advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব জানালেন শিল্পমন্ত্রী

৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:৫০
আপডেট: ৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:৫০
advertisement

‘বাজারে সিন্ডিকেট বলে কিছু নেই’Ñ সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ একথা বলার একদিন পরই উল্টো সুর শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের কণ্ঠে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন বাজারকে অশান্ত করে তুলছে। দেশকে অচল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা করছে। বড় বড় দেশে এ প্রবণতাগুলো নেই; কিন্তু আমাদের দেশে এগুলো বিদ্যমান।
রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে গতকাল সোমবার আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনকালে শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অনেকগুলো ঘটনা ঘটে গেছে। অধিক মুনাফা করার জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা জনগণকে জিম্মি করে ব্যবসা করতে চায়। এটা আর হতে দেওয়া যাবে না।’ অথচ রবিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, ‘বাজারে সিন্ডিকেট বলে কিছু নেই। ব্যবসায়ীরা আমাদের বন্ধু মানুষ, তারা সহযোগিতা করছেন। ধরপাকড় করে লাভ নেই।’
চামড়াশিল্প খাতে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন
শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। একই সঙ্গে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি-বাণিজ্যে তৈরি পোশাকশিল্পের পরেই সবচেয়ে সম্ভবনাময় খাত চামড়াশিল্প। বর্তমান বিশ্বে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার রয়েছে। অথচ বাংলাদেশ এ খাতে মাত্র ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের চামড়াশিল্পে শতকরা ৬০ ভাগ মূল্য সংযোজন সম্ভব। কাঁচামালে নিজেরাই স্বয়ংসম্পূর্ণ; কিন্তু দেশি চামড়াজাত পণ্যের অনুকূলে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) ছাড়পত্র বা সার্টিফিকেশন না থাকায় আমাদের রপ্তানি আশানুরূপ হারে বাড়ছে না। তাই আমাদের সরকার ২০২১ সালের মধ্যে এ খাতে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।’
সাভারের চামড়াশিল্প নগরী সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সুবিধার্থে ইতোমধ্যে ‘ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড’ গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু এলডব্লিউজি সার্টিফিকেট অর্জন চামড়া খাতে রপ্তানি বৃদ্ধির একটি অন্যতম পূর্বশর্ত, সেহেতু সরকার চামড়াশিল্প খাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিচ্যুতিকে প্রশ্রয় দেব না।’
‘চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উন্নয়ন নীতিমালা ২০১৯ অবহিতকরণ’ বিষয়ক এ কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে শিল্প মন্ত্রণালয় ও ইআরএফ। এতে মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে ও ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, ইআরএফ সভাপতি সাইফুল ইসলাম দিলাল, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ প্রমুখ।

advertisement