advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চিকিৎসকদের অবহেলা, হাসপাতালের সিঁড়িতেই সন্তান প্রসব

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৭:৪৭ | আপডেট: ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৭:৪৭
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় হাসপাতালের সিড়িতে জম্ম দেওয়া সেই নারীকে পুণরায় ভর্তি করা হয় ওই হাসপাতালে। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে চিকিৎসকদের অবহেলায় হাসপাতালের সিড়িতেই এক নারী সন্তান প্রসব করেছেন। তবে এমন ঘটনার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজনরা।

গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে’ এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের শাহীন আলমের গর্ভবতী স্ত্রীকে ভর্তি করা হয় ওই হাসপাতালে। সেখানে ওই গর্ভবতীকে গাইনী বিভাগে ভর্তি করা হয়। তবে হাসপাতালে সিট নেই বলে ওই নারীকে মেঝেতে ফেলে রাখা হয় বলে জানা গেছে।

রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, ভর্তির পর ওই গর্ভবতী নারীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও কোনো চিকিৎসক-নার্স তার খোঁজ নেননি। রোগীর স্বজনরা বিষয়টি একাধিকবার জরুরি বিভাগে অবগত করলেও তারা কোনো কর্ণপাত করেননি।

একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর সিজার করতে বলেন সেখানকার চিকিৎসক আফরোজা খাতুন।

সিজারের জন্য রোগীর স্বজনরা রক্তসহ সিজারিয়ান ওষুধপত্র কিনে দেন। এর পর ওই প্রসূতিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে রোগীর অবস্থা ভালো নয় বলে ওই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেন গাইনি চিকিৎসক। এর কয়েক মিনিট পরেই হাসপাতালের নার্সরা রোগীর কাপড়-চোপড়সহ তাকে দ্রুত হাসপাতাল থেকে বের করে দেন।

এ সময় প্রসূতির স্বামী শাহীন আলম হাসপাতাল এলাকায় সিএনজি/এ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে করতে গেলে সিঁড়িতেই প্রসব যন্ত্রণায় শুয়ে পড়েন ওই গর্ভবতী। এসময় কন্যা সন্তান জন্ম দেন তিনি।

সে সময় প্রসূতির স্বজনরা চিৎকার করেও কোনো চিকিৎসককে খুঁজে পাননি বলে জানান ভুক্তভোগীরা। পরে জ্ঞানহীন প্রসূতিকে মেঝেতে পরে থাকতে দেখে কয়েকজন নার্স গিয়ে তাকে পুনরায় গাইনি বিভাগে নিয়ে যান। 

তবে ওই প্রসূতির বিষয়টি জানতে আজ সোমবার চিকিৎসক আফরোজা খাতুনের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

ওই প্রসূতির সঙ্গে এমন ঘটনার কথা জানতে পেরে গণমাধ্যম কর্মীরা রাতেই হাসপাতালে যান। কিন্তু তখন কোনো চিকিৎসককে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফরিদুল ইসলাম এবং তত্ত্বাবধায়ক ডা. রমেশ চন্দ্র সাহাকেও একাধিকবার ফোন করলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক ড.ফারুক আহম্মেদকে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। গত কয়েক দিন আগেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

advertisement