advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নির্বাচনোত্তর শ্রীলংকার সামনে যত চ্যালেঞ্জ

ড. এম সাখাওয়াত হোসেন
২৬ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০১৯ ০৩:৪২
advertisement

শ্রীলংকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ৫২.২৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ইতোমধ্যেই পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন ২০১৫ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা মাহিন্দ রাজাপাকশের অনুজ ভ্রাতা নান্দাসেনা গোতাবায়া রাজাপাকশে। তিনি পরাজিত করেছেন প্রয়াত প্রেসিডেন্ট প্রেমাদাসার ছেলে সাজিথ প্রেমাদাসাকে। তিনি ছিলেন ইউএনপি, বর্তমানে পার্লামেন্টে বৃহৎ দলের সমর্থক। তার সমর্থনে ছিলেন ইউএনপির প্রধানমন্ত্রী বিক্রম রনিল সিংগে।

শ্রীলংকা প্রেসিডেন্ট এবং পার্লামেন্টশাসিত দেশ। পার্লামেন্টের নেতাই সাধারণত প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এই দুই প্রতিষ্ঠান প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট তথা প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি রয়েছে। কাজেই প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী একই পার্টির না হলে নানা ধরনের সংকটের মধ্যে পড়তে হয়। এই প্রতিষ্ঠানই সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত। গত এপ্রিলের দিকে এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যের টানাপড়েন দৃশ্যমান হয় শ্রীলংকায় ওই মাসেই ব্যাপক জঙ্গি হামলার পর।

যাহোক এবারের নির্বাচন শ্রীলংকার অতীতের যে কোনো নির্বাচন থেকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে ইতোমধ্যেই দেশে ও বিদেশে স্বীকৃত হয়েছে। যে কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী সাজিথ প্রেমাদাসা, যিসি ৪১.১৯ শতাংশ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন, তাৎক্ষণিকভাবে নিজের পরাজয় স্বীকার করে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য প্রেসিডেন্ট স্রিসেনা এবং নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

অপরদিকে তিন সদস্যের নবগঠিত অধিকতর স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রেসিডেন্টের ও তার সরকারের এবং প্রধানমন্ত্রীকে নিরপেক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে গ্রহণযোগ্য ও স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে দেওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, শ্রীলংকার সংবিধানে ২০১১ সালে কিছু পরিবর্তন আনার পর নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। শ্রীলংকার সংবিধানের ধারা ১০৩ মোতাবেক তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন পাঁচ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট কর্তৃক নিয়োজিত হলেও একমাত্র পার্লামেন্টে অভিশংসন ছাড়া অথবা অন্যান্য আইনের ধারায় উল্লেখিত কারণ ছাড়া পদচ্যুত করা যায় না। কাজেই নির্বাচন কমিশনকে সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগে কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি এবং হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

শ্রীলংকার দুই জাতীয় প্রতিষ্ঠান, প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের নির্বাচন দুই পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সিঙ্গেল ট্রান্সফারেবল ভোটের (ঝঞঠ) মাধ্যমে দুই দফায় হয়ে থাকে। এ পদ্ধতিতে ভোটারদের পছন্দের ক্রমানুযায়ী তিনজন প্রার্থীকে দুইয়ের অধিক হলে ভোট দিতে হয়। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী যদি ৫০ শতাংশের ওপর ভোট পান তবে তিনিই নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অন্যথায় প্রথম দুজনের মধ্যে দ্বিতীয়বার ভোট গৃহীত হয় এবং সে ক্ষেত্রে যিনি সর্বোচ্চ ভোট পাবেন তাকেই নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। এ নির্বাচনে প্রথম দফাতেই ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে গোতাবায়া রাজাপাকশে নির্বাচিত হয়ে ইতোমধ্যেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথগ্রহণ করেছেন। কাজেই এবারের নির্বাচনে প্রথম দফাতে ভোটের ফলাফল নিশ্চিত হয়েছে।

অপরদিকে পার্লামেন্টের নির্বাচন আনুপাতিক হারে ইলেকশন ডিস্ট্রিক্টের জনসংখ্যার ভিত্তিতে পার্টি প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। এই দুই ধরনের নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে দুই ধরনের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা করতে হয়। বর্তমানে শ্রীলংকার ২,১৬,৭০,০০০ (২০১৮-এর অনুপাতে) জনসংখ্যার মধ্যে ১৬৭০৪০৩ ভোটার (২০১৮) নিবন্ধিত রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৪.৩২ শতাংশ।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ছোটখাটো সমস্যা হলেও তাতে নির্বাচনের ওপর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতামত প্রকাশিত হয়েছে। তবে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শ্রীলংকায় প্রথমবারের মতো সাম্প্রদায়িক প্রভাব যেমন পড়েছে, তেমনি নির্বাচনের প্রধান বিবেচ্য বিষয় ছিল অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা। এই বিভাজনের এবং নিরাপত্তার প্রেক্ষাপট ছিল এপ্রিল ১২, ২০১৯-এ কথিত ইসলামিক জঙ্গি হামলায় ২৬৯ জন সংখ্যালঘু খ্রিস্টান নাগরিকসহ বিদেশিদের হত্যাযজ্ঞ। এলটিটিইর বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং চূড়ান্ত বিজয়ের নায়ক হিসেবে পরিচিত গোতাবায়া রাজাপাক্ষকে সিংহলী জনগোষ্ঠী যাদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৫ শতাংশের সিংহভাগের সমর্থন পেয়েছেন বলে ধারণা করা হয় এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজন নির্বাচনের প্রচারণাকালে দৃশ্যমান ছিল। অপরদিকে সাজিথ শ্রীলংকার সর্বসাধারণের সমর্থন চেয়েছিলেন।

অবশ্য গোতাবায়া রাজাপাকশে তার নির্বাচনোত্তর ভাষণে বলেছেন, তিনি শ্রীলংকার সর্বসাধারণে প্রেসিডেন্ট, যারা তাকে ভোট দিয়েছেন বা যেসব ভোটার তাকে ভোট দেননি সবাইকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। অবশ্য তার এ কথা কতখানি কার্যকর হয় তা দেখার বিষয় হবে। শ্রীলংকার মতো দেশ যদি সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিভক্ত থাকে তা দেশটির জন্য সুখকর হবে না। শ্রীলংকা এখনো প্রায় ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধের ক্ষত নিয়ে বিভাজিত রয়েছে এবং অপরদিকে ভারত মহাসাগরে বিশ্ব ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পর্কের টানাপড়েনে রয়েছে।

শ্রীলংকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তার অনুজ ভ্রাতা মাহেন্দ রাজাপাকশের প্রশাসনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি হিসেবে উত্তরের তামিল বিদ্রোহীদের পরাজয়ের নায়ক। এই সাবেক সেনা কর্মকর্তার পরিচালনাতেই ২০০৯ সালে এলটিটিইর প্রধান ভেলু পিল্লাই প্রভাকরণের হত্যার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছিল। যুদ্ধে দারুণ মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত হয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহেন্দ রাজাপাকশে এবং তার অনুজ গোতাবায়া রাজাপাকশে। সে বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। দেখার বিষয় হবে যে, তিনি ভবিষ্যতে শ্রীলংকার উত্তর-পূর্বের তামিল অঞ্চলকে সুশাসন এবং উন্নয়নের আওতায় এনে নিজেকে কতখানি গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারবেন।

শ্রীলংকায় শুধু উত্তর-পূর্বের শ্রীলংকান তামিলই নয়, মধ্য শ্রীলংকায় জনসংখ্যার প্রায় ৪ শতাংশ ভারতীয় বংশোদ্ভূত তামিল জনগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের ব্রিটিশ শাসনের শেষের শতকে চা বাগানের জন্য শ্রমিক হিসেবে ব্রিটিশ ভারত থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল। এর মধ্যে বিগত শতকের ষাট দশকে প্রায় ২০ হাজার তামিলকে নাগরিকত্ব না দিয়ে শ্রীলংকা সরকার কর্তৃক ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় সবাইকে ভারত নাগরিকত্ব দিলেও এখনো প্রায় ১০ হাজার নাগরিকত্বহীন অবস্থায় ভারতে ফেরত যাওয়ার আশায় রয়েছে। অপরদিকে বাদবাকি কথিত ভারতীয় তামিলরা প্রায় রাষ্ট্রহীন অবস্থায় রয়েছে। গোতাবায়ার নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক ভারতীয় বিশ্লেষক আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এ বিষয়টি নিয়ে শ্রীলংকা-ভারতের মধ্যে টানাপড়েন পুনরায় মাথাচাড়া দিতে পারে।

শ্রীলংকার ২০১৫ সালের নির্বাচনে গোতাবায়ার বড় ভাই মাহেন্দ রাজাপাকশের সরকারের পতন হয়েছিল রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থা এবং চরম দুর্নীতির অভিযোগে। যদিও এলটিটিইর বিরুদ্ধে দারুণ বিজয়ের আবেশ ছিল সিংহভাগ শ্রীলংকানের মধ্যে। অথচ তাতেও রাজাপাকশের সরকারের পতন হয়েছিল। মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই পুনরায় এসএসএলপির পুনরুত্থানকে একটু হতবাক অবশ্যই করেছে। শুধু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টিই নয়, বিগত প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দারুণ টানাপড়েনের কারণে শ্রীলংকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ভেঙে পড়াও একটি বড় কারণ মনে করা হচ্ছে।

ভারত মহাসাগরের উত্তরের দ্বীপরাষ্ট্রটি স্বাধীনতার আগ থেকে অঞ্চল তথা বিশ্বের ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত ছিল এবং এখনো রয়েছে। বিশেষ করে শ্রীলংকার কয়েকটি ভারত মহাসাগরীয় বন্দর ত্রিঙ্কোমালে, কলম্বো এবং হালের সর্বদক্ষিণের বন্দর হাম্মানটোটার অবস্থানের কারণে এবং বিগত শীতল যুদ্ধের সময়ে রুশ-যুক্তরাষ্ট্রের টানাপড়েনের ঘূর্ণিতে পড়েছিল শ্রীলংকা।

ওই সময় বিশেষ করে ১৯৮০-এর দিকে ত্রিঙ্কোমালে, পূর্ব প্রদেশের শহর, বন্দর যুক্তরাষ্ট্রের জোট হওয়ার সম্ভাবনায় ভারত অত্যন্ত সন্দিহান হয়েছিল। শ্রীলংকার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় চুক্তি করে ফেলেছিল। এরই মধ্যে ১৯৮৩ সালে ক্রিঙ্কোমালেসহ উত্তর ও পূর্ব শ্রীলংকায় তামিল বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। ওই সময়কার আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, তামিলদের এ বিদ্রোহের সময়ের সঙ্গে ত্রিঙ্কোমালেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জন্য ব্যবহার করার সুযোগ করে দেওয়ার শ্রীলংকা সরকারের প্রায় সম্মতির সঙ্গে যোগ করে দেখেছিলেন।

ভারতের জন্য শ্রীলংকা সব সময়ই বিবিধ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বর্তমানে ভারতের ভূ-কৌশলগত অবস্থা এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থান শক্ত করার অভিপ্রায়েই শ্রীলংকার ভৌগোলিক অবস্থানে তার অনুকূলে রাখার সর্বতো চেষ্টা ছিল এবং থাকবে। ভারত সব সময়ই শ্রীলংকাকে নিজের রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলগত বলয়ে রাখার চেষ্টা করবে। বর্তমানে ভারত মহাসাগরে চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের যে সমীকরণ চলছে তাতে শ্রীলংকার দক্ষিণের নতুন বন্দর, যা চীনের তৈরি, অর্থনৈতিক কারণে ৯৯ বছর লিজ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দারুণ উদ্বিগ্ন।

অনেকেই মনে করেন, চীন শ্রীলংকাকে বিশাল ঋণের ফাঁদে ফেলেছে। শ্রীলংকার অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে বিগত সরকারকে চীন অতিরিক্ত ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিয়ে চীনের প্রাধান্য শক্ত করেছে। উল্লেখ্য যে, হাম্মানটোটা চীনের ‘রোড বেল্ট’ প্রকল্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান। চীনের ঋণে হাম্মানটোটা বিমানবন্দর এবং হাইওয়ে নির্মিত হচ্ছে যা স্রিসেনা সরকারের শেষদিকে সূচিত হয়েছিল।

চীনের সঙ্গে গোতাবায়া রাজাপাকশের কী ধরনের সম্পর্ক হয় তা নিয়ে অবশ্যই ভারত উদ্বিগ্ন থাকবে। তথ্যে প্রকাশ, গোতাবায়ার ফলাফল প্রকাশের পর পরই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর নরেন্দ্র মোদির অভিনন্দন বার্তার সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাজাপাকশে আমন্ত্রণ গ্রহণ করে নভেম্বরের ২৯ তারিখে ওই দেশ সফর করবেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। শ্রীলংকার নবনির্বাচতি প্রেসিডেন্টের এটাই হবে প্রথম বিদেশ যাত্রা।

যাহোক নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তার নির্বাচনকালে শ্রীলংকাকে যেভাবে সাম্প্রদায়িকভাবে বিভক্ত করেছেন, সেখানেই অভ্যন্তরীণ সংহতিই হবে তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সন্দেহাতীতভাবে এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো শ্রীলংকা সাম্প্রদায়িক অঙ্গনে বিভক্ত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধান আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। চ্যালেঞ্জ রয়েছে অর্থনৈতিক অঙ্গনেও। শ্রীলংকার মাথাপিছু আয় এবং প্রবৃদ্ধি দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় এবং আপার মধ্যম আয়ের দেশ। তথাপি বৈদেশিক ঋণ কম নয়। চীন এর মধ্যে অন্যতম।

শ্রীলংকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সামনে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি যেমন রয়েছে, তেমনি বৌদ্ধ উগ্রবাদের ক্রমবর্ধমান শক্তি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমন নয় যে, শতভাগ সিংহলী ভোটার রাজাপাকশেকে সমর্থন করেছে, সেখানেও বিভাজন রয়েছে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনে পার্লামেন্টে তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে পারে।

যাহোক বন্ধুপ্রতিম দেশ শ্রীলংকার নবনির্বাচতি প্রেসিডেন্টের জন্য শুভকামনা রইল। আমরা আশা করব দক্ষিণ এশিয়া তথা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ শ্রীলংকায় দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের মতো সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা না বাড়ে। অতি দক্ষিণপন্থিদের দ্বারা শ্রীলংকা যাতে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের মধ্যে না থাকে। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সে বিষয়ে দৃঢ় থাকতে হবে। অপরদিকে ভারত মহাসাগরে বৃহৎ শক্তিগুলোর টানাপড়েনে সৃষ্ট ঘূর্ণিবায়ু থেকে দূরে থাকবে। সন্দেহ নেই, এই অঞ্চলের ভূরাজনীতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, তাতে দক্ষিণপন্থিদের উত্থান সহায়ক হবে না।

ড. এম সাখাওয়াত হোসেন : সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং কলাম লেখক

advertisement
Evall
advertisement