advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইউজিসির চোখ এতদিন কি বন্ধ ছিল?

জাকির হোসেন তমাল
১১ ডিসেম্বর ২০১৯ ২২:০৫ | আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ ২২:১২
advertisement

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘ দিন ধরেই চলছে টাকা নিয়ে সনদ দেওয়ার হিড়িক। সান্ধ্য কোর্সে নামে মাত্র ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সনদ পাচ্ছেন অনেকেই। এই কোর্স বন্ধ করতে দীর্ঘ দিন ধরে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন হয়েছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা-মামলা হয়েছে। কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠান এই কোর্স বন্ধ করেনি। উল্টো দিন দিন বেড়েই চলেছে এই কোর্সের পরিধি।   

এই সান্ধ্য কোর্সের মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্রমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সম্প্রতি এমন বক্তব্যের পর আজ বুধবার দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য কোর্স বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের কাছে চিঠিতে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধসহ ১৩ দফা নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫২তম সমাবর্তনে আচার্য আবদুল হামিদ বলেন, ‘‌‌‌বাণিজ্যিক কোর্সের মাধ্যমে প্রতিবছর হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে। এসব ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষার্থীরা কতটুকু লাভবান হচ্ছে এ ব্যাপারে প্রশ্ন থাকলেও এক শ্রেণির শিক্ষক কিন্তু ঠিকই লাভবান হচ্ছেন। তারা নিয়মিত নগদ সুবিধা পাচ্ছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করছেন।’

রাষ্ট্রপতির এমন বক্তব্যের পর অবশেষে ইউজিসির টনক নড়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সান্ধ্য কোর্স বন্ধ করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু এর আগে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন হয়েছে, হামলা-মামলা হয়েছে। কিন্তু তখন ইউজিসি চোখ বন্ধ করে ছিল। তাও ভালো, দেরিতে হলেও ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে।

সান্ধ্য কোর্স বন্ধ করতে গিয়ে হামলা-মামলা

সান্ধ্য কোর্স বন্ধের দাবিতে ২০১৪ সালে বড় ধরনের আন্দোলনে নেমেছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের শিক্ষার্থী এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের সবার দাবি ছিল, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের সান্ধ্য কোর্স চলতে পারে না। কিন্তু শিক্ষার্থীদের এই দাবির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা। তারা সবাই ওই সময় এক সারিতে এসেছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য দাবি মেনে নেননি।

শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাধার পরও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। বৈধ পন্থায় শিক্ষার্থীদের সরাতে না পেরে হামলার আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল সেসময়। ২০১৪ সালের ২ ফ্রেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর এক যোগে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছিল পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই হামলায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন। পুলিশের লাঠিপেটায় আমাকেও হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। শুধু তাই নয়, হামলার পর কয়েকজন শিক্ষক ও অনেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই মামলা হয়তো এখনো চলছে।

শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর ওই হামলার কথা হয়তো কোনো দিন ভুলতে পারবে না রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এমনকি দেশের অনেকেই সেটা মনে রাখবে। কিন্তু সেই হামলা-মামলার পরও এখনো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সান্ধ্য কোর্স উঠে যায়নি। বরং প্রতি বছর নতুন নতুন বিভাগে খোলা হচ্ছে সান্ধ্য কোর্স এবং নতুন নতুন আসন বৃদ্ধি করা হচ্ছে। নিয়মিত শিক্ষার্থীরা কম সিজিপিএ পেলেও সান্ধ্য কোর্সধারীদের দেওয়া হচ্ছে বেশি সিজিপিএ। ক্লাসে উপস্থিতি কয়েক শতাংশ হলেও কোনো সমস্যা নেই সান্ধ্য কোর্সে ক্লাস করা শিক্ষার্থীদের। কিন্তু একই বিভাগে নিয়মিত ছাত্রদের ৬০ শতাংশ নম্বর না হলে তাদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয় না। এটাই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অনেকের চরিত্র। টাকার জন্য তারা নৈতিকতা বিকিয়ে দেন। তবে অনেক ভালো শিক্ষক আছেন বলেই হয়তো এখনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো টিকে আছে। না হলে অনেক আগেই নষ্ট হয়ে যেত।

সান্ধ্য কোর্স বন্ধের জন্য ইউজিসি আজ যে নির্দেশনা দিলো, তা বাস্তবে রূপ নেবে কি না, দেখার অপেক্ষা...

জাকির হোসেন তমাল : গণমাধ্যমকর্মী  

advertisement