advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতে আরও উদ্যোগী হতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ২১:৫৫ | আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ২১:৫৫
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথক্‌করণের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় কথা বলছেন বিশিষ্টজনেরা। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতে আরও উদ্যোগী হতে হবে। এ স্বাধীনতা নিশ্চিতে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে একটি সচিবালয় স্থাপন করা উচিত। বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন বা নীতিমালা অনতিবিলম্বে প্রণয়ন করতে হবে। বিচারকদের শাসনকাজে অন্তর্ভুক্ত করাও সমীচীন নয়।

আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথক্‌করণের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনায় এসব কথা বলেন বিশিষ্টজনেরা। এ আলোচনা সভাটি আয়োজন হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন।

আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান।

আলোচনা সভায় বিচারপতি মো. আবদুল মতিন বলেন, ‘ন্যায়বিচার মানে মনিবের আনুগত্য নয়, বরং আইনের আনুগত্য। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বার এবং বেঞ্চের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা করা প্রয়োজন। আমাদের চরিত্রে ও অনুভূতিতে স্বাধীনতার বোধ থাকা প্রয়োজন। তাহলেই সত্যিকারে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আসবে।’

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘বিচার বিভাগ সরাসরি নিয়োগ থেকে শুরু করে অপসারণ করার মতো ক্ষমতা রাখেন। স্বাধীনতার পর থেকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে অর্জন কম নয়। তবে এই অর্জন যতটা চাই, ততটা হয়নি। অর্জন হয়নি বলে কথা বলতে হবে। ন্যায়বিচার দৃশ্যমান হওয়া উচিত। সুপ্রিম কোর্টের অধীনে একটি সচিবালয় স্থাপন করা উচিত, যাতে ‘‘ওভারলেপিং’’ না হয়। ’

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সহসভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যার মাধ্যমে নিরপেক্ষ, নির্ভরযোগ্য ও আস্থাশীল বিচার পাওয়া যাবে। বিচারকার্য পছন্দ হলে বিচারব্যবস্থা স্বাধীন আর বিচার অপছন্দ হলে বিচারব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ নয়-এটা কিন্তু শোভনীয় না। ’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন বলেন, ‘গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক মুক্তি, আইনের শাসন; সবকিছুর মূল জায়গা শক্তিশালী বিচার বিভাগ। যে দলই বিরোধী দলে থাকে, সে দল বিচারক নিয়োগের নীতিমালার কথা বলে। কিন্তু বিভিন্ন সরকার থেকে বিধিনিষেধ হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত আমাদের বিচারক নিয়োগের কোনো আইন ও বিধিমালা নেই। শুনে আশ্চর্য হবেন। বিচারক নিয়োগের আইন বা নীতিমালা অনতিবিলম্বে করতে হবে।’

মিজানুর রহমান খান তার প্রবন্ধে বলেন, ‘বিচার বিভাগ পৃথককরণে আমাদের পলায়নপরতার অবসান ঘটুক। মাসদার হোসেন মামলার অর্জনকে পাথেয় করেই আমাদের পথ চলতে হবে। কিন্তু অধস্তন আদালতের পুরো একটি চ্যাপ্টার সাংবিধানিকভাবে কোমায় আছে কি না, সেটা একটা বড় জিজ্ঞাসা। এমনও হতে পারে, হয়তো অলক্ষ্যে এভাবে পড়ে আছে। কিন্তু এভাবে থাকাটা সমীচীন নয়।’

২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করা হয়। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ‘মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে’ এই পৃথক্‌করণ করা হয়।

আলোচনায় সাবেক জেলা জজ মাসদার হোসেন বলেন, ‘বিচারপতিদের মৌলিক অধিকার তখনই হবে, যখন একটা পৃথক বিচার বিভাগে এ দেশে গড়ে উঠবে, যে বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কারও চোখ রাঙানো দ্বারা আক্রান্ত হবে না।’

সভাপতির বক্তব্যে আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, ‘উন্নয়নের জন্য বেশি নিবেদিত—এতটা প্রয়োজন আছে কি না, তা প্রশ্নের দাবি রাখে। উন্নয়নে শরণার্থী যেন আমরা না হয়ে যাই, সেদিকে লক্ষ রাখা বাঞ্ছনীয়। সামনের সময়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সুফল সমাজের সবাই সমানভাবে ভোগ করতে পারবে, এ বিষয়ে আমরা আশাবাদী।’

advertisement