advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বুয়েটে র‌্যাগিং ও রাজনীতিতে জড়ালে বহিষ্কার

বিশ^বিদ্যালয় প্রতিবেদক
৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৩:৩৯
advertisement

সব দাবি পূরণ হওয়ায় ২৮ ডিসেম্বর থেকে বুয়েটে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী বুয়েট কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং ও রাজনীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধানসংবলিত নীতিমালা জারি করে। এর পর দুই মাস ধরে একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে আসা শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত তারিখে পরীক্ষায় বসতে সম্মত হন।

গত সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুয়েটে র‌্যাগিং ও রাজনীতিতে জড়িত

থাকলে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে চিরতরে বহিষ্কার। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের সবশেষ তিন দাবির সবই পূরণ হলো।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, র‌্যাগিংয়ের কারণে কোনো ছাত্রের মৃত্যু হলে, গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা প্রতিবন্ধিতা, মানসিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হলে বা শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হলে অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হবে। পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করবে বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়াও অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সতর্ক করা, জরিমানা, হল থেকে চিরতরে বহিষ্কার বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার শাস্তি হতে পারে।

যে কোনো মাধ্যমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাংগঠনিক রাজনীতিতে কারও সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ পেলে, রাজনৈতিক সংগঠনের পদে থাকলে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে মিছিল, মিটিং, পোস্টার টাঙানোর মতো রাজনৈতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করলে, রাজনৈতিক কর্মকা-ে কাউকে উদ্বুদ্ধ বা বাধ্য করলে মাত্রা অনুযায়ী সতর্ক করা, জরিমানা, সাময়িক শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা এবং সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে বহিষ্কার করার সুযোগ থাকবে।

গত ৬ অক্টোবর শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে আবরার ফাহাদের মৃত্যু হলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচল হয়ে পড়ে বুয়েট। এ সময় প্রথমে তারা ১০টি এবং পরে আরও ৩টি দাবি দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সোমবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় আন্দোলনকারীদের সব দাবিই পূরণ হলো।

বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, আমরা একটি তদন্ত কমিটি করেছিলাম। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে র‌্যাগিং এবং রাজনীতিতে জড়িত থাকলে বিভিন্ন মাত্রা অনুযায়ী কী শাস্তি হবে, তার একটি নীতিমালা করেছি।

২৮ ডিসেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা ফাইনাল পরীক্ষায় বসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্ররাই এ তারিখ দিয়েছে। দাবি-দাওয়া পূরণ হওয়ার পর তারা পরীক্ষায় বসতে সম্মত হয়েছে।

সব দাবি পূরণ হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বুয়েটের ১৫তম ব্যাচের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে প্রশাসন সব শর্ত পূরণ করেছে। এখন ক্লাস-পরীক্ষায় বসতে আপত্তি নেই। আশা করি, আবরার ফাহাদ হত্যার মতো ঘটনা বুয়েটে আর ঘটবে না। শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস পাবে। ২৮ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে সবাই।

advertisement