advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘আপত্তিতে’ আটকে গেল ৩৪৯ ডাক্তারের নিয়োগ

ইউসুফ আরেফিন
৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ১২:৪৭
ফাইল ছবি
advertisement

পর পর কয়েকটি বিসিএসে দুই শতাধিক প্রার্থীর চূড়ান্ত নিয়োগ ঝুলে থাকার মধ্যেই ভেরিফিকেশনে ‘আপত্তি’ থাকায় এবার আটকে গেল ৩৯তম বিশেষ (স্বাস্থ্য) বিসিএসের ৩৪৯ ডাক্তারের নিয়োগ। তাদের মধ্যে ২৮৩ জনই মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুপারিশপ্রাপ্ত। অন্য ৬৬ জন সাধারণ কোটার প্রার্থী। বিশেষ এ বিসিএসে চূড়ান্ত নিয়োগপ্রাপ্ত ৪ হাজার ৪৪৩ জন ডাক্তার আগামী ৮ ডিসেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগদান করতে যাচ্ছেন।

আর আটকে পড়ারা নিয়োগ পেতে দপ্তরে দপ্তরে ধরনা দিয়ে যাচ্ছেন। নিয়োগ পেতে তারা প্রধানমন্ত্রী ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চাচ্ছেন। ভুক্তভোগী, পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, ৩৪, ৩৫, ৩৬ ও ৩৭তম বিসিএসে যথাক্রমে ৪৯, ৩২, ৭২ ও ৬১ প্রার্থীর ভেরিফিকেশনে আপত্তির কারণে নিয়োগ পাননি। সর্বশেষ যুক্ত হলো ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের ৩৪৯ জন ডাক্তার।

নিয়োগবঞ্চিতরা জানান, পিএসসির সুপারিশের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত গেজেটে নাম না থাকায় ২৮৩ জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মন্ত্রণালয়ে দফায় দফায় ধরনা দিচ্ছেন। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, এ নিয়ে কাজ চলছে। তবে কবে নাগাদ তারা নিয়োগ পাবেন সে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না।

ভুক্তভোগী একজন আমাদের সময়কে জানান, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুপারিশপ্রাপ্ত ২৮৩ জনের গোপন প্রতিবেদনে আপত্তি থাকার পর পুনরায় তাদের প্রোফাইল মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় সেগুলো যাচাই-বাছাই করে ১৬৮ জনকে নিয়োগ দিতে সুপারিশ জানিয়ে জনপ্রশাসনে পাঠায়। জনপ্রশাসন থেকে সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠায়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফাইল এখনো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসছে না। ফলে মন্ত্রণালয় এসব ডাক্তারকে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করতে পারছে না। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন যাপন করছেন বিসিএসে উত্তীর্ণ প্রার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুপারিশপ্রাপ্ত বাকি ১১৫ জনের বিষয়ে আগামী ১০ ডিসেম্বর সভা করে সিদ্ধান্ত জানাবে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাদের প্রোফাইল আছে, তারা নিয়োগ পাবেন বলেই আমাদের ধারণা। তবে অন্যদের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। জনপ্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিশ্চয়ই এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানান, আটকে যাওয়া ৩৪৯ জনের নামেই নেতিবাচক প্রতিবেদন আছে। এখন পুনরায় তদন্ত করে যাদের নামে নেতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া যাবে না, তারা নিয়োগ পাবেন। প্রার্থীদের নামে কী ধরনের নেতিবাচক প্রতিবেদন, সে সম্পর্কে কিছু বলেননি ওই কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এসএম আরিফুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, যাদের নিয়োগ আটকে গেছে তাদের বেশিরভাগেরই যাচাই-বাছাই শেষে আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। আর অন্যদের বিষয়ে জামুকা আগামী ১০ ডিসেম্বর সভা করে সিদ্ধান্ত নেবে। জামুকা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা বাছাই কমিটির পরামর্শ নেবে। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলেও আশা করছেন এসএম আরিফুর রহমান।

জামুকার মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, বেশ কয়েকজনের তথ্য আমরা যাচাই-বাছাই করব আগামী সভায়। এটি একটি জটিল বিষয়। এর চেয়ে বেশি কিছু আপাতত বলা সম্ভব হচ্ছে না।

ভুক্তভোগী এক প্রার্থী আমাদের সময়কে বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। বিশেষ বিসিএসে ডাক্তার হয়েছি জেনে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পাড়াপ্রতিবেশীরাও খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু ভেরিফিকিশনে নিয়োগ আটকে যাওয়ায় আমরা বিব্রত। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা। অথচ আমার নিয়োগ আটকে যাওয়ায় তিনি মুক্তিযোদ্ধা কিনা, এ নিয়েও গুঞ্জন চলছে এলাকাবাসীর মধ্যে। এটি আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক ও হতাশার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক একজন মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এভাবে মেধাবী তরুণদের নিয়োগবঞ্চিত করলে রাষ্ট্রই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা রাষ্ট্রের টাকায় পড়াশোনা করেছে। সুতরাং তাদের নিয়োগ দিয়ে মানুষের সেবা করার সুযোগ দিতে হবে। তবে চাকরিপ্রার্থীরা ফৌজদারি অপরাধে অপরাধী হলে সেটি ভিন্ন কথা। এ ছাড়া নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা আনা অনুচিত বলে মনে করেন তিনি।

advertisement