advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সুপ্রিমকোর্টের এফিডেভিট ও ফাইলিং শাখায় গণবদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৩:৩৯
advertisement

সুপ্রিমকোর্টের মামলা ফাইলিং ও এফিডেভিট শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর ওই দুটি সেকশনে গণবদলির ঘটনা ঘটেছে। গত দুদিনে এ দুটি শাখার অন্তত ৩১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার আমাদের সময়কে এ বদলির খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি অবশ্য এটি তাদের রুটিনওয়ার্ক বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম মনে করেন, এ গণবদলি দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধান

বিচারপতির কঠোর অবস্থানের প্রমাণ।

এর আগে গত বছর এফিডেভিট শাখায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। ওই অভিযানে ঘুষের অর্থসমেত ধরা পড়েন দুই এফিডেভিট কমিশনারসহ তিনজন এবং তাদের তখন বরখাস্ত করা হয়।

বদলির ব্যাপারে গতকাল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, যখনই কোনো প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ঢুকে যায়, তখনই সেই দুর্নীতি রোধের জন্য কতগুলো পদক্ষেপ নিতে হয়। প্রধান বিচারপতি গতকালও (সোমবার) বলেছেনÑ তিনি কঠোর হস্তে এগুলো দমন করার চেষ্টা করছেন। তাই আমি মনে করি, এফিডেভিট শাখায় বদলি তার কঠোর অবস্থানের একটি প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, আমি বিভিন্ন সময়ে যখন ওপেন কোর্টে প্রধান বিচারপতিকে অভ্যর্থনা দেওয়া হয়, তখন অনিয়মের চিত্রগুলো সম্পর্কে বলেছি। দুজন বিচারপতির অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে আমি বিস্তারিত বলেছি, সেগুলো আপনারা শুনেছেন। সেগুলো পুনরাবৃত্তি করতে চাই না।

এর আগে গত সোমবার আদালতের মামলা শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল প্রধান বিচারপতির আদালতে একটি অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। সেদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চের কার্যতালিকার ৮৭ নম্বরে বাংলাদেশ সরকার বনাম তপন কুমার সাহার মামলা (সিভিল পিটিশন নম্বর ৩৯৯৪/২০১৮) শুনানির জন্য ছিল। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে বলেন, এটি আজকের (সোমবার) কার্যতালিকার ৩ নম্বরে থাকার কথা। কিন্তু ৮৭ নম্বরে গেল কীভাবে? এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, সিসি কামেরা বসালাম (এফিডেভিট শাখা কক্ষে) এখন সবাই বাইরে এসে এফিডেভিট করে। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অনেকেই মামলার তালিকা ওপর-নিচ করে কোটিপতি হয়ে গেছেন।

এর পর প্রধান বিচারপতি তাৎক্ষণিক এক আদেশে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসানকে তলব করেন। এই আদেশে তৎক্ষণাৎ আদালতে হাজির হন ডেপুটি রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসান। প্রধান বিচারপতি তার কাছে এই অনিয়মের বিষয় জানতে চান। জবাবে মেহেদী হাসান কোন প্রক্রিয়ায় মামলা আপিল বিভাগের কার্যতালিকাভুক্ত করা হয় তার ব্যাখ্যা দেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি তাকে মামলা কার্যতালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। এ ঘটনার পরের দিনই এফিডেভিট ও ফাইলিং শাখায় বড় ধরনের বদলির বিষয়টি সবার নজরে আসে।

জানা গেছে, বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে এই প্রধান বিচারপতির আমলেই বেশ কয়েকজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ ছাড়া মাঝে মাঝেই সেকশনগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়ে থাকে।

advertisement