advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

খন্দকার মোস্তাকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত লোক ছিলেন জিয়া : প্রধানমন্ত্রী

বাসস
১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ২২:১৪ | আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:৪১
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : ফোকাস বাংলা
advertisement

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার অভিযোগ পূর্ণব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘খন্দকার মোস্তাকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত লোক ছিলেন জিয়া।’

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই আলোচনা সভার আয়োজন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়া মোস্তাকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত লোক ছিলেন বলেই তিনি তাকে সেনা প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। যদি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়া জড়িত না-ই থাকবেন, তবে খন্দকার মোস্তাক তাকে কেন সেনাপ্রধান বানিয়েছিলেন?’

তিনি বলেন, ‘দেশবাসীকে মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশের মাটিতে মীর জাফর ও খন্দকার মোস্তাকের মতো বিশ্বাসঘাতকরা জন্মেছিলেন এবং যুগে যুগে “খুনী জিয়ার” মতো মানুষ আসতেই থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাই যুবসমাজসহ বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম দায়িত্ব নিতে হবে এবং কেউ যেন মানুষের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে।’

শেখ হাসিনা ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষকে মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ উল্লেখ করে বলেন, ‘তৎকালীন খাদ্য সচিব আব্দুল মোমেন ছিলেন এ দুর্ভিক্ষের মূলহোতা।’ ‘আব্দুল মোমেনকে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য করা হয়’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে এ ধরনের আরও অনেক ষড়যন্ত্র করা হয়। এর কারণ ছিল বাংলাদেশকে আবারো পাকিস্তানের একটি প্রদেশে পরিণত করা।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পর হত্যাকারীরা বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ইসলামিক প্রজাতন্ত্র রাখে। কিন্তু জনগণ এটি গ্রহণ না করায় তারা তা ধরে রাখতে পারেনি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এক্ষেত্রে গবেষণা করা হলে আরও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে। ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞ একটি নিছক হত্যাকাণ্ড ছিল না। আমাদের বিজয় নস্যাৎ ও দেশকে ধ্বংস করার জন্য এটা করা হয়েছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জনপ্রতিনিধিদের হত্যা, থানা লুট ও পাটের গুদামে আগুন দেওয়ার মতো বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানো হয়।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘সে সময় কিছু লোক তাদের লেখালেখির মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করেন। কিন্তু আমি সন্দীহান যে তারা সদ্য স্বাধীন দেশের নাজুক পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন কি না। আমার মনে হয়, তারা এটি উপলব্ধি করতে পারেনি, না হয় কোনো না কোনোভাবে তাদের অন্য কোথাও যোগ ছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়াউর রহমান অনেক হত্যাকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত ছিলেন। জিয়ার সামরিক শাসনের আমলে একটার পর একটা অভ্যুত্থান হয় এবং এসব অভ্যুত্থানে অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা সামরিক অফিসারকে হত্যা করা হয়। এসব সামরিক কর্মকর্তারা জানতেনই না তাদের অপরাধ কি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সে সময় ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলা হয় এবং জনগণকে ভুল পথে চালিত করতে একটি মিথ্যা ইতিহাস রচনা করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু কেউ সত্যকে চিরতরে মুছে ফেলতে পারে না, এটি এখন পুরো বিশ্বসহ বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রমাণিত হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে শহীদ আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ, ঢাকা উত্তর নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফীও বক্তব্য দেন।

advertisement