advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য চার ধরনের স্কুল

ইউসুফ আরেফিন
৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ০১:৫৫
ফাইল ছবি
advertisement

সব ধরনের প্রতিবন্ধী শিশুকে মূলধারার বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রতিবন্ধিতাসম্পর্কিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালায় চার ধরনের প্রতিবন্ধী অর্থাৎ অটিজম, সেরিব্রাল পালসি, ডাউন সিনড্রোম ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য এনডিডি (নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল) স্কুল প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষা কার্যক্রমের ধরন নির্ধারণ করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জুয়েনা আজিজ স্বাক্ষরিত গেজেটটি গত অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হয়। ২০০৯ সালের প্রতিবন্ধিতাসম্পর্কিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালায় এ চার ধরনের প্রতিবন্ধীর স্কুল বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ছিল না।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিবন্ধীর আগ্রহ ও চাহিদার ভিত্তিতে নৃত্য, সংগীত, অঙ্কন, বাদ্যযন্ত্র, খেলাধুলা, প্রাক-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া নীতিমালায় সেলাই, সূচিকর্ম, ব্লক বাটিক, বই বাঁধাই, ঠোঙা বানানো, মোম বানানো, হাঁস-মুরগি পালন, বেকারি প্রশিক্ষণ, বাগান করা, গৃহস্থালি কাজ, হাটবাজার ইত্যাদি বিষয়েও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

যেমন হবে নতুন নীতিমালার ‘বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুল’ : এ স্কুলের শিক্ষার্থীদের বয়স হবে ৩ থেকে ১৮ বছর। ৩ থেকে ৫ বছরের শিক্ষার্থীদের জন্য মা ও শিশুর নিবিড় পরিচর্যামূলক শ্রেণি থাকবে। এ শ্রেণিতে শিশুর বিকাশমূলক কার্যক্রম, যত্ন ও পরিচর্যাবিষয়ক অভিভাবক প্রশিক্ষণ এবং বিদ্যালয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম থাকবে। স্কুলের ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা যেন দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজকর্ম নিজে নিজে করার দক্ষতা অর্জন করে সে বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হবে। এ ছাড়া মূলধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আওতায় প্রতিষ্ঠিত এনডিডি শিক্ষা কার্যক্রমের বা নিকটবর্তী

এনডিডি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মৃদু ও মাঝারি মাত্রার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, যারা বিশেষ ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনান্তে আনুষ্ঠানিক বা মূলধারার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য উপযোগী বিবেচিত হবে, তাদের মূলধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

অটিজম স্কুল : এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের বয়স হবে ৩ থেকে ১৮ বছর। তবে ক্ষেত্রবিশেষে শিক্ষার্থীর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য। অটিজম আক্রান্ত শিশুদেরও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের মতোই শিক্ষা দেওয়া হবে।

সেরিব্রাল পালসি স্কুল : দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজের দক্ষতা অর্জনের জন্য ২ থেকে ৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য নিবিড় পরিচর্যামূলক প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির ব্যবস্থা থাকতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক ফিজিওথেরাপি, স্পিচথেরাপি ও অকুপেশনাল থেরাপির ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়। শিক্ষার্থীদের স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রয়োজনের এনডিডি সুরক্ষা ট্রাস্টের সহায়তায় অভিভাবকদের জন্য বিশেষ দক্ষতা প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে হবে নীতিমালা অনুযায়ী।

ডাউন সিনড্রোম স্কুল : ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্নদের জন্য যে স্কুল প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে সেখানে ভর্তি হতে পারবে ৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা। তবে ক্ষেত্রবিশেষে শিক্ষার্থীর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বয়সসীমা শিথিল করার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শেণিকক্ষে আসবাবপত্রের সুষম বিন্যাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়, সেরিব্রাল পালসি, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের প্রতি ১০ জনের জন্য একজন শিক্ষক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। অটিজম-সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে প্রতি ৫ জনের জন্য একজন শিক্ষক নিয়োগ পাবেন। প্রতিবন্ধিতা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক : শিক্ষার্থীর অনুপাত ধরা হয়েছে ১:১৫। আর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এ অনুপাত হবে ১:১২। এ ছাড়া পেশাজীবী-শিক্ষার্থীর অনুপাত-প্রতিটি একক বিদ্যালয়ের জন্য অনুপাত হবে ১:২৫। অন্যদিকে এনডিডি ব্যতীত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের জন্য শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা সহায়ক (আয়া) প্রতি ১৫ শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন। এ ছাড়া অটিজম, সেরিব্রাল পালসি, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রতি ১০ জন ছাত্রছাত্রী পাবেন একজন আয়া।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, সব ধরনের প্রতিবন্ধী শিশুর জীবনদক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন নীতিমালায় নমনীয়ভাবে মূলধারার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রতিষ্ঠান ও প্রতিবন্ধিতা) মোহাম্মদ ইসমাইল আমাদের সময়কে বলেন, সরকার প্রতিবন্ধীদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। আমরা চাই সব ধরনের প্রতিবন্ধী শিশুই দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরিত হোক। এ জন্য অটিজম, সেরিব্রাল পালসি, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের জন্য মূলধারার বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযোগী করে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালাটি প্রতিবন্ধীদের জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে বলেও মনে করেন সরকারের এই অতিরিক্তি সচিব।

advertisement