advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সিদ্ধান্তহীনদের সিদ্ধান্তই হবে মসনদের রসদ

হেফাজুল করিম রকিব, লন্ডন
১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:১৭
advertisement

ব্রিটেনের নির্বাচনের আর এক সপ্তাহ বাকি। দেশজুড়ে এখন নির্বাচনী হাওয়া। ব্রিটেন জুড়ে চলছে প্রচার। নির্বাচন নিয়ে আলোচনা বিতর্কে সরগরম সংবাদ মাধ্যম আর সোশ্যাল মিডিয়া। অবশ্য এ বিভক্তি ব্রেক্সিটপন্থি বরিস জনসন এবং তার কনজারভেটিভ পার্টিকে সহায়তা করতে পারে। জনমত জরিপেও দুই দলই এগিয়ে। তাদের মধ্যে একটু বেশি এগিয়ে কনজারভেটিভরা। এক সপ্তাহ আগের জরিপে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের দল কনজারভেটিভ পার্টি মাত্র ৬ পয়েন্টে এগিয়ে লেবার পার্টি থেকে। তারও আগের সপ্তাহে এগিয়ে ছিল ১৩ পয়েন্টের ব্যবধানে।

ইউগবের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভোটারদের ১৩ শতাংশ কাকে ভোট দেবে তা এখনো চূড়ান্ত করেনি। এ অংশটি তাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারে একেবারেই শেষ সময়ে।

অন্যদিকে ইপসস মরি জরিপের ফল বলছে, শেষ মুহূর্তে এসে মতামত পরিবর্তন করতে পারে ৪০ শতাংশ ভোটারÑ যার মধ্যে ২৮ শতাংশ কনজারভেটিব সমর্থক, ৪৬ শতাংশ লেবার সমর্থক এবং ৬০ শতাংশ লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক সমর্থক। ২০১৭ সালের নির্বাচনের প্রচার চলাকালে বিপুল সংখ্যক ভোটার

তাদের সিদ্ধান্ত বদলেছেন।

ভোটে বেক্সিটের প্রভাব

সাধারণ নির্বাচনে সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেক্সিট ইস্যু বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ ইলেকশন স্টাডি বলছে, ইউকের ৫০ শতাংশ মানুষ ব্রেক্সিট বিতর্কের বাইরে অবস্থান করছে, যাদের অধ্যাপক স্যার জন কার্টিস বেক্সিটের ভবিষ্যৎ নির্ধারক বলে মনে করছেন। ব্রেক্সিট ইস্যুটি এ নির্বাচনের ওপর যে পরিমাণে প্রাধান্য তৈরি করেছে তাতে পরিষ্কার বলা যায়, নির্বাচনের ফলের ওপর তার যথেষ্ট প্রভাব প্রতীয়মান হবে।

২০১৭ সালের নির্বাচনে লেবাররা বেক্সিট ইস্যুটিকে কঠোরভাবে সামলাতে সক্ষম হয়েছিল, যাদের ভোটে পাল্টে যায় হিসাব-নিকাশ। সাধারণত নারী এবং পুরুষদের মধ্যে ভোটে অংশ নেওয়ার প্রবণতায় পার্থক্য রয়েছে। তবে পুরুষ ভোটারদের তুলনায় নারী ভোটাররা বেশি সিদ্ধান্তহীনতায় থাকেন। জরিপ বলছে, ২০১৭ সালের নির্বাচনে সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের ১৮ শতাংশ ছিলেন নারী। ১০ শতাংশ পুরুষও কী করবে আগে থেকে সিদ্ধান্ত নেননি।

২০১৯ সালে এসেও জরিপগুলো একই রকম তথ্য দিচ্ছে। দেখা যাচ্ছে ১৯ শতাংশ নারী এখনো সিদ্ধান্তহীনতায়। আর পুরুষের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৭ শতাংশ।

পেশাগত ও অর্থনৈতিক শ্রেণিও ভোটের হিসাবে নানা বৈচিত্র্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে এটা খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, প্রার্থীদের প্রচার দেখে ভোটাররা তাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। বেশিরভাগ ভোটারই দীর্ঘদিন ধরে কোনো না কোনো দলকেই সাপোর্ট দিয়ে আসার ফলে যে মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে একই দলকে বারবার ভোট দিয়ে আসছে।

কিন্তু সেই পরিস্থিতি এখন থাকছে না। অন্তত ব্রিটিশ ইলেকশন স্টাডির তথ্য তা-ই ইঙ্গিত করে। এই গবেষণা বলছে, ব্রিটেনের মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ দৃঢ়ভাবে রাজনৈতিক পরিচয় ধারণ করেন, যা ৬০-এর দশকের তুলনায় খুবই সামান্য। মধ্য ৬০-এর দশকে ইউকের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক দৃঢ় রাজনৈতিক বিশ্বাস বা পরিচয় ধারণ করত।

১৯৬৬ সালে মাত্র ১৩ শতাংশ ভোটার দল পরিবর্তন করেছিলেন, যা ২০১৫ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশে এবং ২০১৭ সালে ৩৩ শতাংশে।

সামগ্রিকভাবে গত তিন সাধারণ নির্বাচনে ইউকের প্রায় অর্ধেক (৪৯ শতাংশ) ভোটার একাধিক দলকে ভোট দিয়েছেন।

advertisement