advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অযৌক্তিক প্রকল্প গ্রহণের মাসুল দিচ্ছেন গ্রাহক

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ০১:৫৬
ফাইল ছবি
advertisement

বিদ্যুৎ খাতে কোনো প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে বাস্তবতার নিরিখে সে প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা নির্ধারণে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করার দাবি তোলা হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দর নির্ধারণবিষয়ক গণশুনানির তৃতীয় দিন ছিল গতকাল সোমবার। এদিন রাজধানীর টিসিবি মিলনায়তনের এ গণশুনানিতে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে এ দাবি তুলে ধরা হয়। এ সময় আরও বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ খাতে অযৌক্তিক প্রকল্প গ্রহণ করায় ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং এর মাশুল দিতে হয় ভোক্তাদের।

গতকাল ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) লিমিটেড এবং ঢাকা ইলেকট্র্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) লিমিটেডের গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ওপর শুনানি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। শুনানিতে বিতরণ ব্যয় ইউনিটপ্রতি এক টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করার ডেসকোর প্রস্তাবের বিপরীতে বিইআরসি গঠিত মূল্যায়ন কমিটি ৮১ পয়সা বৃদ্ধির এবং ডিপিডিসি প্রস্তাবিত বিতরণ ব্যয় এক টাকা ২৪ পয়সা বৃদ্ধির পরিবর্তে ৮৭ পয়সা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। এর সঙ্গে বিইআরসি পাইকারি বিদ্যুতের দাম যতটা বৃদ্ধি করবে তা ‘পাস থ্রু’ খাতে ধরে বিদ্যুতের খুচরা দাম বৃদ্ধি করবে কমিশন।

শুনানিতে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ডিপিডিসি গঠনের সময় এক হাজার ১৪৮ কোটি টাকার সম্পদ দেখানো হয়েছে। এখন সব মিলিয়ে ডিপিডিসির সম্পদ ১৪ হাজার কোটি টাকা। নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করার ফলে ডিপিডিসির সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। কিন্তু এসব প্রকল্প গ্রহণ কতটা যৌক্তিক, তা নির্ধারণ করাও জরুরি। এ জন্য কমিশনকে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করতে হবে। এ কমিটি বিবেচনা করবে, প্রকল্প গ্রহণ যৌক্তিক কি না। তিনি বলেন, ডিপিডিসিকে আমরা কেসস্টাডি হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। অনেক ক্ষেত্রেই প্রকল্প গ্রহণে এক ধরনের অদৃশ্য চাপ থাকে। এখানে ডিপিডিসিরও কিছু করার থাকে না। ফলে এসব প্রকল্প গ্রহণ আদৌ যৌক্তিক কি না, তা বিবেচনা করা জরুরি।

শুনানিতে ডেসকো ও ডিপিডিসি দুই কোম্পানিই জানিয়েছে, পাইকারি বিদ্যুতের দাম না বাড়লে তাদেরও দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না। দুই কোম্পানিই স্বীকার করেছে, বিতরণ পর্যায়ে এখন তাদের মুনাফা হচ্ছে।

কমিশন তাদের সুপারিশে বলছে, দীর্ঘদিন বকেয়া থাকা গ্রাহকের ক্ষেত্রে যে বিলম্ব মাশুল ধরা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে তা মূল বিলের চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। সঙ্গত কারণেই এ বিল আদায় করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে। কমিশনের কারিগরি কমিটি বলছে, এ ক্ষেত্রে বকেয়া বিলের ওপর পাঁচ শতাংশ সরল সুদ ধরে এসব বিল আদায় করা যেতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার কাছে বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিল পাওনা। গণশুনানিকালে ডিপিডিসি জানিয়েছে, ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে তাদের বিদ্যুৎ বিল পাওনা ১৫৮ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এ অর্থ আদায়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে জানুয়ারিতে তাদের সংযোগ কেটে দেওয়া হবে।

শুনানিতে কারিগরি কমিটি বলেছে, গ্রাহকের নিরাপত্তা জামানতের অর্থ কোম্পানিগুলো নিজের আয়ে অন্তর্ভুক্ত করছে যা আইনসঙ্গত নয়। এ অর্থ পৃথক অ্যাকাউন্টে রাখতে হবে। কোনো কারণে গ্রাহক লাইন ছেড়ে দিলে তার নিরাপত্তা জামানত সুদসহ ফেরত দিতে হবে।

এখন প্রিপেইড মিটার লাগানো হচ্ছে। এর আগে গ্রাহক ডিজিটাল মিটার ব্যবহারের সময় বিরতণ কোম্পানি যে নিরাপত্তা জামানত নিয়েছিল, তা-ও ফেরত দেওয়া উচিত। কিন্তু বিতরণ কোম্পানি বলছে গ্রাহক আবেদন করলে তাদের এ অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ গ্রাহক আবেদন না করায় তা বিতরণ কোম্পানির কাছেই থেকে যাচ্ছে। প্রিপেইড মিটারের ভাড়া নিয়েও গণশুনানিতে কথা উঠেছে। বিতরণ কোম্পানি বলছে, বিদ্যুৎ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তারা ৪০ টাকা করে প্রিপেইড মিটারের ভাড়া নিচ্ছে। একটি মিটারের আয়ুষ্কাল ১০ বছর ধরে এ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু হিসাব করে দেখা গেছে, এ অর্থ মিটারের মূল্যের দ্বিগুণ। আবার কোনো কারণে মিটার লক হয়ে গেলে তা খুলে দেওয়ার বিপরীতে চার্জ হিসেবে আদায় করা হচ্ছে ৬০০ টাকা।

কমিশনের কারিগরি কমিটি বলছে, বৈদ্যুতিক যানবহন চার্জের জন্য একটি পৃথক ধাপ নির্ধারণ করা যেতে পারে। অফ পিক আওয়ারে এসব লাইন থেকে বিদ্যুৎ নিতে পারবে বিতরণ কোম্পানিগুলো।

কমিশন চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলামের সভাপতিত্বে গণশুনানিতে কমিশনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান, ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) শাহিদ সারোয়ারের নেতৃত্বে ডেসকোর কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

advertisement