advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এসএম হলে ‘ভাড়া কক্ষ’, উদ্ধার নিয়ে ছাত্রলীগে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ ডিসেম্বর ২০১৯ ০২:৩১ | আপডেট: ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ ০২:৩১
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল
advertisement

‘ভাড়া কক্ষ’ উদ্ধার নিয়ে হল ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে (এসএম হল) এ ঘটনা ঘটে।

ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে বহিরাগত এক ব্যক্তিকে হলে থাকতে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর আরেক পক্ষ কক্ষটি ‘উদ্ধার’ করতে এলে ঘটনার সূত্রপাত হয়।

অভিযোগ ওঠা ওই ছাত্রলীগ নেতা হলেন হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মিলন খান। আর উদ্ধার করতে আসার পক্ষকে নেতৃত্ব দেন হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) জুলিয়াস সিজার তালুকদার।

জানা গেছে, সিজার কক্ষটি উদ্ধার করতে এলে দরজা আটকে দেন ওই বহিরাগত। এ সময় তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এক পর্যায়ে ওই বহিরাগতকে মারধর শুরু করেন সিজার ও তার লোকজন। খবর পেলে নেতা-কর্মীদের নিয়ে রড, লাঠিসোঁটাসহ ছুটে আসেন মিলন খান। পরে দুই পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মো. সুজন নামের বহিরাগত এক ব্যক্তি মিলন খানকে মাসিক ভাড়া দেওয়ার বিনিময়ে তিন বছর ধরে হলের ১৫২ নম্বর কক্ষে তার সঙ্গে থাকছেন। বিষয়টি নজরে আসলে সিজারের অনুসারীরা সুজনকে বের করে দিয়ে নিজেদের কর্মীকে ওই কক্ষে ওঠানোর পরিকল্পনা করেন। মিলন সেই কক্ষে গতকাল বিকেলে না থাকায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে ওই কক্ষে যান সিজার।

এসএম হল শাখা ছাত্রলীগ সূত্র জানিয়েছে, বিকেলে কক্ষে ছিলেন সুজন। সিজার ও তার লোকজনকে আসতে দেখে দিনি কক্ষের ছিটকিনি আটকে দেন। এটি দেখার পর সিজারসহ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা দরজায় ধাক্কাধাক্কি করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে দরজা খুলে দেন সুজন।

এ সময় সুজনকে পেটাতে শুরু করে সিজারের অনুসারীরা। পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে সুজনকে। তার সুজনের বিছানা ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে নিজের পক্ষের নেতা-কর্মীদের নিয়ে রড, লাঠিসোঁটাসহ কক্ষের দিতে ছুটে আসেন মিলন। ধাওয়ার পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা জানতে পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) কামাল উদ্দিন ও হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ।

পরে আবাসিক শিক্ষকেরা বহিরাগত সুজনকে হল থেকে বিতাড়িত করেন। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি আছেন।

এ ব্যোপারে জানতে চাইলে হল সংসদের জিএস ও হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা জুলিয়াস সিজার বলেন, ‘মিলন খানের কক্ষে ভাড়ার বিনিময়ে তিন বছর ধরে বহিরাগত থাকছে। তাকে বের করে দিতে গেলে ধাক্কাধাক্কি হয়। এ সময় ওই বহিরাগতকে হালকা আঘাত করে শিক্ষার্থীরা। পরে মিলন রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের দিকে তেড়ে আসেন। অন্য নেতাদের মতো হলে আমার কোনো রাজনৈতিক গ্রুপ নেই। আমি গ্রুপিং রাজনীতি পছন্দ করি না।’

আর হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক ও ছাত্রলীগ নেতা মিলন খান এ ব্যাপারে বলেন, ‘সুজন আমার পরিচিত। মাঝেমধ্যে তিনি থাকেন। এলাকায় রাজনীতি করেন। টাকার বিনিময়ে তাকে রাখা হয়েছে এ কথা সত্য নয়। ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে প্রতিপক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। কারণ, আমি হল শাখা ছাত্রলীগের আসন্ন কমিটিতে শীর্ষ পদপ্রত্যাশী।’

এসএম হলের প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম জোয়ার্দারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। যোগযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক সাব্বির রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনাটি সমাধান হয়ে গেছে। তবে প্রকৃত ঘটনাটি কী, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

এ ঘটনার পর ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সাদ্দাম হোসেন গণমাধ্যমে বলেন, ‘অছাত্র-বহিরাগতদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ ব্যবস্থা নেবে। কারও বিরুদ্ধে অছাত্র-বহিরাগতদের পৃষ্ঠপোষকতার ন্যূনতম অভিযোগ থাকলে তাদের আসন্ন হল কমিটি কিংবা ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে রাখা হবে না।’

advertisement