advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

উদযাপনের সঙ্গে দায়িত্বের কথাও মনে রাখতে হবে : বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা

১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০৯
advertisement

আজ বিজয় দিবস। প্রতিবছরের মতো আনন্দ-বিষাদের বার্তা নিয়ে দিনটি আসে। একদিন আগে আমরা বিষাদময় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করি এবং আজ মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উদযাপন করি। বর্তমানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের ধারায় এগিয়ে চলেছে। দেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগে অর্জিত আমাদের এই দেশ কাক্সিক্ষত পথে এগিয়ে গেলে শহীদদের প্রতি যথাযথ সম্মান জানানো হবে। অনেক উত্থান-পতন, ঘটনা-দুর্ঘটনার এবং বাঁকবদলের মধ্য দিয়ে জাতি এই জায়গায় এসে পৌঁছেছে। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সুবাদে তাকে অভিনন্দন।

তবে বাংলাদেশের সামনে এখনো চ্যালেঞ্জ অনেক। আমাদের যে অগ্রগতি তার ভিত্তি দুর্বল এবং সর্বক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সঠিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। এখনো দুর্নীতি, বেকারত্ব চরম পর্যায়ে রয়েছে। তা ছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে যে অগ্রগতি তা প্রধানত পরিমাণগত। কিন্তু বর্তমানে অগ্রাধিকার দিতে হবে গুণগত মানের দিকে। সে ক্ষেত্রে আমাদের দুর্বলতা নানাভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। জাতিসংঘ এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা পিছিয়ে থাকব। সেই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে না পারলে সত্যিকারের মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া পিছিয়ে যাবে। এটি পূরণে আমরা কিন্তু প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজকের বিজয় দিবসের এই দিনে সরকার এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রত্যাশা হলো প্রচার ও দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাস্তবোচিত পদক্ষেপ গ্রহণ। নয়তো শহীদের রক্তের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

আমরা লক্ষ করছি, সরকার দৃশ্যমান কিছু উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিভোর আছে। সরকারের ব্যয়ও দিন দিন বাড়ছে, ব্যাংক খাত থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থা চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। সুশাসন নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে। দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চললেও প্রশাসনিক কাজে আন্তরিকতা ও দক্ষতার প্রমাণ মিলছে না। স্বাধীনতার এত বছর পরও আমাদের গণতন্ত্রকে সংহত করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার যথোপযুক্ত বিকাশ ঘটেনি। জনগণের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিজয় দিবসের আনন্দের মধ্যে আমাদের এই কথা বলতে হচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে। আমরা আশা করব প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন এবং লক্ষ্য স্মরণ করে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার সব রকমের ব্যবস্থা নেবেন। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক চেতনায় সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলবেন। বিজয় দিবসে এটাই আমাদের কামনা।

advertisement
Evall
advertisement