advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শোক দিবসের র‌্যালিতে ২শ মানুষ হত্যার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের

হোটেল অলিওতে বিস্ফোরণ মামলার চার্জশিটের তথ্য

রহমান জাহিদ
১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ০১:৪৭
advertisement

২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে ধানম-ি ৩২ নম্বরে একটি শোক র‌্যালিতে দুইটি শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়ে দেড়শ থেকে দুইশ মানুষ হত্যার ছক এঁটেছিল জঙ্গিরা। এ ছক বাস্তবায়নেই রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে অবস্থান নিয়েছিল নব্য জেএমবির ইশতিহাদি সদস্য আত্মঘাতী জঙ্গি সাইফুল ইসলাম (২১)। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার চার্জশিটে আত্মঘাতী জঙ্গি সাইফুল ইসলাম ও হামলা পরিকল্পনার মাস্টারমাইন্ড আকরাম হোসেন খান নিলয় একটি অ্যাপসে তথ্য আদান-প্রদান করে। তাদের চ্যাট হিস্টোরির কথোপকথনেই হামলা পরিকল্পনার তথ্য উঠে আসে।

জঙ্গিরা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ওই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে ১৪ আগস্ট রাতেই সাইফুলের অবস্থান শনাক্ত হয় এবং হোটেলেই আত্মঘাতী হয়ে জঙ্গি সাইফুল মারা যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজু আহম্মেদ গত ২৪ নভেম্বর ঢাকা সিএমএম আদালতে এ

মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে সাইফুলসহ ১৫ জনের নাম এসেছে। সাইফুল মারা যাওয়ায় এক কিশোরসহ ১৪ জনকে বিচারে সোপর্দের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

চার্জশিটে আসামি আকরাম হোসেন খান নিলয়কে ওই হামলা পরিকল্পনার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নিলয় সব আসামির সঙ্গে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ করে হামলা পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়। তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে আকরাম হোসেন খান নিলয়ের সঙ্গে ১১ আসামির হামলার পরিকল্পনা সংক্রান্ত কথোপকথন তুলে ধরেন। আকরাম সেøডউইলসন নামে আইডি থেকে সাইফুলের সঙ্গে মাউন্টেইন৯১ এ কথোপকথন চালায়।

খুদেবার্তার কথোপকথনে তারা পরস্পরের আঁখি ছদ্মনাম ব্যবহার করে। ২০১৭ সালের ৭ আগস্ট রাত ৯টা ৪ মিনিট থেকে ১৫ আগস্ট সকাল ৮টা ৫৪ মিনিট পর্যন্ত তাদের মধ্যে শতাধিকবার খুদেবার্তা আদান-প্রদান হয়।

সাইফুল ২০১৭ সালের ৭ আগস্ট খুলনা থেকে গাড়িতে ওঠার পর আকরামকে খুদেবার্তা দিয়ে জানায়, ঢাকায় আসার উদ্দেশ্যে সে গাড়িতে রওনা দিয়েছে। বাড়ি থেকে চাকরির কথা বলে ১০ দিনের জন্য বেরিয়েছে। ৯ আগস্ট সাইফুল জানতে চায়, ‘বাসা বা হোটেল কী রকম টাকার ভেতর দেখব? আর কী রকম জায়গায়? জবাবে আকরাম বলে, ‘ধানম-ি ৩২-এর আশপাশে হোটেল দেখেন, যত কমের মাঝে পাওয়া যায়। এখন আমি ১৫০০ টাকা পাঠাচ্ছি। তার পর যা যা লাগবে, তা দিয়ে দিচ্ছি। ১১ আগস্ট আকরাম হোটেলের নাম জানতে চাইলে ওলিও ইন্টারন্যাশনাল বলে জানায়। এর পর আকরাম বলেন, হামলা করতে পারলে ১৫০ থেকে ২০০ জন কাফির-মুরতাদ মারা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করে দোয়া করতে বলে। ১৫ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৭টায় শোক র‌্যালির মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে বলে জানায়। খুদেবার্তা অনুযায়ী ১৩ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে সাইফুল হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে ওঠে। পরদিন আকরামের কথা অনুযায়ী বিকাল ৫টা ৩২ মিনিটে জঙ্গি সাইফুল মহাখালী ফুটওভারব্রিজের পাশের মসজিদের ওজুখানা থেকে ৪ থেকে ৫ কেজি ওজনের বোমা ২টি আসামি মামুন ও ছোটনের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালের ৩০১ নম্বর কক্ষে আসে। এর পর আকরাম সাইফুলকে ধানম-ি ৩২-এর বঙ্গবন্ধু মিউজিয়ামের আশপাশে রেকি করে আসতে বলে। এর পর রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে সাইফুল লেখে, ‘আজ দুনিয়ার বুকে আমার শেষ রাত। জান্নাতে গিয়ে গরুর গোস্ত ভুনা দিয়ে ভাত খাব।’ এর পর আকরাম বোমার পিন কীভাবে খুলে বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে তা বলে দেয়। এভাবে খুদেবার্তায় কথোপকথন চলতে চলতে রাত ৩টা ৩১ মিনিটে সাইফুল আকরামকে জানায় পুলিশের রেড এবং বাইরে থেকে দরজা লক করে দিয়েছে। সে আকরামকে বলে, ধরা দিতে চায় না। আকরামও বলেন ধরা না দিতে এবং বোমের টেপ ও পিন খুলে রেডি হয়ে বসে থাকতে, যেন বের হতে পারলেই কাফেরদের মাঝে ফাটিয়ে দিতে পারে। সাইফুল ভোর ৫টায় পিন খুলেছে বলে জানায় এবং আকরাম সকাল ৮টার ৪২ মিনিটে সুইচ দুইটা একসাথে চাপ দিতে বলে। এর পরই সাইফুল আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়।

চার্জশিটের বক্তব্য অনুযায়ী, বোমা ২টি আসামি নব্য জেএমবির বোমা বিশেষজ্ঞ নাজমুল হাসান মামুন আসামি আকরামের কথায় ময়মনসিংহ জেলার ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ির একটি টিনশেড বাড়িতে তৈরি করে, যা সেসহ কিশোর আসামি ছোটন মহাখালীতে আত্মঘাতী সাইফুলের কাছে পৌঁছে দেয়।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, আসামিরা তাদের পরিকল্পনা নির্বিঘেœ ও নিরাপত্তায় বাস্তবায়নের জন্য চ্যাট সিকিউটর, টেলিগ্রাম, থ্রিমা ইত্যাদি অ্যাপস ব্যবহার করত।

advertisement