advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রেকর্ড ১৯ স্বর্ণ জয়

ক্রিকেটেও সোনা সৌম্যদের

মামুন হোসেন
১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:১৭
advertisement

এসএ গেমসে আরেকটি সোনালি দিন পার করল বাংলাদেশ। আরচারি-ক্রিকেট মিলে গতকাল পাঁচটি সোনা জিতলেন লাল-সবুজরা। সব মিলিয়ে নবম দিন শেষে বাংলাদেশের সোনার পদক জয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ১৯টিতে। এসএ গেমসে এটি বাংলাদেশের রেকর্ড স্বর্ণপদক জয়।

কাল সকাল-সকালই খুশির খবর দিচ্ছিলেন আরচাররা। রোমান সানা, সোহেল রানা, ইতি খাতুন, সুমা বিশ^াসÑ কেউ হতাশ করেননি। আরচারির চার ইভেন্টের চারটিতেই এসেছে সোনা। বিকালে সৌম্য, শান্তদের হাত ধরে পুরুষ ক্রিকেটে সোনা জিতে দিনের ইতি টানে বাংলাদেশ। আগেই বলা হচ্ছিলÑ নেপাল এসএ গেমসে এবার সোনা জয়ে নতুন রেকর্ড গড়বে দল। ইতিহাসের বাঁক সত্যিই বদলে দিলেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সেখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখল আরচারি ও আরচাররা। ২৫ ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়ে এক আরচারি থেকেই ঘরে তুলল ১০টি সোনার পদক। এই ডিসিপ্লিনে ইভেন্ট ছিল ১০টি। আগের

দিন দলগত ৬ বিভাগের ৬টিতে; কাল ব্যক্তিগত বাকি ৪ ইভেন্ট থেকে এলো আরও চারটি সোনা। এসএ গেমসে এক ডিসিপ্লিন থেকে এর আগে এত সোনা জেতেনি দল।

মেয়েদের পর ছেলেদের ক্রিকেটেও সাফল্য ঘরে তুলল বাংলাদেশ। একদিন আগে সালমা-জাহানারারা শ্রীলংকাকে হারিয়ে সোনা জয়ের আনন্দ-উৎসব করেছেন; সালমাদের দেখানো পথে কাল হাঁটলেন সৌম্য সরকার-নাজমুল শান্তরা। একই প্রতিপক্ষকে হারিয়েই সোনালি হাসি হাসলেন টাইগাররা। আগের দিন গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে শ্রীলংকার কাছে হোঁচট খায় বাংলাদেশ। ধারণা করা হচ্ছিল, ফাইনালে হয় তো শেষ পর্যন্ত পা হড়কাবে। কিন্তু সৌম্যরা তা হতে দেননি। শ্রীলংকাকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ২০১০ এসএ গেমসের পর দেশকে সোনা জয়ের আনন্দে ভাসালেন টাইগার যুবারা।

সোনা জয়ের গল্পটা শুরু তায়কোয়ান্দো দিয়ে। গেমসের দ্বিতীয় দিনে তায়কোয়ান্দোকা দীপু চাকমার হাত ধরে প্রথম সোনার মুখ দেখে বাংলাদেশ। এর পর একে একে অন্য ইভেন্ট থেকে সাফল্য আসতে থাকে। কারাতে থেকে ৩টি, ভারোত্তোলনে ২টি, ক্রিকেটে ২টি, ফেন্সিংয়ে একটি এবং আরচারি থেকে সর্বাধিক ১০টি সোনা জেতে দল। সব মিলিয়ে ১৯টি সোনার পদক জিতলেন লাল-সবুজরা। এসএ গেমসে স্বর্ণ জয়ে একটি নতুন রেকর্ড। বাংলাদেশের সেরা সাফল্য। আগের সেরা সাফল্য ছিল ২০১০ ঢাকা এসএ গেমসে ১৮টি সোনা জয়। এবার অনুমিত ছিল পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়বে দল। অনুমান বাস্তবে রূপ পেল। রোমান সানা, ইতি খাতুন, মাবিয়ারা নতুন ইতিহাসে সাক্ষী হয়ে থাকলেন।

আরচারির কম্পাউন্ড নারী এককে সুমা বিশ^াসের হাত ধরে কাল সোনা জয়ের সূচনা। শ্রীলংকার প্রতিযোগী অনুরাধা করুনারান্তেকে ১৪২-১৩৪ স্কোরের ব্যবধানে হারিয়ে স্বর্ণালি সকাল উপহার দেন সোনার মেয়ে সুমা। এর পর কম্পাউন্ড পুরুষ এককে আসে দিনের দ্বিতীয় সোনার পদক। এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় বাংলাদেশের সোহেল রানা এবং ভুটানের তানদিন দর্জির মধ্যে। মাত্র ১ পয়েন্টে ব্যবধানে বাজিমাত করেন সোহেল। দুজনের ফাইনাল স্কোর ১৩৭-১৩৬। আরচারির বাকি দুটি ইভেন্ট ছিল রিকার্ভ এককে। যেখানে বাংলাদেশের দুই শক্ত প্রতিযোগী দেশসেরা আরচার রোমান সানা এবং ইতি খাতুন। প্রতিপক্ষকে পাত্তাই দেননি বাংলাদেশের এ দুই আরচার। রোমান ভুটানের টি শারিং কিনলেকে হারান ৭-১ সেট পয়েন্টে; ইতির জয় ৭-৩ সেট পয়েন্টে ভুটানের প্রতিযোগী সোনম দিমার বিপক্ষে।

আরচারিতে এবার ভালো ফল করবে বাংলাদেশ, সেটি আগেই জানা ছিল। ইভেন্টটিতে ভারত ছিল না। গতবার ১০ সোনার ১০টিই জিতেছিল ভারত। এবার বাংলাদেশ জিতল সবকটি। সঙ্গে একটি ব্রোঞ্জও। সোনা জয়ের পাশাপাশি রুপা, ব্রোঞ্জ মিলে মোট পদক জয়ে সেঞ্চুরি পার করেছে বাংলাদেশ। কিছু ইভেন্ট থেকে সোনার প্রত্যাশা ছিল। বিশেষ করে সাঁতার, শুটিং। ভারত, পাকিস্তান না থাকায় ফুটবলেও সোনা জয়ের স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এই ইভেন্টগুলো এবার দারুণভাবে হতাশ করেছে।

ইতিহাস গড়লেও পদক জয়ে ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। বরাবরই এই দলগুলোর পেছনে থেকে গেমস শেষ করে বাংলাদেশ। এবারও ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

advertisement