advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের ভাষ্য
এ ঘটনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল দায়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:৩০
advertisement

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি পেছানোয় আদালতের এজলাসে হইচই, হট্টগোল ও বিক্ষোভের যে ঘটনা ঘটেছে তার জন্য বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে দায়ী করেছেন। তারা বলেছেন, আজকে (গতকাল) যে ঘটনা ঘটেছে তার সব দায়দায়িত্ব অ্যাটর্নি জেনারেলের। কেননা বেগম জিয়ার মামলায় জামিনের জন্য মেডিক্যাল রিপোর্টের দরকার হয় না। এ মামলায় সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর। সাত বছরই তাকে দিয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাজতে রয়েছেন, অথচ এ ধরনের মামলায় শত শত আসামি জামিন নিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য, রাজনৈতিক উদ্দেশে খালেদা জিয়াকে জেলে রাখা হয়েছে।

বিক্ষোভ-হট্টগোলে আপিল বিভাগে তিন ঘণ্টা বিচারকাজ বন্ধ থাকার পর বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তোলেন। সমিতির অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন প্রমুখ। এ সময় জমিরউদ্দিন সরকার, নিতাই রায়চৌধুরী, মাহবুব উদ্দিন খোকন, ফজলুর রহমানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, খালেদা জিয়া যখন জেলে যান তখন ভালোই ছিলেন, কিন্তু তিনি দিনে দিনে ধুঁকে ধুঁকে মরছেন। তার যে চিকিৎসার প্রয়োজন সেই চিকিৎসা তিনি জেলখানায় পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি আছেন, সেখানেও তিনি চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

জয়নুল আবেদীন বলেন, দিন দিন বেগম জিয়া পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন। তার হাত বাঁকা হয়ে যাচ্ছে, পা বাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বেগম জিয়ার চিকিৎসা এ দেশে সম্ভব নয়। তার অ্যাডভান্স চিকিৎসা দরকার। আমি আদালতের কাছে বলেছি, যখন একটি মামলা বিচারাধীন, তখন সরকারপ্রধান বলেনÑ খালেদা জিয়া রাজার হালতে আছেন। তা হলে মেডিক্যাল বোর্ড রিপোর্ট দিতে কীভাবে সাহস পাবে। আজকে অ্যাটর্নি জেনারেল বললেনÑ রিপোর্ট তৈরি হয়নি, এটি লজ্জাজনক।

জয়নুল আবেদীন বলেন, আমাদের কাছে খবর আছেÑ বেগম জিয়া গত ৩০ তারিখের রিপোর্টে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার থেকেও খারাপ অবস্থায় আছেন। তিনি এখন খেতেও পারছেন না। বেগম জিয়াকে আজকে সরকার মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে এবং এ কারণেই খালেদা জিয়ার মুক্তি এতদিন বিলম্ব হয়েছে। আমি মনে করি, শুধু মানবিক কারণে তার জামিন চাওয়া হয়েছে। মেরিটে আলোচনা করিনি। আমাদের আইনে সেকশন ৪৯৭-এ এটি দেওয়া আছে, কোনো আসামি যদি নারী হন, অসুস্থ হন, বয়স্ক হন; তা হলে কোর্ট তাকে জামিন দিতে পারেন। এটি একেবারে সামান্য জিনিস।

সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আজকে যে ঘটনা ঘটেছে তার সব দায়দায়িত্ব অ্যাটর্নি জেনারেলের। কেননা বেগম জিয়ার মামলায় মেডিক্যাল রিপোর্টের দরকার হয় না। এ মামলায় সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর। সাত বছরই তাকে দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগÑ তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আজকে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে হাজতে রয়েছেন, অথচ এ ধরনের মামলায় শত শত আসামি জামিন নিয়ে যাচ্ছেন। বেগম জিয়ার জামিন হয়নি কেন? আমি প্রথম থেকে বলে এসেছি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেগম জিয়াকে জেলে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, যেখানে সাত বছরের সাজার মধ্যে প্রায় দুবছর ধরে তিনি জেলে। তার পরও একজন বয়স্ক, মহিলা হিসেবে জামিন পাবেন নাÑ এর চেয়ে ন্যক্কারজনক আর কিছু হতে পারে না।

খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে খন্দকার মাহবুব বলেন, একটি বিচারাধীন মামলায় তিনি বলেছেনÑ খালেদা জিয়া রাজার হালতে আছেন। আল্লাহ যদি কোনো দিন সুযোগ দেন বাংলার জনগণ তাকেও এমনি হয়তো একদিন সুযোগ দেবেন।

advertisement