advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পেট্রলপাম্প মালিক-শ্রমিকদের দুপক্ষে চাপান-উতোর

লুৎফর রহমান কাকন
৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:২৭
advertisement

বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ তুলছে। একপক্ষ বলছেÑ অন্যপক্ষ চোরাই তেল বিক্রি করে, তেল পাচারকারী। অন্যদিকে পাল্টা অভিযোগ করে অন্যপক্ষ বলছেÑ তারা ক্রিমিনাল, চাঁদাবাজ, জোর করে পেট্রলপাম্প মালিকদের কমিটি দখল করে আছে। চাঁদাবাজি করে টাকা কামাচ্ছে।

১৫ দফা দাবিতে ১ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির একাংশের নেতা সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রতন উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা এলাকার ২৬ জেলায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও ধর্মঘট ডাকে। টানা দুদিনের ধর্মঘটে ২৬ জেলার মানুষের জীবন বির্পযস্ত হতে শুরু করে। লাখ লাখ টাকার কৃষিপণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, যা সামগ্রিক অর্থনীতির ক্ষতি করে। পরে জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর উপস্থিতিতে দাবি মেনে নেওয়ার শর্তে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের একাংশের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বলেন, গত রবিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দেশের তিন বিভাগে পালিত পেট্রপাম্প ধর্মঘট সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। হঠাৎ করেই তাদের সংগঠনের নাম ও ব্যানার ব্যবহার করে কিছু বহিষ্কৃত ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ধর্মঘটের ডাক দেয়। সংগঠনের কেন্দ্র থেকে এ কর্মসূচির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ধর্মঘটের সঙ্গে তাদের সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। সাধারণ মালিক-শ্রমিকরাও এই কর্মসূচিতে

সমর্থন দেয়নি। সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত কিছু লোকের উসকানিতে তিন বিভাগের ২৬ জেলার মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। নাজমুল হক আরও বলেন, ধর্মঘটের তিন দিন আগেই জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ তাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠকের কথা বলে চিঠি পাঠিয়েছেন। তাই ধর্মঘটের মতো কর্মসূচির কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। পেট্রলপাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিকদের দাবি আদায় আন্দোলনকারীদের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল না। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্যই তারা (আন্দোলনকারীরা) ষড়যন্ত্র করেছে। ধর্মঘটের মাধ্যমে যারা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন নাজমুল হক। বহিষ্কৃত নেতা সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রতন অবৈধভাবে ভারতে তেল পাচারকালে ধরা পড়েন। তারা উত্তরবঙ্গে বাঘাবাড়ী, খুলনার দৌলতপুর ডিপো দখল করে অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এদিকে ধর্মঘট পালনকারী অংশের নেতা বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিমের কাছে নাজমুল হকের এমন দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে (নাজমুল হক) কোনো পেট্রলপাম্প মালিক নেই। কিছু শ্রমিক নিয়ে সে সংগঠন চালায়। তারা সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করে। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলে না। তারাই (সাজ্জাদুল করিম) পেট্রলপাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের মূল অংশ। এ জন্যই তিন বিভাগে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন হয়েছে। তিনি বলেন, নাজমুল হক ক্রিমিনাল। নাজমুল হক ভেজাল তেল বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নাজমুল হকের মালিকানাধীন পেট্রলপাম্পে কিছুদিন আগেও ভেজাল তেল ও ওজনে কম দেওয়ায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। নাজমুল হক জোর করে প্রায় ৮/১০ বছর যাবৎ কমিটি দখল করে চাঁদাবাজি করছে। দাবির বিষয়ে বিপিসির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলেও জানান সাজ্জাদুল করিম। তারা দাবি মানার আশ্বাস দিয়েছে তাই ধর্মঘট স্থগিত রাখা হয়েছে। নাজমুল হক ধর্মঘট বাতিল করার নানা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। অর্থাৎ তার কথা কোনো পেট্রলপাম্প মালিক শুনছেন না।

advertisement