advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘প্রেমিকার’ জন্য ইলেকট্রিশিয়ানকে পেটালেন আ.লীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ ডিসেম্বর ২০১৯ ০১:২৮ | আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ ০২:২৯
আহত ইলেকট্রিশিয়ান মিলন। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

পরকীয়া প্রেমিকার বাসায় কলিং বেল লাগাতে দেরি করায় এক ইলেকট্রিশিয়ানকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল মহানগরের এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। তার কিল-ঘুষিতে ইলেকট্রিশিয়ান মো. মিলনের কপাল ও মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার বিকেলে নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের খান সড়কের এক বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার নাম হুমায়ুন সিকদার। তিনি বরিশাল মহানগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি।

আর ভুক্তভোগী মিলন খান সড়ক এলাকার বাসিন্দা। ওই এলাকার ডিস ব্যবসায়ী আসলাম খানের ডিস লাইনের কাজ করেন। পাশাপাশি ইলেকট্রিকের কাজ করেন মিলন।

এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে মারধরের বিষয়টি নিয়ে বিচার চেয়ে অভিযোগ দেওয়ায় মিলনকে দেখা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন হুমায়ুন সিকদার।

ভুক্তভোগী মিলন জানান, হুমায়ুন সিকদারের সঙ্গে নগরীর খান সড়কের কাজী স্টোর্সের সামনে মঙ্গলবার সকালে দেখা হয়। এ সময় নেতাদের কাছে নালিশ করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি আঙুল উঁচিয়ে প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমি হুমায়ুন কাউরে ধরলে কিন্তু ছাড়ি না’।

এখানেই শেষ নয়, দুপুরে পুলিশ দিয়ে হেনেস্তা করার চেষ্টা করে হুমায়ুন সিকদার। পরে পুরো ঘটনা শুনে কোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. নুরুল ইসলামের হস্তক্ষেপে তার রক্ষা হয়। এ ঘটনার পর মো. মিলন ও তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, খান সড়কের এক নারীর সঙ্গে হুমায়ুনের দীর্ঘদিনের পরকীয়ার সম্পর্ক। এর আগেও তিনি একাধিকবার ওই নারীকে নিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন। পরে প্রভাবশালীদের দ্বারস্থ হয়ে রক্ষা পান আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন সিকদার।

মিলন বলেন, গতকাল সোমবার সকালে ওই নারী তার বাসায় কলিং বেল লাগিয়ে দিতে বলেন। কিন্তু সারা দিন ব্যস্ত থাকায় বিকেলে কলিং বেল লাগাতে যান তিনি। এ সময় দেরি হওয়ায় ওই নারী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে তাকে জুতা দিয়ে মারধর করেন এবং মুঠোফোনে আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন সিকদারকে খবর দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে হুমায়ুন সিকদার ওই বাসায় গিয়ে কলাপসিবল গেট আটকে তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এতে তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।

পরে বিষয়টি মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর ব্যক্তিগত সহকারী মোস্তফা জামান এবং মহানগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা নিরব হোসেন টুটুলকে জানান মিলন। নিরব হোসেন টুটুল এ ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। এতে আরও ক্ষিপ্ত হন হুমায়ুন সিকাদার ও ওই নারী। নেতাদের কাছে নালিশ করার অভিযোগে ক্ষিপ্ত হয়ে সকালে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে হুমায়ুন সিকদার বলেন, খান সড়কে এক বাসায় কলিং বেল লাগাতে ইলেক্ট্রিশিয়ান মিলনকে বারবার অনুরোধ করা হয়। তবে কলিং বেল না লাগিয়ে মিলন টালবাহানা করতে থাকে। এরপর সোমবার বিকেলে ওই বাসায় গিয়ে মিলন ঝামেলা করে, দুর্ব্যবহার করে। ওই ঘটনায় মিলনকে চড়-থাপ্পড় মারা হয়। এ সময় পড়ে গিয়ে তার একটু ছাল উঠেছে। এ নিয়ে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে। ওই পক্ষটি মিলনকে দিয়ে বিষয়টি ভিন্নভাবে রটাচ্ছে।

কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম জানান, ইলেক্ট্রিশিয়ান মিলনের সঙ্গে ঝামেলার বিষয়টি শুনেছি। মিলন লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

advertisement