advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সওজের সড়ক চায় চবক

তাওহীদুল ইসলাম
১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:৩১
advertisement

বাংলাদেশের প্রবেশদ্বারখ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সমুদ্রপথে আমদানি-রপ্তানির ৯২ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয়। কিন্তু সঙ্কুচিত সড়কের কারণে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ফৌজদরহাট পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। দুই লেনবিশিষ্ট এ রাস্তা দিয়ে দিনে প্রায় সাত হাজার ট্রেইলার বা ট্রাক চলাচল করে। এর ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) রাস্তাটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চাইছে পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে। কিন্তু এ নিয়ে কেবল চিঠি চালাচালি হচ্ছে। সম্প্রসারণের অভাবে সড়কটি দিয়ে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ছে। কারণ পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল, কর্ণফুলী কনটেইনার টার্মিনাল এবং বে টার্মিনাল নির্মিত হলে চাপ বাড়বে আরও বেশি।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, সড়কটির মালিকানা সওজের। এটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) আওতায় এলে যাতায়াতব্যবস্থা আরও সহজ করা যেত। রাস্তা সম্প্রসারণ বা সংস্কারের মাধ্যমে বন্দরের মালামাল দ্রুত পরিবহনের ব্যবস্থা করা সম্ভব।

সওজের রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছিল শুধু বন্দরের ব্যবহারের জন্য। এ কারণে রাস্তাটি কাস্টমস বন্ডেড করা সম্ভব হচ্ছে না। চট্টগ্রাম বন্দরে নিউমুরিং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ, দ্বিতীয় নিউমুরিং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ ও পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। এ ছাড়া কর্ণফুলী কনটেইনার টার্মিনাল ও বে টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বে টার্মিনাল প্রকল্পটি অর্থনৈতিক সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পেয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের চাহিদা অনুযায়ী বন্দর থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত পোর্ট অ্যাকসেস রোডটি লেন বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে বে টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার পরিবহনের জন্য বন্দর থেকে বে টার্মিনাল পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার এলিভেটেড রাস্তা নির্মাণ করা যায়। এ উড়াল সড়কের নিচে ৪ লেনবিশিষ্ট একমুখী অন্তর্গামী রাস্তা এবং ওপরে থাকবে ৪ লেনবিশিষ্ট একমুখী বহির্গামী এলিভেটেড রাস্তা।

চট্টগ্রাম বন্দরে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৯ কোটি ৮২ লাখ ৪০ হাজার ৬৫৫ টন কার্গো এবং ২৯ লাখ ১৯ হাজার ২৩ টিইইউএস (টোয়েন্টি ইকুইভেলেন্ট ইউনিটস) কনটেইনার হ্যান্ডল করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে ধারণা করা হচ্ছে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২০২১ সালে ৩১.৭০ লাখ টিইইউএস, ২০৩১ সালে ৫৮.১৯ লাখ টিইইউএস ও ২০৪৩ সালে ৭৫.৯৭ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডল করা হবে। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে এ বন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বাড়ছে। এ বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের চাহিদা পূরণে নতুন নতুন ইয়ার্ড ও টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেমন বে টার্মিনালের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ১৫০০ মিটার দীর্ঘ মাল্টিপারপাস টার্মিনাল, ১২২৫ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার টার্মিনাল-১ এবং ৮৩০ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার টার্মিনাল-২ নির্মাণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে মোট জেটি থাকবে ১৩টি; দৈর্ঘ্য হবে ৩৫৫০ মিটার। এসব বাস্তবতা বিবেচনা করে চট্টগ্রাম পোর্ট অ্যাকসেস রোডটি হস্তান্তরের জন্য ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫ দফা চিঠি দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯ নভেম্বর, চলতি বছরের ১৬ মে ও ২৫ জুন। এর পর গত ৩০ অক্টোবর আরেকটি চিঠি পাঠানো হয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে।

advertisement