advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আমরা ব্যর্থ হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষমা করবে না

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৯:২৫
advertisement

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট অভিবাসী সমস্যা সমাধানের জুৎসই কর্মকৌশল তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আলোচনার পথ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। স্পেনের রাজধানী ফেরিয়াদে মাদ্রিদে (আইএফইএমএ) ‘অ্যাকশন ফর সারভাইবাল : ভালনারেবল নেশনস কপ-২৫ লিডারস’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। খবর : বাসস, ইউএনবি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের অভিযোজন ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। কেননা এ স্থানান্তরও একটি কার্যকর অভিযোজন কৌশলের মধ্যে হতে পারে, যা আমাদেরই সমর্থন করতে হবে। সুতরাং বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে তাদের স্থানান্তর এবং সুরক্ষার বিষয়টি বিশ্বব্যাপী যথাযথ মনোযোগ দেওয়া উচিত। আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য একটি জুৎসই কর্মকৌশল তৈরির বিষয়ে আলোচনা শুরু করা দরকার।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মানব অভিবাসনের ওপর পড়তে পারে এ বিষয়টি সর্বজনস্বীকৃত। চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো ইতোমধ্যে সহিংস দ্বন্দ্বের চেয়েও বেশি মানুষকে স্থানচ্যুত করছে। ধীরস্থিরভাবে সমুদ্রস্তরের বৃদ্ধি এবং মরুকরণের মতো বিষয়গুলো বিশ্বব্যাপী অনেক কম নজর দেওয়া হচ্ছে। আমাদের অবশ্যই এ ভারসাম্যহীনতা সংশোধনের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত ফোরামের (সিভিএফ) নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, এখন আমাদের এমন পরিস্থিতি হয়েছে, সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকারের দাবিদার সবচেয়ে দুর্বল দেশগুলো তাদের প্রাপ্য সহযোগিতা পেতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সিভিএফ ও ভি-২০ ট্রাস্ট ফান্ড এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর নতুন বিশেষ দূত পাওয়া একটি ভালো সফলতা হতে পারে। সিভিএফ এবং ভি-২০ কে দক্ষিণ-দক্ষিণ এবং ত্রিমুখী সহযোগিতার একটি মহৎ উদাহরণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বর্তমান সাফল্যের আরও বিকাশ চাই। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছি, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হুমকির মুখোমুখি হতে চলেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যদি সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হই, তা হলে তারা ক্ষমা করবে না। প্রতি মুহূর্তে আমাদের নিষ্ক্রিয়তা পৃথিবীর প্রতিটি জীবিত মানুষকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এখনই সময় কাজ করার।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বের জন্য একটি কঠিন বাস্তবতা। এটি এখন মানুষের জীবন ও পরিবেশ, বাস্তুশাস্ত্র এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। ১৯৯২ সালে আর্থ সামিটের পর থেকে আমরা গ্রিনহাউস গ্যাস হ্রাসে খুব বেশি অগ্রগতি অর্জন করতে পারিনি, এর নির্গমন এখন বেড়ে চলেছে। এ প্রবণতা পৃথিবীকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।

জলবায়ু পরিবর্তন এখন প্রতিটি দেশের জন্য বিশেষত বাংলাদেশের মতো জলবায়ুপ্রবণ দুর্বল দেশগুলোর জন্য একটি অস্তিত্বের হুমকিতে পরিণত হয়েছে, বলেন শেখ হাসিনা। মিয়ানমার থেকে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হওয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রয়েছে।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, সমাজের এই ‘অসুস্থতা’ নির্মূল করা হবে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ২১ বছর ধরে দেশ শাসনকারীদের অপকর্মের কারণে অনেক ময়লা ও আবর্জনা জমে গেছে এবং মানুষের চরিত্রে ভাঙন ধরেছে। স্থানীয় সময় গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় হোটেল ভিলা মাগনায় তার সম্মানে স্পেনে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন। স্পেনে ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নিজেকে বাংলাদেশের জনগণের ‘সার্বক্ষণিক কর্মী’ হিসেবে অভিহিত করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি জনসাধারণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছি যাতে শহর ও গ্রাম উভয় এলাকার মানুষ আমাদের কাজের সুফল পেতে পারে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, এক শ্রেণির মানুষ ঘুষ-দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়ে, সন্ত্রাস করে, লোকজনের সম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করতে চায় এবং তারা বলতে চায় যে ‘মুই কি হনুরে’। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমরা চাই জনগণের মধ্যে এ ধরনের মানসিকতা থাকবে না এবং সমাজের এ অসুস্থতা নির্মূল করতে হবে। অসৎ পথে থেকে ‘বিরিয়ানি’ খাওয়ার চেয়ে সৎ পথে থেকে ‘নুন-ভাত’ খাওয়া অনেক ভালো। আমরা জাতির জনকের কাছ থেকে এ শিক্ষা পেয়েছি। আমাদের নতুন প্রজন্মকে এ শিক্ষা দিতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাম শুনলে অন্য দেশের মানুষ এখন সম্মান করে। কিন্তু তারা আগে জানত, বাংলাদেশ হচ্ছে বন্যা, খরা, দুর্ভিক্ষ ও দুর্নীতির দেশ। আমরা সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু এখন সে দুর্নাম ঘুচে গেছে। দেশের অদম্য অগ্রগতি অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন যাতে বাংলাদেশকে কখনো পেছনে ফিরে তাকাতে না হয়। আমরা পরিকল্পনা মাফিক কাজ করে যাচ্ছি, যাতে আগামী প্রজন্ম একটি সুন্দর জীবন লাভ করে।

advertisement