advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্যানাসিয়া হেলথ অ্যাপ পাইলটিংয়ের ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ২০:৪৫ | আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ২০:৪৫
জামালপুরে হয়েছে প্যানাসিয়া হেলথ অ্যাপ পাইলটিংয়ের ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প
advertisement

প্যানাসিয়া হেলথ অ্যাপ পাইলটিংয়ের উদ্যোগে জামালপুরের ঝাওলা গোপালপুর বাজারে ফ্রি চিকিৎসা সেবাদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করে প্যানাসিয়া হাই-টেক হেলথ সেন্টার।

অ্যাপের লক্ষ্য স্বাস্থ্যসেবার গতানুগতিক প্রক্রিয়া সহজ ও নির্মল করা। যোগাযোগের সব বাধা দূর করে চিকিৎসা সেবাকে সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় আনতে সক্ষম এই অ্যাপ। প্যানাসিয়া হেলথ অ্যাপ তৈরি ও এর উন্নয়নে কাজ করছেন একদল তরুণ প্রযুক্তিবিদ ও চিকিৎসক। এরই অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার ঝাওলা গোপালপুর বাজারে প্যানাসিয়া হাই-টেক হেলথ সেন্টারে ফ্রি চিকিৎসা সেবাদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানসম্মত ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।

অ্যাপের মাধ্যমে আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করে অটোমেটেড টোকেন ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে সিরিয়াল নেওয়া থেকে শুরু করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেজাল্ট সমন্বয় পর্যন্ত সব কিছুই প্যানাসিয়া হেলথ অ্যাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। রোগীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়। কিছু প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষাও বিনামূল্যে করা হয় সেখানে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টগণ এই কর্মসূচি পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার বিরল দৃষ্টান্ত এই হেলথ ক্যাম্প। শারীরিক অসুস্থতায় রোগ নির্ণয় ও পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাও দেওয়া হয় সেখানে। মা ও শিশুদের ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অপুষ্টিজনিত সমস্যায় পরামর্শ দেওয়া হয় প্যানাসিয়া হেলথ অ্যাপের সাহায্যে।

এর পাশাপাশি ওই ক্যাম্পে রোগীদের বিভিন্ন ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ছাড়ে সম্পন্ন করে ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ময়মনসিংহ। এতে করে রোগীদের মানসম্মত ল্যাব টেস্ট রেজাল্ট হাতে পায়। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে এই কর্মসূচি।

প্যানাসিয়া হেলথ অ্যাপ:

রোগির নাম, আইডি’র পাশাপাশি ‘প্যানাসিয়া হেলথ অ্যাপ’-এ যুক্ত রয়েছে ফেস রিকগনিশন টুল, যাতে ক্যামেরায় দেখেই চিনতে পারবে রোগীকে। ভেসে উঠবে রোগীর শারীরিক অবস্থার পুরোনো যাবতীয় তথ্য। কেবল বাংলাদেশই নয়, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের চিকিৎসকের জন্যই রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দেয়া সহজ হবে। এমনকি এই অ্যাপে মিলবে ওষুধের সঠিক মাত্রার গাইডলাইন। রয়েছে ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম। একটি মাত্র অ্যাপ থেকেই মিলবে মানসিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শসহ স্বাস্থ্য নিয়ে যাবতীয় সেবা। থাকছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের তথ্য নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার ব্যবস্থা।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে যুক্ত কোম্পানির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা জানান, প্যানাসিয়া হেলথ অ্যাপ এখন ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে। চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সর্বস্তরের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যা খুব শিগগির বিশ্ব বাজারে প্রবেশ করবে। দূর হবে যোগাযোগের বাধা। ঘরে বসেই দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ পেতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে এই আপ।

শরণার্থী সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোন বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় স্বাস্থ্যখাতে এই অ্যাপ সফল ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে ১০০ জনের বেশি রোগীর ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়। এর আগে, গত পহেলা ও ২২ নভেম্বর একই স্থানে হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল। প্যানাসিয়া হেলথ অ্যাপ ভবিষ্যতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসঙ্গী হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

advertisement