advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নাচে গানে জোছনায় মাখামাখি

মাহবুবুল আলম ও জসিম উদ্দিন, শুভসন্ধ্যা থেকে
১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:৩১
advertisement

বরগুনার প্রধান তিনটি নদী পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর যেখানে সাগরে মিশেছে ঠিক সেখানেই তালতলী উপজেলার স্নিগ্ধ বেলাভূমি ‘শুভসন্ধ্যা’ সমুদ্র সৈকত। একদিকে সীমাহীন সাগর, আরেকদিকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট টেংরাগিড়ি। সব মিলিয়ে নদ-নদী আর বন-বনানীর এক অপরূপ সমাহার। সেখানেই জলজোছনায় একাকার হয় অর্ধলাখ জোছনাবিলাসী। পূর্ণিমার আলোয় সমুদ্রতীরে নাচ-গান, পুঁথি পাঠ ও ফানুস উড়ানোসহ নানা আয়োজনে উল্লাসে মেতে উঠেন তারা। পঞ্চমবারের মতো গত বৃহস্পতিবার উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ এ জোছনা উৎসবের আয়োজন করে বরগুনা জেলা প্রশাসন।

বেলা ১১টায় বরগুনা নৌবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে জোছনা উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। পর্যটনশিল্পের অপার সম্ভাবনাময় বরগুনার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে প্রতিবছর এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। দুপুর আড়াইটায় শুভসন্ধ্যায় পৌঁছে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। এর পর উন্মুক্ত সৈকতে দলীয় নৃত্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ উৎসবকে ঘিরে ছিল দেশীয় খেলাধুলা, বাউল গান, পুঁথি পাঠ, পুতুল নাচ, জাদু প্রদর্শনী, যাত্রাপালা, হয়লা গান, রাখাইন নৃত্যসহ আনন্দযজ্ঞের নানা আয়োজন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে ফানুস উড়িয়ে এবং দ্বীপালী ভাসিয়ে উৎসবের সমাপনী ঘোষণা করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী।

স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল হাফিজের উদ্যোগে ২০১৫ সাল থেকে জেলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক অঙ্গনের একদল জোছনাপ্রেমী বরগুনার বিষখালী নদীর মোহনায় জোছনা উৎসবের সূচনা করে। এর পর থেকে প্রতিবছরই এ আয়োজন বসে। বাড়তে থাকে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও। ২০১৮ সাল থেকে বরগুনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উৎসবটি আরও বড় পরিসরে উদযাপন হচ্ছে। উৎসবটি উপলক্ষে শুভসন্ধ্যা সৈকতকে বর্ণাঢ্য সাজে সাজানো হয়। উৎসবস্থলকে ঘিরে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলার আমতলী ও পাথরঘাটা উপজেলা থেকেও একাধিক লঞ্চযোগে উৎসবে যোগ দেন কয়েক হাজার মানুষ।

advertisement