advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

যুক্তরাজ্যে ‘ব্রেক্সিট নির্বাচন’ আজ

হেফাজুল করিম রকিব,লন্ডন
১২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ ১১:১৮
প্রতীকী ছবি
advertisement

গণতন্ত্রের সূতিকাগার নামে পরিচিত ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচন আজ। ৮০০ বছর আগে অর্থাৎ ১২১৫ সালে ম্যাগনাকার্টা চুক্তির মধ্য দিয়ে যে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয় দেশটিতে, গণতন্ত্রের এ ধারাবাহিকতা এখন বিশ্বব্যাপী অনুসরণ করা হচ্ছে। ব্রিটেনের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার দেশটির মধ্যবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের এবারের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও কমিউনিটিতে বড় রকমের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনের আগে লন্ডন ব্রিজের হামলার ঘটনায় ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টাতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। পার্লামেন্টের ৬৫০ আসনের মধ্যে সরকার গঠন করতে লাগে ৩২৬টি আসন। নির্বাচনের বিভিন্ন জরিপে প্রথমে কনজারভেটিভ দল ও লেবার পার্টি কাছাকাছি ছিল। তবে বেশকিছু ঘটনায় সেই ব্যবধান বেড়ে কনজারভেটিভ পার্টি বর্তমানে এগিয়ে আছে ১০ পয়েন্টে। পাঁচ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তৃতীয় সাধারণ নির্বাচন এটি।

ব্রেক্সিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে এ নির্বাচন নিয়ে গোটা দেশই দুই ভাগে বিভক্ত। যুক্তরাজ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে থাকবে, নাকি বেরিয়ে আসবে- এ সিদ্ধান্তই যেন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য এ নির্বাচনকে ‘দ্য ব্রেক্সিট ইলেকশন’ নামেও অভিহিত করছেন অনেকে। নির্বাচনপূর্ব জরিপের চিত্র উঠানামা করেছে প্রতিদিনই। ক্ষমতায় একক দল, নাকি জোট সরকার বা ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠিত হবে, তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।

এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি, বিরোধী লেবার পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস, স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি, গ্রিন পার্টি, ব্রেক্সিট পার্টি, ইনডিপেনডেন্ট গ্রুপ ফর চেঞ্জ অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনপূর্ব বিভিন্ন জরিপে কনজারভেটিভ পার্টির বরিস জনসন কিছুটা এগিয়ে আছেন। কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠ না পেলে নির্বাচনে স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (এসএনপি) একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এসএনপির সমর্থন পাবে লেবার পার্টি। এরই মধ্যে লেবার পার্টির জেরিমি করবিন এসএনপির সঙ্গে দুটি সমঝোতায় উপনীত হয়েছেন। করবিন এসএনপিকে আশ্বস্ত করেছেন তার দল সরকার গঠন করলে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার ব্যাপারে ফের একটি গণভোটের বিষয় বিবেচনা করবেন। দ্বিতীয়ত ব্রেক্সিট বিষয়ে সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যে ইইউর সঙ্গে একটি ডিল করবেন এবং ছয় মাসের মধ্যে আবার গণভোট দেবেন। গণভোটে দুটি বিষয় থাকবে। ইইউর সঙ্গে ‘ডিল’ অথবা ‘রিমেইন’। তবে সে ডিল যুক্তরাজ্যবাসীর জন্য কতটা সুখকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ করবিনের সমর্থক। এরই মধ্যে করবিন ঘোষণা দিয়েছেন তার দল সরকার গঠন করলে ইউনিভার্সিটি ফি যা কনজারভেটিভ পার্টি আরোপ করেছিল তা প্রত্যাহার করে নেবেন। এ ছাড়া ট্রান্সপোর্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রাইভেটাইজেশনের যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে তাও তুলে নেওয়া হবে। এসব কারণে করবিনের লেবার পার্টির প্রতি তরুণদের একটা বড় অংশ সমর্থন দেবে- এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টির বরিস জনসন ব্রেক্সিট ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে ব্রেক্সিট পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটসসহ অন্য কয়েকটি ক্ষুদ্র দলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। লিবডেম শুরু থেকেই ব্রেক্সিটের পক্ষে। তা ছাড়া করবিন একজন কট্টর বামপন্থি। তাই ডান বা বাম নন এমন ভোটারদের সমর্থন পাবেন জনসন। তা ছাড়া ব্রেক্সিট পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজি শুরু থেকেই বেক্সিটের পক্ষে।

নির্বাচনে ব্রেক্সিট ইস্যু প্রাধান্য পেলেও আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুও একই সঙ্গে প্রাধান্য পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক মন্দা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার নিশ্চয়তা, জলবায়ু সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও রয়েছে। এমনকি সম্প্রতি লন্ডন ব্রিজে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি প্রচারে আসছে। এ হামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন- এমন অভিযোগ করেছেন হামলায় নিহতের বাবা।

সব মিলিয়ে কনজারভেটিভ পার্টি এবং লেবার পার্টির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনসনের চেয়ে করবিনের জনপ্রিয়তা বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে বিশ্লেষকদের ধারণা একটি ঝুলন্ত সংসদ হবে এবং করবিনের নেতৃত্বে একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হবে।

১৯০০ সালে সমাজতান্ত্রিক দলগুলো থেকে জন্ম নেওয়া লেবার পার্টি প্রার্থী জেরেমি করবিন তার নির্বাচনী জাতীয় স্বাস্থ্য খাতের (এনএইচএস) উন্নয়নকেই প্রধান ইস্যু করেছেন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের হাসপাতাল ও চিকিৎসা ব্যবস্থা ভয়াবহভাবে করুণ। লেবাররা ক্ষমতায় আসতে পারলে স্বাস্থ্যসেবায় প্রথম ১০০ দিনে কি পরিবর্তন ঘটাবে নির্বাচনী প্রচারণায় তুলে ধরেছেন ।

১৮৩৪ সালে টরি পার্টি থেকে জন্ম লাভ করে বর্তমান ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির লিডার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জনসন বলেন, কনজারভেটিভদের পক্ষে কার্যক্রম সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে যুক্তরাজ্য ইইউ ছেড়ে চলে যেতে পারে যা দেখতে খুবই কষ্ট লাগবে, যা আত্মাঘাতী। তিনি বলেন ঝুলন্ত সংসদ যেন কোনো ক্রমেই না হয় তার জন্য প্রতিটি ভোটারকে লড়াই করতে হবে। তাকে সমর্থন দেওয়া মানেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৯ প্রার্থী আজকের নির্বাচনে এমপি পদে লড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৯ প্রার্থী। তাদের মধ্যে লেবার দল থেকে সাতজন, লিবারেল ডেমোক্র্যাট থেকে একজন এবং কনজারভেটিভ পার্টি থেকে একজন। এ ৯ প্রার্থীর সাতজন নারী এবং দুজন পুরুষ। ২০১০ সালে রুশনারা আলী এমপি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে ব্রিটিশ মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অভিষেক হয়। গত লেবার দলের ৭ প্রার্থী রুশনারা আলী, টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, রুপা হক, আপসানা বেগম, মেরিনা আহমদ, নুরুল হক আলী, আখলাক খান; লিবডেম প্রার্থী ড. বাবলিন মল্লিক ও ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ থেকে প্রার্থী আনোয়ারা আলী।

advertisement