advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অক্সিজেন কমছে মহাসাগরে

আমাদের সময় ডেস্ক
৮ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৩:১০ | আপডেট: ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৩:২০
advertisement

বিজ্ঞানীরা অনেক দিন ধরেই দাবি করে আসছেন, মহাসাগরগুলোয় পুষ্টিমান কমে যাচ্ছে। এখন গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দূষণের কারণে কমে যাচ্ছে অক্সিজেন। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে মাছের অসংখ্য প্রজাতি। পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিবিসির এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সাতশর বেশি সামুদ্রিক এলাকা এখন অক্সিজেন স্বল্পতায় ভুগছে। ষাটের দশকে সেই সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৫টি। ফলে হুমকিতে পড়ছে টুনা, মার্লিন, হাঙ্গরের মতো অনেক মাছ। কারণ বড় মাছগুলোর বেশি শক্তির দরকার হয়। মূলত কৃষি খামার ও শিল্প কারখানা থেকে নাইট্রোজেন এবং ফসফরাস সমুদ্রের পানিতে গিয়ে মেশার কারণেই দূষণের সঙ্গে পুষ্টি কমছে। সেই সঙ্গে এসব কারণে সমুদ্রের পানিতে থাকা অক্সিজেনের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করতেন বিজ্ঞানীরা। এতদিন ধারণা করা হতো, এটি শুধু উপকূলীয় এলাকার সমুদ্রেই এর প্রভাব। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ হুমকির মাত্রা বেড়ে গেছে বহুগুণ।

গ্রিনহাউসের কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে কার্বন-ডাই অক্সাইড। এর ফলে সমুদ্রগুলোকে অধিকমাত্রায় তাপ শুষে নিতে হচ্ছে। আর উষ্ণ পানি কম অক্সিজেন ধরে রাখতে পারছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, ১৯৬০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে সমুদ্রের পানি থেকে ২ শতাংশ অক্সিজেন হারিয়ে গেছে। তবে কোনো কোনো গ্রীষ্মপ্রধান এলাকায় এ হার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। খুব সামান্য পরিবর্তনও সামুদ্রিক জীবনযাত্রার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন কম অক্সিজেন সমৃদ্ধ পানি জেলিফিশের মতো প্রাণীর জন্য উপকারী হতে পারে, কিন্তু টুনা মাছের মতো বড় এবং দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে এমন প্রাণীর জন্য সেটি মারাত্মক।

আইইউসিএনের কর্মকর্তা মিন্না ইপস বলেন, ‘অক্সিজেন হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি আমরা জানতাম, কিন্তু সেটার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক এবং কতটা হুমকি তৈরি করছে সেটা জানা ছিল না। গত ৫০ বছরে অক্সিজেন কমে যাওয়ার হার যে শুধু চারগুণ হয়ে গেছে তাই নয়, এমনকি যেসব জায়গায় কার্বন নিঃসরণ কম হয়েছে সেখানেও মহাসাগর থেকে অক্সিজেন কমে যাচ্ছে।’

গবেষকরা বলছেন, অক্সিজেন কমে যাওয়ায় টুনা, মার্লিন, হাঙ্গরের মতো অনেক প্রাণী সমুদ্রের উপরিভাগে উঠে এসে থাকতে শুরু করেছে। ফলে সেগুলো মাছ-শিকারিদের সহজ টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। বিশ্বের দেশগুলো যদি কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে বরাবরের মতো মনোভাব দেখিয়ে যায়, তা হলে ২১০০ সাল নাগাদ মহাসাগরে অক্সিজেনের মাত্রা ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমে যাবে।

মিন্না ইপস আরও বলেন, ‘আমরা যদি (সাগর থেকে) অক্সিজেন হারিয়ে ফেলি, তা হলে সেখানে প্রাণীগুলোর আবাসস্থল নষ্ট হবে। জীববৈচিত্র্য নষ্ট হবে। জেলিফিশের জন্য আরও বেশি সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে। আর এটা মহাসাগরের শক্তি এবং জৈব রাসায়নিক চক্র পাল্টে দেবে। কিন্তু আমরা এখনো জানি না, এসব জীববৈচিত্র্যের এবং রাসায়নিক পরিবর্তন মহাসাগরের ভেতরে কী ঘটাবে।’

গবেষণাটির সহলেখক ও আইইউসিএনের গবেষক ড্যান ল্যাফোলে বলেন, ‘মহাসাগরের অক্সিজেন কমে যাওয়ায় সমুদ্রের তাপমাত্রা ও অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার ফলে এরই মধ্যে শ্রুতির মুখে পড়েছে সমুদ্রের পরিবেশ। আমাদের ব্যাপকভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমাতে হবে। সেই সঙ্গে কৃষি খামার ও অন্যান্য উৎসের কারণে সমুদ্রে যে পুষ্টি-দূষণ হয় সেটাও বন্ধ করতে হবে।’

advertisement