advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নওয়াজউদ্দিনকে নিয়ে ফারুকীর আবেগী স্ট্যাটাস

বিনোদন প্রতিবেদক
১১ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৩:৪৮ | আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৩:৪৮
বলিউড অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী (বাঁ থেকে), নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ফাইল ছবি
advertisement

নন্দিত নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বিশ্বের ঘরহীন মানুষদের নিয়ে এই নির্মাতা নির্মাণ করছেন তার পরবর্তী চলচ্চিত্র ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’। অভিনয়ের পাশাপাশি এর সহ-প্রযোজক হিসেবে আছেন বলিউডের মেধাবী অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী। বর্তমানে নিউইয়র্কে এই চলচ্চিত্রের শুটিং করছেন তারা।

এদিকে, গত শনিবার ভারতের পুনের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর বোন সায়মা তামশি সিদ্দিকী। ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’ শুটিংয়ে থাকার কারণে মৃত্যুর সময় বোনের পাশে থাকতে পারেননি বলিউডের এই অভিনেতা। বোনের মৃত্যুর সংবাদটি শুনে নওয়াজউদ্দিন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেও দ্রুত নিজেকে সামলে নেন বলে জানিয়েছেন নির্মাতা ফারুকী।

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীকে নিয়ে ফেসবুকে আবেগী এক স্ট্যাটাসে এমনটাই জানান মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সেখানে তিনি লিখেছেন- ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’র একটি দৃশ্যের রিহার্সেলের সময় নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, কিন্তু যেহেতু তিনি অত্যন্ত পেশাদার, তাই তিনি দ্রুতই তার আবেগের প্রতি নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে আমি কারণটা জানতে পারি। আমি যে দৃশ্যের কথা উল্লেখ করেছি সেটা হলো, তার এবং তার বোনের মধ্যকার একটি দৃশ্য। সিনেমায় যার নাম সায়মা। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি জানি কি-না তার বোনের নামও যে সায়মা।

তিনি আরও লিখেছেন- আমি নেতিবাচক জবাব দিয়েছিলাম কারণ আমার স্ক্রিপ্টটি পাঁচ বছর আগে লেখা হয়েছিল এবং তার বোন সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। তারপর তিনি আমাকে বললেন তার বোন সায়মা আট বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন এই যুদ্ধে তার বোনকে সহায়তা করতে। তাই যখনই সায়মার সাথে তার অভিনয়ের দৃশ্য (ফোন কথোপকথন) ছিল, তখনই তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছিলেন। আমি জানি না কীভাবে এই অদ্ভুত টানের প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়। আমার হাতে অন্যান্য কাজ থাকায় আমি এটি দ্রুত ভুলে গিয়েছিলাম।

নওয়াজউদ্দিনের বোনের মৃত্যুর দিনটির প্রসঙ্গে টেনে ফারুকী লিখেছেন- দু'দিন আগে যখন আমরা একটি দৃশ্যের শুটিং করছিলাম, তখন তার একটি কল আসে। কী চলছে তা সম্পর্কে আমাদের ধারণা ছিল না। তিনি দৃশ্যটি দারুণভাবে সম্পন্ন করেন। আমরা প্যাক আপ করার পর, আমি জানতে পারি যে সেই দৃশ্যের শুটিং চলাকালীন সে তার বোনকে হারিয়েছে। পরিবারের প্রতি এই ব্যক্তির টান কেমন ছিল তা সম্পর্কে সম্প্রতি আমার কিছু ধারণা হয়েছে। একজন যে তার পরিবারের সাথে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত, তিনি কেমন অনুভব করছিলেন তা আমি পুরোপুরি বুঝতে পারি। এই পরিস্থিতিটা কীভাবে মোকাবেলা করতে হবে তা আমি জানতাম না। তবে তিনি জানতেন।

সবশেষে ফারুকী লিখেছেন, বাড়িতে ফেরার জন্য সমস্ত কিছু সমন্বয় করার সময়, তিনি তার শুটিং চালিয়ে যান এবং নিশ্চিত করেন যে আমাদের নিউইয়র্ক শুট শেষ হয়েছে। তিনি আজ বাড়ি চলে যাবেন। হয়তো সে তার (বোনের) কবরের সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকবে। হয়তো তারা নিঃশব্দে হাজার কথা বলবে। হয়তো সাহিত্য এবং বাস্তবতা একে অপরের সাথে মিশে যাবে।

advertisement