advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আবারও এসএটিভির কার্যালয়ে তালা, এমডি অবরুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৩:৪৭ | আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৯:৪০
এসএটিভির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

ছাঁটাই করা সাংবাদিক-কর্মচারীদের বহালের দাবিতে আবারও এসএটিভির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গুলশানে এসএটিভি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন ডিইউজের সভাপতি আবু জাফর সূর্য। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সালাহউদ্দিন আহমেদ সেখানে অবরুদ্ধ রয়েছেন।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ডিইউজে নেতাদের সঙ্গে দফায়-দফায় বৈঠক হলেও কোনো দাবিই মানতে চাননি সালাহউদ্দিন আহমেদ। এরপর রাত ৮টার দিকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। 

এই আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি ছিল-গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় গুলশানে এসএটিভির এমডি সালাহউদ্দিন আহমেদের বাসভবন ঘেরাও, আগামীকাল বুধবার বেলা ১১টায় কাকরাইলে এসএ পরিবহনের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও এবং আগামী শনিবার এসএটিভিতে লাগাতার অবরোধ। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয় সেসময়।

এরপর এসএটিভি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসতে সম্মত হয়। তবে এর আগে কয়েকবার সময় দিয়েও সালাহউদ্দিন আহমেদ বৈঠক না করায় লিখিতভাবে জানানোর পর বৈঠকে বসেন সাংবাদিক নেতারা।

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, সহসভাপতি খন্দকার মোজাম্মেল হক ও যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে চাকরিচ্যুতদের বহালসহ নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি ডিইউজের সঙ্গে করা চুক্তি বাস্তবায়ন করতে এসএ টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রতি আহ্বান জানান। কিন্তু তিনি দাবি না মানার পক্ষে কঠোরভাবে অবস্থান নেন। সেইসঙ্গে সাংবাদিক-কর্মচারীদের কাছে অবাঞ্চিত এবং এসএটিভিতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির হোতা হিসেবে পরিচিত হেড অব নিউজ মাহমুদ আল ফয়সালের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নিতে চাননি। এরপরই তাৎক্ষণিক কর্মসূচি ঘোষণা করে ডিইউজে।

প্রায় দুই শতাধিক সাংবাদিক-কর্মচারী এসএটিভির মেইন গেটে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে চলছে প্রতিবাদী গান ও দাবি আদায়ের নানা শ্লোগান। এ ছাড়া কয়েকজন কথিত দালাল-দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধেও শ্লোগান দিচ্ছেন সাংবাদিকরা।

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এসএটিভির ব্রডকাস্ট ও প্রোগ্রাম বিভাগের ১০ কর্মীকে ছাঁটাই এবং ৮ সংবাদকর্মীকে শুধুমাত্র কারণ দর্শানো নোটিশের মাধ্যমে বরখাস্তদের চাকরিতে বহাল না করায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এসএটিভি কার্যালয়ে গত শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ইউনিয়ন নেতারা।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এসএটিভিতে বকেয়া বেতন এবং সম্প্রতি সাংবাদিক ও কর্মী ছাঁটাইয়ের ইস্যুতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি চলছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ডিইউজে নেতারা বিষয়টির সুরাহার জন্য ৭ অক্টোবর এসএটিভি কর্তৃপক্ষ এবং কর্মীদের সমন্বয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির মালিক চুক্তির তোয়াক্কা না করে ছাঁটাই এবং বেতন বকেয়াসহ নানা অনিয়ম নির্যাতন শুরু করেন। এতে আবারও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন কর্মীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডিইউজে নেতারা গত ৩ ডিসেম্বর আলোচনার জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে যান। কিন্তু ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাহউদ্দিন আহমেদ সময় দিয়েও আলোচনায় না বসে পরদিন বিকেলে আলোচনার জন্য ডিইউজে নেতাদের আসতে বলেন।

কিন্তু ৪ ডিসেম্বর সালাহউদ্দিন আহমেদ আলোচনা হবে না বলে নেতাদের জানিয়ে দিলে বৃহস্পতিবার অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তারা। এ ছাড়া শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার মধ্যে চাকরিচ্যুত ৮ সাংবাদিক ও ১০ কর্মীকে বহাল করা না হলে এসএটিভিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে কোনো সমাধান না করে পাল্টা হুমকি দেন প্রতিষ্ঠানটির এমডি। 

এতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। এই ধারাবাহিকতায় গেটে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিক নেতারা। সেইসঙ্গে হেড অব নিউজ মাহমুদ আল ফয়সালের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়ে তার অপসারণেরও দাবি করেন। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ১৫০ জনেরও বেশি গণমাধ্যমকর্মী তার বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষর দিয়ে অনাস্থা জানিয়েছেন।

এদিকে মঙ্গলবার এসএটিভির সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে এমডির বরাত দিয়ে অ্যাডমিন অ্যান্ড এইচ আর বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়ে দেন, এসএটিভির এনসিএ বিভাগ (বার্তা বিভাগ) বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত না হলে এসএটিভি বন্ধ করার কথাও বলেন তারা। এ সময় সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আট বছর ধরে নানা সুযোগ-সুবিধা ও দাবি-দাওয়া তোলায় বেশ কিছুক্ষণ হট্টগোল হয়।

advertisement