advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হেলমেটের বিক্রি বেড়েছে আমদানি হয়েছে দ্বিগুণ

রেজাউল রেজা
৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৩:৫৪
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

রাজধানীর বংশালে থ্রি স্টার বাইকশপে গত বুধবার হেলমেট কিনতে এসেছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাইদুল ইসলাম। নিজের হেলমেটটি থাকলেও পেছনের আরোহীর মাথায় হেলমেট না থাকায় ওই সকালেই ট্রাফিক পুলিশ তাকে জরিমানা করেছেন। ফলে হন্যে হয়ে দ্বিতীয় হেলমেটটি কিনতে এসেছিলেন তিনি। তবে বিভিন্ন মডেল ও দাম যাচাইয়ের পর শেষমেশ কিনলেন সস্তা নিম্নমানের হেলমেট।

নিরাপত্তার জন্য হলেও বেছে বেছে কেন নিম্নমানের হেলমেট কিনলেন এমন প্রশ্নে মাইদুল বলেন, মামলা না খেলেই হয়। পেছনের আরোহীর জন্য অত টাকা খরচ করবে কে?

দোকানদাররা জানান, মামলা থেকে রক্ষা পেতে বর্তমানে সব মোটরসাইকেল চালকই সঙ্গে রাখছেন দুটি করে হেলমেট। মূলত নতুন ট্রাফিক আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মধ্যে হেলমেটের ব্যবহার বেড়েছে। আবার উবার, পাঠাওয়ের মতো রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের বাইক চালকরাও নিজের এবং

সেবাগ্রহীতার জন্য হেলমেট ব্যবহার করছেন। তাই সবমিলিয়ে বাজারে হেলমেটের চাহিদা, বিক্রি ও আমদানি দুটোই বেড়েছে। তবে ভালো হেলমেটের পাশাপাশি বাজার সয়লাব হয়ে গেছে দেশে তৈরি নিম্নমানের কম দামি হেলমেটে। এসব হেলমেটে নিরাপত্তা শঙ্কা থাকলেও চাহিদা থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই তাদের এগুলো রাখতে হয়।

বাংলাদেশ মোটরসাইকেল পার্টস মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ জানান, মূলত গত বছর দেশব্যাপী নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিলে বাজারে হেলমেটের চাহিদা বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে আমদানিও বাড়তে থাকে। বর্তমানে নতুন ট্রাফিক আইন কার্যকর হওয়ায় চাহিদা ও আমদানি আরও বেড়েছে। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যাটি বলা সম্ভব নয় ঠিক কত পিস হেলমেট এ বছর আমদানি হয়েছে।

বাংলামোটরের জুবায়ের মোটরসের ব্যবসায়ী বিলাল হোসেন জানান, ফুল ফেজ ও হাফ হেলমেট নয়, তাদের দোকানে বর্তমানে বিক্রি বেড়েছে বেশি ‘ক্যাপ’ আইটেমের। দৈনিক প্রায় ২০ থেকে ৩০টি ক্যাপ বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি হেলমেট বিক্রি হচ্ছে দৈনিক ১৫ থেকে ২০টি।

বংশালের মোটরবাইক সামগ্রীর দোকানগুলোয়ও একই চিত্র। থ্রি স্টার বাইকশপের ব্যবসায়ী রুহুল হাওলাদার বলেন, গ্লাডিয়ার, আইবিকে ও এসটিএম ব্র্যান্ডগুলোর মতো সাধারণ মানের হেলমেটগুলোর দাম দেড় হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। চালকরা নিজেদের জন্য এগুলো কিনলেও পেছনের যাত্রীর জন্য কম দামের ক্যাপটাই কেনেন বেশি। এগুলোর দাম ২০০ থেকে ৪০০ টাকা।

হেলমেট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কনকর্ড অটো ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, চাহিদা বেশি থাকায় চলতি বছর আমরা দ্বিগুণেরও বেশি হেলমেট আমদানি করেছি। এ বছর সাত কনটেইনারে আমাদের হেলমেট এসেছে ২১ হাজার পিস। অন্যান্য বছরে আমরা যেখানে আমদানি করতাম ৩ থেকে ৪ কনটেইনার।

রাজধানীর আরেক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মিরা ইন্টারন্যাশনালের ব্যবসায়ী মো. ফয়সাল জানান, ভারত ও চীন থেকেই বেশি সংখ্যক হেলমেট আমদানি করা হয়। পাইকারি ও খুচরা বাজারে ভারতের ভেগা, স্টিলবার্ড, জাজ, স্ট্যাটের পাশাপাশি চীনের এসবিকে, ইয়ামাহা, আইবিকে, এইচএক্স ব্র্যান্ডের হেলমেট বেশি পাওয়া যাচ্ছে। আরও রয়েছে এক্সবিকে, এসটিএম, মিরা ইত্যাদি।

এদিকে বাজারে বিক্রি হওয়া হেলমেটের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এ ব্যাপারে অনেকটাই উদাসীন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। বিষয়টি নিয়ে তাদের কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে। অথচ বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক মান পরীক্ষার তালিকায় হেলমেটের উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে মগবাজার মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. শামীম হোসেন বলেন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো ট্রাফিক আইনে দ-নীয় অপরাধ। এ রকম কাউকে পেলে আমরা মামলা দিচ্ছি। তবে হেলমেটের মান যাচাই আমরা করি না। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি। তাই বাইক চালকদের মাথায় হেলমেটজাতীয় কিছু থাকলে আমরা তাদের আপাতত আটকাচ্ছি না। তবে পরামর্শ দিই যাতে মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার করে।

বিষয়টি নিয়ে দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মিজানুর বলেন, কর্তৃপক্ষের উচিত এ ধরনের অনুমোদনবিহীন হেলমেট কোথায় তৈরি বা কীভাবে বাজারজাত হচ্ছে তার ওপর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে চালকদেরও হেলমেটের গুণগতমান সম্পর্কে সচেতন করতে ট্রাফিক পুলিশদের প্রচার চালানোর পরামর্শ দেন তিনি।

advertisement