advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে মির্জা ফখরুলে হুঁশিয়ারি  

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৩:৪১ | আপডেট: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:৩৯
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পুরোনো ছবি
advertisement

অবিলম্বে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন না দিলে সরকারকে জনগনের মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রোববার বিকালে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই হুঁশিয়ারি দেন।

সরকার প্রধানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব পরিস্কার করে বলতে চাই, সময় নেই। অবিলম্বে এই পার্লামেন্ট বাতিল করুন, এই পার্লামেন্ট বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সেই কেয়ারটেকার সরকার যেটা আগে ছিলো, সেই কেয়ারটেকার সরকার গঠন করে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবিলম্বে নির্বাচন দিন। অথবা জনগনের যে ভাষা আছে সেটাকে শিখে নিয়ে জনগনের আন্দোলনকে আপনাকে ফেইস করতে হবে। তখন আর আপনি কোনো সময় পাবেন না।’

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রোববার রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে এই আলোচনা সভা হয়। মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, শিরিন সুলতানা, আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

দেশের বুদ্ধিজীবীদের প্রতি অনুরোধ রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের। আমি আজকে বাংলাদেশের প্রতিটি বুদ্ধিজীবীদের কাছে আহ্বান জানাতে চাই- উঠে দাঁড়ান আপনাদের পূর্বসূরীদের মতো, জেগে উঠুন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, বাংলাদেশের মুক্তিকে রক্ষা করবার জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসুন। আমরা অবশ্যই সফল হবো।’

‘বিভ্রান্তি’ সৃষ্টি করতে বিএনপির মধ্যে ‘সরকারের এজেন্ট ঢুকে পড়েছে’ মন্তব্য করে নেতা-কর্মীদের সরকার পতন আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বানও জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে এই অবৈধ সরকারের বিভিন্ন এজেন্ট ঢুকে পড়েছে, ঢুকে বিভিন্নভাবে আমাদের মধ্যে বিভেদ-পার্থক্য সৃষ্টি করতে চায়, বিভিন্ন রকম কথা বলে আমাদেরকে বিভ্রান্ত করতে চায়। আমি বলতে চাই, কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। আমরা সবাই ঠিক আছি। শুধু তৃণমূল না, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী রাজনীতি যারা বিশ্বাস করে সকল দেশপ্রেমিক এক আছে। আমাদের দরকার শুধু শক্তি সঞ্চয় করে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় আমাদেরকে আঘাত করতে হবে। সেই আঘাতের জন্য আমরা প্রস্তুত হচ্ছি।’

প্রধান অতিথি বক্তব্যে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজকে আমরা বেদনার সঙ্গে বলতে চাই- যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো, সেই মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা আজকে বাংলাদেশে সম্পূর্ণভাবে ভুলণ্ঠিত। মূল চেতনা ছিলো গণতন্ত্র। আমরা জানি- সকলে ভুক্তভোগী। আজকে গণতন্ত্র আওয়ামী লীগের বাক্সে বন্দি। এই আওয়ামী লীগ এই প্রথমবারই গণতন্ত্রকে হত্যা করেনি, বন্ধ করেনি, এই আওয়ামী লীগ ৭৫ সালে একদলীয় শাসন ঘোষণা করে সকল দল নিষিদ্ধ করে; চারটি পত্রিকার ছাড়া সকল পত্রিকা বন্ধ করে এদেশে গণতন্ত্র হত্যা করেছিলো।’

তিনি বলেন, ‘একাত্তর সালে সেই বুদ্ধিজীবীরা প্রাণ দিয়ে আমাদের দেশকে মুক্ত করেছিলেন আজকে যে বাংলাদেশ এই বাংলাদেশ দেখার জন্য নয়। মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রাণ দিয়েছিলেন এই বাংলাদেশ দেখার জন্য নয়। আজকে মানুষের অধিকার নাই, ভোট দেয়ার অধিকার নাই, জনগন অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন নয়। দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। দেশে আইন নেই, আইনের শাসন নেই, বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে দলীয়করণের কারণে। রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে সরকার ধবংস করে দিয়েছে।”

advertisement