advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

লোহাগাড়ায় হাতি আতঙ্কে তিন ইউনিয়নের মানুষ

লোহাগাড়া প্রতিনিধি
১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:৫৩
advertisement

দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় হাতি আতঙ্কে বর্তমানে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে উপজেলার কলাউজান, চরম্বা ও চুনতি ইউনিয়নের পাহাড়বেষ্টিত এলাকার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪ দিনের ধারাবাহিক তা-বে কৃষক নুরুল আলম (৩৮) ও শাহাব উদ্দিন (৫৫) নামে এক পাহাদারসহ দুইজন নিহত এবং ২০টি বসতঘর ভাঙচুর করেছে হাতির দল। এ সময় বসতঘর ভাঙচুর, পাকা আমন ধান খেয়ে ও পাকা ধান নষ্ট করে অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি করে চলে যায় বন্যহাতির পাল।

এখন প্রতিদিন উপজেলার এ তিনটি ইউনিয়নের কোনো না কোনো এলাকায় প্রতিনিয়ত হানা দিচ্ছে হাতির দল। দল বেঁধে যখন-তখন লোকালয়ে হানা দেওয়ায় চরম আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছে ওইসব এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৯ নভেম্বর উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের পানত্রিশা এলাকায় পাকা আমন ধান খেতে এসে কাদায় আটকে যায় একটি হাতি। ফলে দলবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে হাতিটি। পায়ে গ্যাংগ্রিনে (পচনশীল ঘা) আক্রান্ত ছিল হাতিটি।

দুদিন পর ১০ নভেম্বর হাতিটি মারা যায়। ওই সময় হাতির দলটি কৃষকদের লাখ লাখ টাকার পাকা আমন ধান খেয়ে ও নষ্ট করে পুনরায় বনে চলে যায়।

পদুয়া বন রেঞ্জের ডলু বনবিট কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, লোকালয়ে প্রবেশ করে ডলু বিটের আওতাধীন সুফল প্রকল্প নামে একটি নার্সারির ৯-১০ হাজার গাছের চারা নষ্ট করে ফেলে। তবে, আলো জ্বালিয়ে ও ফটকা ফাটিয়ে হাতিগুলো তাড়িয়ে দেওয়ায় কেউ হাতাহত হয়নি।

চুনতি পানত্রিশার স্থানীয় কৃষক আবদুর রশিদ জানান, হাতির পাল দিনের বেলায় পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিলেও সন্ধ্যার পর দলবেঁধে চলে আসে ধানক্ষেতে। এলাকায় বন্যহাতির পাল প্রতিরাতেই লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। ধানক্ষেতে ঢোকার আগে স্থানীয় কৃষকরা আলো জ্বালিয়ে, ফটকা ফাটিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

চুনতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জনু বলেন, ভয় দেখিয়ে তাদের বনে ফেরত পাঠানোর জন্য এলাকাবাসীকে সচেতন করা হয়েছে। বন বিভাগ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে ফরম পাঠিয়েছে এবং আমরা সেভাবে কাজ করছি।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মনজুরুল আলম জানান, আমরা বিষয়টি নিয়ে অবগত আছি। সত্যি কথা বলতে ক্ষেতে ধান পাকলে ফসলি জমিতে পাহাড়ি হাতির আনাগোনা বেড়ে যায়। হাতিরা যে পরিমাণ ফসলের ক্ষতি করবে তা নির্ধারণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সরকারি বিধান আছে।

advertisement