advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পার্ক হবে কবে আর গোস্বা মিটবে কবে

সানাউল হক সানী
৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৮:৪২
advertisement

রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ২০১৮ সালের ২৭ জানুয়ারি ব্যাপক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে উদ্বোধন করা হয় গোস্বা নিবারণী পার্কের নির্মাণকাজ। পার্ক নির্মাণের দায়িত্ব পায় দ্য বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুরুতে ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা থাকলেও বর্তমানে তা ছাড়িয়েছে ১২০ কোটি টাকা। নতুন কয়েকটি অনুষঙ্গ যুক্ত করায় এর ব্যয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশাল বাজেটের এ পার্কের কাজের অগ্রগতি সামান্যই। উল্টো প্রায় ৭৬ কোটি টাকা বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পার্কের কাজ অনেকটাই স্থবির।

ডিএসসিসি কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালের ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘গোস্বা নিবারণী পার্ক’-এর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন মেয়র সাঈদ খোকন। ‘জল সবুজের ঢাকা’ প্রকল্পের আওতায় ২৯ একর জায়গায় প্রায় ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কটি নির্মাণের কথা বলা হয়। স্বপন চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান দ্য বিল্ডার্স কাজটি নেয়। গত বছরের শেষদিকে কাজ শেষ হওয়ার কথা।

প্রথমে ৫৮ কোটি টাকার এ প্রকল্পের ব্যয় পরে বাড়িয়ে ৮৬ কোটি টাকা করা হয়। এর পর আরও কিছু কাজ যুক্ত করে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে আরও কাজ যুক্ত করে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সূত্র মতে, আগামীতে গোস্বা নিবারণী পার্কের ব্যয় ২০০ কোটি টাকা ছাড়াবে।

সরেজমিন দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওসমানী উদ্যানের চারপাশ টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। কোনো দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি সাংবাদিকদেরও প্রবেশ নিষেধ। জানা যায়, পার্কটির পশ্চিম পাশে একটি ভবনের জন্য কেবল পাইলিংয়ের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এর পর আর অগ্রগতি নেই। পার্কটি নতুনভাবে করার জন্য যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তার কোনটিই শুরু হয়নি।

পার্কের মধ্যে টিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ছোট-ছোট খুপড়ি ঘর। কয়েকশ শ্রমিক থাকেন। সূত্র মতে, এসব শ্রমিক দ্য বিল্ডার্সের রাজধানীতে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেন। ওইসব শ্রমিকের জন্যই এখানে ঘর তৈরি করা হয়েছে। ফলে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গোস্বা নিবারণী পার্কের কাজের অগ্রগতি মাত্র ২৫ থেকে ৩০ ভাগ। তবে ইতোমধ্যে বিল তুলে নেওয়া হয়েছে ৭৬ কোটি টাকা। কাজটি মূলত নগর ভবনের প্রভাবশালী কাউন্সিলর ফরিদউদ্দিন আহম্মেদ রতনের মধ্যস্থতায় নিয়েছিল দ্য বিল্ডার্স। রতনের নিজ এলাকা ফেনীর বাসিন্দা দ্য বিল্ডার্সের মালিক স্বপন চৌধুরী। এ ছাড়া প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামানও স্বপন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ। ফলে উন্নয়নকাজ না করে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার।

জানা যায়, বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার পর গা-ঢাকা দেন স্বপনও। বান্দরবানে জিকে শামীমের মালিকানাধীন ‘সিলভান ওয়াই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডের’ ব্যবসায়িক অংশীদার হওয়ায় স্বপন চৌধুরী অনেকটা কোণঠাসা চলমান অভিযানে।

চলতি বছরের জুনে গোস্বা নিবারণী পার্কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। বর্তমান অবস্থায় কবে কাজ শেষ হবে তা কেউ বলতে পারছেন না। উল্টো ওসমানী উদ্যান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রাখায় প্রাতভ্রমণ ও অবসর কাটানোর জায়গা পাচ্ছেন না আশপাশ এলাকা মানুষ।

জানা যায়, গোস্বা নিবারণী পার্কের অগ্রগতি নিয়ে এর আগে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়। মেয়রের পক্ষ থেকে ঠিকাদারকে অনুরোধ করা হয় দ্রুত কাজ শেষ করার। স্থপতি রফিক আজমের পক্ষ থেকেও বেশ কয়েকবার চিঠি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে দ্য বিল্ডার্সের মালিক ফজলুল করিম চৌধুরী স্বপন আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের যেটুকু কাজ দিয়েছে, সেটুকু করেছি। ডিজাইন-ড্রয়িং এখনো চূড়ান্ত হয়নি। যতটুকু ডিজাইন দেওয়া হচ্ছে তা করছি। তিনি বলেন, আমরা একটি ভবনের কাজ করছি ভেতরে; কিন্তু ছাদ করতে পারছি না। এখনো ছাদের ডিজাইন দেওয়া হয়নি। মাঠের পানি কীভাবে নিষ্কাশন হবে তার জন্য নতুন একটি ডিজাইন দিয়েছে মাত্র এক দিন আগে। সাবস্টেশনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, আমাদের ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে ৮৭ কোটি টাকার। নতুন করে যেসব কাজ সিটি করপোরেশন যুক্ত করতে চাচ্ছে, তাতে ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এটি ফাইনালি কতো টাকায় ঠেকবে তা কেউই বলতে পারবে না।

বিষয়টি সম্পর্কে কথা বলতে প্রকল্প পরিচালক ও ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামানকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হয়, তার মোবাইল নম্বরে দুইবার খুদেবার্তা পাঠানো হয়। তিনি ফোন রিসিভ বা কল করেননি। তার অফিসে গেলেও প্রতিবারই মিটিংয়ে আছেন বলে জানানো হয়।

গোস্বা নিবারণী পার্কের স্থপতি রফিক আজম আমাদের সময়কে বলেন, দুঃখজনকভাবে এই পার্কটির কাজ সেভাবে এগোয়নি। ঠিকাদার সহযোগিতা করছেন না। ফল পজিটিভ নয়। আমি লিখিতভাবে মেয়রকে বেশ কয়েকবার চিঠি পাঠিয়েছি। পুরো ডিজাইন ও ড্রয়িং অনেক আগেই কমপ্লিট। এর পরও কাজ এগোচ্ছে না। ঠিকাদার কোনো কাজই করছেন না। গত দুই বছর ধরে এভাবে ফেলে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ঠিকাদারের বাড়াবাড়ির একটা সীমা থাকা উচিত। এই পার্ক শহরের অন্যতম সুন্দর পার্ক হতে পারত। অন্য কেউ কাজটি করলে অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন আমাদের সময়কে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে এখন কিছু বলতে পারছি না। কাগজপত্র দেখে অগ্রগতি বলতে পারব। তবে পার্কটি আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার কাজ। চাচ্ছি দ্রুতই কাজটি শেষ হোক।

advertisement