advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ট্রফিও এনেছেন, হ্যাট্রিকও করেছেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
৮ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৫:০৪ | আপডেট: ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৫:০৪
হ্যাট্রিকের পর গোল উদযাপন করছেন লিওনেল মেসি
advertisement

ষষ্ঠ ব্যালন ডি’অর জয়ের পর প্রথম খেলাটি ছিল রিয়াল মায়োর্কার বিপক্ষে। ক্যাম্প ন্যু’য়ে কী মনে করে ট্রফিটা সঙ্গে এনেছিলেন তা শুধু মেসিই জানতেন। কিন্তু মাঠে ফুটবলের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড় আজ যা দেখালেন তাতে পুরষ্কার সঙ্গে রাখা যে সমীচিন; তার পক্ষেই ভোট দেবেন ভক্তরা।

ট্রফি মাঠে এনে যে বীরের মতো মাথাও উপর তুলে ধরেছিলেন, সে বীরের মতোই তিন তিনটি গোল করলেন। এই মেসিকে রুখবে সাধ্য কার? কোটি কোটি মেসি ভক্তদের রাতের ঘুম যে আরামের হবে তা বলে দিলো গোলের স্কোর বোর্ড। ৫-২, হ্যাঁ ঘোরের মধ্যে আছে রিয়াল মায়োর্কা!

শুধু মেসি নন গোল পেয়েছেন বন্ধু ও সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ, সঙ্গে বার্সার আক্রমণভাগের তৃতীয় সৈনিক গ্রিজম্যানও।

শনিবার লা লিগার ম্যাচে ঘরের মাঠে বার্সেলোনার অ্যাটাক দেখতে দেখতে বুকের ধুকপুকানি বাড়ছিল দুই পক্ষের দর্শকদের। বিশেষ করে বার্সা ও মেসির ভক্তদের। যে-ই মেসি প্রথম গোল করলেন, ভক্তদের গগন বিদারী চিৎকারে ভাটা পড়ছিল রিয়ালের খেলোয়াড়দের চাহনিগুলো।

৫-২ গোলের জয়ে ফের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ফিরল কাতালান জায়ান্টরা। কাটতিটা পড়েছে রিয়ালের। না রিয়াল মায়োর্কা নয়, মাদ্রিদ। রিয়াল মাদ্রিদের।

ব্যালন’ডি অর জেতা কিংকে দেখতে মাঠে এসেছিল অগনিত দর্শক। আশাহত হননি, কারণ, বাঁ-পায়ের জাদুকর তার তেলেসমতি দেখানো শুরু করেছিলেন। ১৫তম মিনিটে সার্জিও বুসকেতসের শক্তিশালী হেড ঠেকিয়ে দেন মায়োর্কা গোলরক্ষক। কিন্তু মেসি যখন প্রতিপক্ষের ডি বক্সে, তখন কী-ই বা হতে পারে? ভক্ত হলে অবশ্যই বলবেন গোল! হলোও তাই। ১৭ মিনিটে গ্রিজম্যানের কাছ থেকে বল পেয়ে পোস্ট থেকে ২৫ গজ দূর থেকে অনেকটা ফ্রি-কিকের মতো বাঁকানো শট নিলেন মেসি। ততক্ষনে শুরু তার দৌড় আর ভক্তমের চিৎকার- মেসি!! মেসি!! মেসি!!

৩৫তম মিনিটে গোল হজম করে বার্সা। ওহ, ৭ম মিনিটে আঁতোয়া গ্রিজম্যান একটি গোল করেন। সেটিও দুর্দান্ত। স্টেগানের লম্বা গোল কিক ধরে একাই দৌড়ে গিয়ে মায়োর্কার জালে জড়িয়ে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

দুই গোলের আনন্দে ভাসছে বার্সা সমর্থকরা। তবে কিছুটা ফিকে হয় ৩৫তম মিনিটে। সুযোগ পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়ে গোল করেন মায়োর্কার খেলোয়াড় আন্তে বুদিমির। স্টেগানের পক্ষে এই গোল ঠেকানো ছিল প্রায় অসম্ভব।

কিন্তু মেসি যেখানে ছিলেন, বার্সার জন্য চিন্তার কিছু ছিল না। ৪১তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে বল পান সুয়ারেস, পাস করে বল দেন ইভান রাকিতিচ। সেখান থেকে বল যায় মেসির কাছে। বাঁ পায়ে শট হবে, গোল না হয় কী করে? ফ্রি-কিকের মত শট করলেন। এবার ধারাভাষ্যকার উত্তেজনায় চিৎকার শুরু করলেন- গোওওওওওল!

মেসির পরের অর্জনটা সুয়ারেজের। ছোট ছোট পাসে গড়ে তোলা আক্রমণ নিয়ে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে ঢোকে বার্সার আক্রমণভাগ। ফ্রেঙ্কি ইয়ং ছোট একটি পাস দেন সুয়ারেজকে। এরপর তিনি যা করলেন, স্বয়ং মেসিও হেসে কুটি কুটি। ব্যাক হিলে মায়োর্কার জালে বল জড়ান মেসির বন্ধু।

৪-১ গোলে খেলা চলছিল। মনে হচ্ছিল কিছুটা খেই হারিয়েছে বার্সেলোনা। এই সুযোগে দ্বিতীয় গোল করে মায়োর্কা। পোস্টের একদম কাছ থেকে হেড করে বুদিমিরই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মেসি দেখালেন তার শেষ চমক। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে পাস দেন সুয়ারেস। বুলেট গতিতে শট নেন লিওনেল মেসি। হ্যাটট্রিক।

চলতি মৌসুমে লা লিগায় ১০ ম্যাচ খেলে ১২ গোলের দেখা পেলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। পিচিচি ট্রফির লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদের করিম বেনজেমাকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

ম্যাচ শুরুর আগে নিজের তিন সন্তানের সঙ্গে ট্রফি নিয়ে ছবি তোলেন মেসি। হাজির ছিল মেসির পরিবারও।

advertisement