advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অধ্যাপক অজয় রায় আর নেই

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:১৭
advertisement

একুশে পদকপ্রাপ্ত পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক অজয় রায় আর নেই। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বারডেমে চিকিৎসাধীন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিজ্ঞানমুখী শিক্ষা, মানবাধিকার, মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রসারে আজীবন লড়ে যাওয়া এ মুক্তিযোদ্ধার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। বছরখানেক আগে প্রয়াত হওয়া স্ত্রী শেফালী রায়ের মতো তিনিও তার দেহ চিকিৎসাবিজ্ঞানে গবেষণার জন্য দান করে গেছেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বারডেমের পরিচালক ফরিদ কবির বলেন, দুপুর ১২টার দিকে অধ্যাপক অজয় রায় আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি বারডেম হাসপাতালে দুই সপ্তাহ ধরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। বার্ধক্যজনিত সমস্যা, নিউমোনিয়া ও ব্রংকাইটিসে আক্রান্ত অজয় রায়কে গত ২৫ নভেম্বর বারডেমে ভর্তি করা হয়। শ্বাসকষ্ট বাড়লে দুদিন পর তাকে কৃত্রিম শ্বাস দেওয়া শুরু হয়।

২০১৫ সালে একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান অধ্যাপক অজয় রায়ের ছেলে বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায়।

গুরুতর আহন হন অভিজিতের স্ত্রী রাফিদা ইসলাম বন্যা। এর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন অজয় রায়। ওই ঘটনায় দায়ের মামলার বাদীও ছিলেন তিনি। গত ২৮ অক্টোবর এ মামলায় আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দেন তিনি। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির গতকাল বারডেম হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার বিচারের বিলম্বের কারণে রায় দেখে যেতে পারেননি তার বাবা অজয় রায়। এটি আমাদের দুর্ভাগ্য।

অধ্যাপক অজয় রায়ের মরদেহ আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বেইলি রোডে তার বাসায় নেওয়া হবে। এর পর সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এবং দুপুর ১২টায় নেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, অজয় রায় একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং আমৃত্যু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে কাজ করে গেছেন। শিক্ষক হিসেবেও তিনি ছিলেন অনুকরণীয়। তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক বার্তায় এ বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও বীর মুক্তিযোদ্ধার আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ ছাড়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এবং উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

ড. অজয় রায়ের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১ মার্চ, দিনাজপুরে। ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। দেশি-বিদেশি বহু জার্নালে তার প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তার দুটি গবেষণা নোবেল কমিটিতে আলোচিত হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে অস্ত্র হাতে কুমিল্লার রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েন অজয় রায়। পরে মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা সেলের সম্মানিত সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ভাষা আন্দোলন ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানেও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তার। স্বাধীনতার পর এশিয়াটিক সোসাইটির জেনারেল সেক্রেটারি, সম্প্রীতি মঞ্চের সভাপতি এবং বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাতাদেরও একজন। শেষ পর্যন্ত এ কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন। বাংলাদেশে বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পেছনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চ গড়ে তোলেন। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন রোধেও উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন এ শিক্ষাবিদ।

শিক্ষায় অবদানের জন্য ২০১২ সালে অধ্যাপক অজয় রায় একুশে পদকে ভূষিত হন। এ ছাড়া ২০০৮ সালে বাংলা একাডেমি ফেলোশিপ, ২০০৯ সালে এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলোশিপ, ২০১১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারও পান তিনি।

advertisement