advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পুলিশকন্যা রুম্পা হত্যার আগে ধর্ষিত হন

৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ০২:২৩
আপডেট: ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ০২:২৩
advertisement

ধর্ষণের পর রুবাইত শারমিন রুম্পা (২১) নামে এক তরুণীকে হত্যার পর লাশ রাস্তায় ফেলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ময়নাতদন্তে তাকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। বুধবার রাতে রাজধানীর রমনার সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ নম্বর বাড়ির সামনে থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রুম্পা স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ অজ্ঞাত হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় ওই তরুণীর বাবা পুলিশ পরিদর্শক রোকন উদ্দিন মর্গে গিয়ে রুম্পাকে শনাক্ত করেন। এদিকে পরিচয় না পাওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। রুম্পার মরদেহ দুটি ভবনের পেছনে এবং অপর একটি ভবনের সামনের গলির রাস্তায় মেলে। এই তিন ভবনের যে কোনো একটি থেকে তাকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তবে গত রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্থানীয় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা ছাড়া খুনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
রুম্পার মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বিকাল ৩টার দিকে ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ও সহযোগী
অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছেÑ ওপর থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ওই তরুণীর। ময়নাতদন্তে তাকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য মৃতদেহ থেকে হাই ভেজাইনাল সোয়াব, ভিসেরা, রক্ত সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
লাশের সুরতহাল রিপোর্টে পুলিশ উল্লেখ করেÑ অ্যাশ কালারের প্রিন্টের জামা ও কফি কালারের সালোয়ার পড়া ছিলেন রুম্পা। তার মেরুদ-, বাম হাতের কনুই ও ডান পায়ের গোড়ালি ভাঙা; মাথা, নাক, মুখে জখম ছাড়াও লাশটি পড়ে ছিল রক্তাক্ত অবস্থায়। এ ছাড়া ক্ষত চিহ্ন রয়েছে তার বুকের ডান দিকে।
বুধবার মধ্যরাতে হারুনুর রশিদ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দাসহ উপস্থিত কয়েকজন জানান, সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডে উপুর হয়ে মেয়েটিকে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়লেও নিহতের নাক-মুখ থেকে সামান্য রক্ত নির্গত হয়। শরীরও ছিল ঠা-া। পলিথিন ব্যাগে নিহতের স্যান্ডেল পড়েছিল লাশের পাশেই। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় তারা ধারণা করছেন, মেয়েটিকে বুধবার দুপুরের দিকে হত্যা করে লাশ ফেলা হয় রাতে। শরীর হীম হওয়ার কারণে বহুতল ভবন থেকে পড়লেও রক্ত বের হয়নি।
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, নিহত রুম্পার বাবা রোকন উদ্দিন হবিগঞ্জ সদরে পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় হলেও রাজধানীর শান্তিবাগে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন রুম্পা। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের একটি গলির রাস্তা থেকে অচেনা হিসেবে রুম্পার লাশ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছেÑ কোনো একটি ভবনের ওপর থেকে নিচে পড়ে মৃত্যু হয়েছে তার।
রুম্পা হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেনÑ এমন ধারণা পোষণ করে তিনি জানান, লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন আছে। কোন ভবন থেকে ঘটনাটি ঘটেছে তা জানা যায়নি। নিহতের পরিচয় শনাক্তে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলের আশপাশের তিন ভবনে খোঁজ-খবর নেওয়া হয়; কিন্ত তরুণীর পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রুম্পার ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সন্ধ্যায় তার পরিচয় মেলে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে ওই তরুণীর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

advertisement