়াজচাষি। এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আর যেন পেঁয়াজ আমদানি না করা হয় সে জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ নাসিরুজ্জামান বলেন, দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন যেন বৃদ্ধি পায় তা নিশ্চিত করতে চাষিদের প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদনে আগ্রহী হয় সে জন্যই এ প্রণোদনা।

পেঁয়াজ আমদানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণত দেশি পেঁয়াজ যখন বাজারে আসে তখন আমদানি করা পেঁয়াজও বাজারে থাকে। এ অবস্থায় দেশি পেঁয়াজের দাম কমে যায় এবং চাষিরা ন্যায্যমূল্য পান না। এ পরিস্থিতি যেন এবার না হয় সে জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পেঁয়াজের উৎপাদন মৌসুমে যেন আমদানি করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছি।

কৃষি বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব রেজা সিদ্দীক বলেন, বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণভাবে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ উৎপাদন করতে না পারলে যে কোনো সময় এমন সংকট আবার দেখা দিতে পারে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে ১৭ থেকে ১৯ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন করে, যা মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ। বাকি ৪০ শতাংশ অথবা ৭ থেকে ১১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। এ আমদানির ৯৫ শতাংশ আসে ভারত থেকে।

বাকি পেঁয়াজ আনা হয় মিয়ানমার, মিসর, তুরস্ক থেকে। তিনি বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে এমন ঘটনা ২০১৭ সালের শেষ দিকেও দেখা দিয়েছিল। ভারত তখন পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য ৪৩০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার করে। তার প্রভাবে বাংলাদেশে ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি ৭৫ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকা হয়েছিল। ৮-১০ লাখ টনের ঘাটতি মেটাতে গিয়েই সরকারকে বারবার এমন হিমশিম খেতে হচ্ছে।

advertisement