advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচন
ব্রেক্সিট ভাগ্য নির্ধারণের ভোট শেষে চলছে গণনা

হেফাজুল করিম রকিব, লন্ডন থেকে
১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ০২:৩৪
advertisement

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় উঠে আসা যুক্তরাজ্যের ৫৮তম নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। এ নির্বাচন নানা কারণে ঐতিহাসিক। তিন বছরেরও কম সময়ে তৃতীয়বারের মতো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যে। ১০০ বছরের ইতিহাসে ঘটতে যাওয়া এই ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে ইউকের জনগণ।

যুক্তরাজ্যে এই ভোট ২০২২ সালে হওয়ার কথা থাকলেও মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া (ব্রেক্সিট) নিয়ে যে জটিলতা দেখা দিয়েছে, তার প্রেক্ষাপটেই আবারও ভোট হচ্ছে। ব্রেক্সিট নিয়ে পরিস্থিতি এতটাই জটিল অবস্থায় পৌঁছেছিল যে, প্রায় শত বছরের ঐতিহ্য ভেঙে ডিসেম্বরে ভোটের আয়োজন করতে হয়েছে

কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে।

পার্লামেন্টে তিনবার ব্রেক্সিট চুক্তি পাস করাতে ব্যর্থ হয়ে তেরেসা মের পদত্যাগের পর ক্ষমতায় আসা জনসনকেও কম গলদঘর্ম হতে হয়নি।

৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিটে ব্যর্থ হয়ে তাই তাকে ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিতে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায়) ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়ালস ও নর্থ আয়ারল্যান্ডের ৬৫০টি আসনে ৫০ হাজার ভোটকেন্দ্রে একযোগে শুরু হয় এ ভোটগ্রহণ। রাত ১০টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৪টা) পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে শুরু হবে কাক্সিক্ষত গণনা। বেশিরভাগ কেন্দ্রের ফলই ঘোষণা হবে শুক্রবার সকালে। ২০১৭ সালে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে নিউক্যাসলের ফল ঘোষণা হয়, যা ছিল প্রথম। সাধারণত ইউকেতে প্রতি চার অথবা পাঁচ বছরের ব্যবধানে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই অক্টোবরে এমপিরা দ্বিতীয় দফায় ভোটের পক্ষে রায় দেন।

১৯৭৪ সালের পর এটাই প্রথম ভোট, যা শীতকালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আবার ডিসেম্বরে ভোট গ্রহণের ঘটনা ১৯২৩ সালের পর এটাই প্রথম। সকাল থেকেই পোলিং স্টেশনগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি থাকলেও যুক্তরাজ্যে নির্বাচনের দিন সরকারি কোনো ছুটি না থাকায় এখন তা অনেকটা কমে এসেছে। বিকালের দিকে আবারও ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ে।

এদিকে কনজারভেটিভ লিডার বরিস জনসন ভোট দিয়েছেন সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে এবং ৭টা ৪৫ মিনিটে লেবার লিডার জেরেমি করবিন, এসএনএফ লিডার নিকলো স্টারজন, লিডবলেব লিডার জো সুইনসনও ভোট দিয়েছেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৯ প্রার্থীর মধ্যে তিন নারী প্রার্থী টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, রূপা হক, রুশনারা আলী এবং আপসানা বেগমের জয়ের সম্ভাবনা বাংলাদেশি প্রবাসীদের কাছে এই নির্বাচনকে করে তুলেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ। এবারের জাতীয় নির্বাচনে প্রায় ৪ কোটি ৬৯ লাখ নিবন্ধিত ভোটার ৩ হাজার ৩০৪ প্রার্থীর মধ্যে থেকে হাউস অব কমন্সের ৬৫০টি আসনে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর ভোটার উপস্থিতি পর্যালোচনা করে অনেক বিশ্লেষকই মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে ৬৯ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ৫৩৩টি আসনেরই প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন ইংল্যান্ডের জনগণ। বাকি আসনগুলোর ৫৯টিতে স্কটল্যান্ড, ৪০টিতে ওয়ালস ও ১৮টিতে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। শেষ সময়ের মধ্যে যেসব ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হবেন, তাদের সবাই ভোট দিতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে ব্রিটিশ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে।

বিবিসির মতামত জরিপ বলছে, এখনো জয়ের পথে কনজারভেটিভরা পরিষ্কার এগিয়ে আছে লেবারদের চেয়ে। ইউগবের জরিপ বলছে, বরিস জনসন গত দুই সপ্তাহের প্রচারে যে পরিমাণ গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন তাতে তিনি মাত্র ২৮ সিটের ব্যবধানে জয়ী হতে পারেন। অথচ মাত্র দুই সপ্তাহ আগে একই প্রতিষ্ঠান জরিপে জনসনকে ৬৮ সিটের ব্যবধানে এগিয়ে রেখেছিল। জরিপ সংস্থাটি গত ৪ থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৫ হাজার ভোটারের সঙ্গে কথা বলে যা পূর্বানুমান করতে সক্ষম হয়েছে তা হলো টরিরা ৩৩৯ আসনে জয়ী হতে চলছে, যা ক্ষমতাসীন দলকে ২৮ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেবে। ইউগবের এই জরিপকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়, কারণ ২০১৭ সালের নির্বাচনে এদের পূর্বানুমান ৯৩ ভাগই ফলেছিল।

জরিপ সংস্থাটি বলছে, দোদুল্যমান ভোটারদের ভোটে যা ঘটতে পারে তাতে একটি ঝুলন্ত সংসদের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

জরিপের এই ধারণা যদি সত্যিই হয় তবে রবিস জনসন হবেন আশির দশকের পর কনজারভেটিভদের সর্বোচ্চ ব্যবধান গড়া ব্যক্তি। এর আগে সর্বশেষ ২১ সিট নিয়ে সর্বোচ্চ পার্থক্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন জন মেজর ১৯৯২ সালে। গবেষণা সংস্থাটি বলছে, ২৩১ আসনে জয় পাওয়া হবে লেবারের জন্য ৩০ বছরেরও বেশি সময়ে সবচেয়ে বাজে রেজাল্ট।

করবিনের দল এই নির্বাচনে ২৩১টি আসন পেতে পারে, যা ২০১৭ সালের নির্বাচনে ছিল ২৬২। ধারণা করা হচ্ছে, কনজারভেটিভরা ৪১ ভাগ ভোট পাবে আর লেবাররা ৩৬ ভাগ। এই জরিপটি বলছে এসএনপিরা ৪১টি এবং লিবারেল ডেমোক্রেটরা পেতে পারে ১৫টি আসন।

জয়লাভ করলে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে যুক্তরাজ্যকে ইইউ থেকে বের করে নিয়ে আসবেন এমন প্রতিশ্রুতি জনসন দিচ্ছেন। পাশাপাশি ক্ষমতায় টিকে যেতে পারলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পুলিশের মানোন্নয়নে আরও বেশি অর্থ ব্যয়ের আশাও দেখিয়েছেন।

অন্যদিকে তার প্রধান প্রতিপক্ষ লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন ক্ষমতায় এলে ছয় মাসের মধ্যে নমনীয় একটি ব্রেক্সিট চুক্তি করতে গণভোট দেওয়া ছাড়াও নাগরিকদের জন্য আরও বেশি ব্যয়, প্রধান প্রধান সেবাগুলো জাতীয়করণ এবং ধনীদের ওপর আরও বেশি করারোপের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন।

advertisement